My Attitude!

My Attitude!

Pages

My Blog List

Meet and Recognise-- I, Me and MySelf...!

@@@ ~WELCOME TO MY CYBER WORLD~ @@@











~~~ I am My Own Music, People Want to Get in Touch With Me... Play Your Lyrics By My Rhythm ~~~



Tuesday, April 21, 2015

আমার কলেজ- হোস্টেল জীবনের সেই সব উদ্দাম দিন

তখন ২০০৪-২০০৫ সাল ।
উচ্চ মাধ্যমিকে জেলাস্তরে প্রথম দশের মধ্যে স্ট্যান্ড করার পরে মফস্বল জীবনের ইতি , হুস করে চকচকে শহর কলকাতায় পড়তে আসা । অনেক কলেজে অ্যাডমিশন টেস্ট শেষে সরকারি পশ কলেজ - 'মৌলানা আজাদ কলেজ' এ ইংরেজী অনার্স নিয়ে ভর্তি হলাম। কিন্তু থাকার জায়গার বেশ অভাব অনুভূত হল, বিশেষত অচেনা শহরে একা এক মেয়ের জন্য ।
শেষে, উচ্চ মাধ্যমিকের নাম্বার দেখে মেরিট লিস্ট অনুযায়ী পার্ক সার্কাসে 'মুসলিম গার্লস হোস্টেল' নামে ওয়াকফ বোর্ডের আয়ত্তাধীন শুধুমাত্র মুসলিম মেয়েদের জন্য ২০০ জনের নিরাপদ বাসস্থান একটি হোস্টেলে তিন বছরের জন্য থাকা-খাওয়ার আশ্রয় জুটল । বাবা-মা হাঁপ ছেড়ে বাঁচল । আমিও ।
কলেজ জীবনটা কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরেই আমার কাছে আকর্ষণীয় ছিল বরাবর । কারন ওই কলেজ ছিল বোরখা-ঢাকা , হিন্দীভাষীদের মুক্তাঞ্চল আর নয়তো পশ 'ক্যালকেশিয়ান'দের (মানে যারা 'আমি লোরেটো'র জিনিয়াস / 'আমি এ.জি.চার্চের ব্রাইট ব্রেইন!' এরম কথাবার্তাকেই 'কালচার' ভাবত ) নাক উঁচু আঁতলামি দেখানোর জায়গা ।
আমার মত মফস্বলীয়ানদের সেটা ভালো না লাগার অনেক কারণ ছিল ।
ভালো লাগার জায়গা ছিল আমার হোস্টেলটা ।
সত্যি, জীবনে যে একবারও হোস্টেলে থাকেনি তার জীবনের ১২ আনাই মাটি ! নিজেকে এক্সপ্লোর করার শ্রেষ্ঠ স্থান হল হোস্টেল জীবন । কত শত সুপ্ত প্রতিভা যে বিকশিত হয় এই জীবনে , তা যে যাপন করেনি এই জীবন, সে জানবেই না সারাজীবনেও ।
আমাদের হোস্টেল জীবনের অনেক অ্যাডভেঞ্চার করেছিলাম । সেরমই একটা ঘটনা নিয়ে আজকের লেখা ।
বয়স তখন ১৯-২০ । সাল ২০০৫ । অনার্সের পার্ট ১ পরীক্ষা হয়ে গেছে ।
এই সময় আমাদের হোস্টেলের অ্যানুয়াল ফাংসান হয় প্রতিবছর । সেবারেও এই উদ্দেশ্যে আমরা মোট ২০০ জন ১০০/- টাকা করে চাঁদা দিয়েছিলাম । কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারনে আমাদের হোস্টেল সুপার ঘোষনা দিলেন 'এ বছর আর ফাংসান হবে না ।'
কি ব্যাপার ?
-- "কোন কারন,তা ঠিক জানা নেই, ওটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত ।"
[ ওয়াকফ বোর্ড হল পশ্চিমবঙ্গ সরকার পোষিত একটি ট্রাস্টি বোর্ড , যা এরাজ্যে বেশিরভাগ মুসলিম এস্টেটগুলোর একছত্র মালিক , প্রচুর অনুদান আসে এই বোর্ডে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে গরীব-পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগণের মানোন্নয়নের জন্য , এবং বলাইবাহুল্য সেই টাকা পেটে ঢোকে বোর্ডের মুসলিম মেম্বারদের, মানে টাকার কুমিরদের ।]
তো যাই হোক, আমরা দাবি তুললাম , সেই টাকা তাহলে আমাদের ফেরত দেওয়া হোক , যখন অনুষ্ঠানটাই হবে না ।
সুপার বললেন - 'না । টাকা ফেরত হবে না ।'
আমাদের হোস্টেলের দুজন প্রধান অথারিটি ছিলেন - ১) সুপার , ২) মেট্রন ।
সুপার হতে গেলে সেই মহিলাকে যেকোনো কলেজের প্রফেসর হতে হত ।
অন্তত পক্ষে ২ বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা থাকতে হত ।
যে ঘরে সুপার থাকবেন সেখানে তার মেয়ে ছাড়া অন্যকোনো পুরুষ ফ্যামিলি মেম্বার নিষিদ্ধ ছিল ।
তাঁকে মেস কমিটির অর্থাৎ যারা সারামাস মেস (ছাত্রীদের ঠিকঠাক খাওয়ার দ্বায়িত্বপালন - খরচের হিসেব- মেনু-তদারকি ইত্যাদি) চালাবে তার সুপারভাইজ করতে হত টাকা পয়সা ইত্যাদি টোটাল কালেকশন থেকে দিয়ে ।
আমরা বোর্ডাররা মাসে একটা Amount টাকা গচ্ছিত রাখতাম থাকা-খাওয়া বাবদ । সেই টাকা সুপার বের করে মেস কমিটির হাতে দেবেন ঠিকমত মেস চালাবার জন্য ।
হোস্টেলের খাবার কেমন - তা যারা থেকেছে তারা জানে ।
ডালের পরিমান বাড়ানোর জন্য ভাতের মাড় মেশানো ,
বা, মাছের টুকরো বাড়ানোর জন্য ব্লেড দিয়ে ৪ কেজি মাছের ১৫০ টা পিস বের করা ,
বা, সব্জিতে সবুজ কিছু নেই শুধুই আলু এবং
ভাতে সাদার চেয়ে কালো কাঁকড়ের চেহারা বেশি দেখা যাওয়াই স্বাভাবিক --এই হল হোস্টেলের রোজকার মেনু ।
সাথে ফ্রীতে থাকত, রান্নার চাচীদের গালিগালাজ , ওদের মুখে কিছুই বাঁধত না ।
আমাদেরই টাকায় খেয়ে ফুলে ঢোল চেহারা তাদের । আমাদের তিনজনের খাবার ওরা এক একজন খেত ! এই নিয়ে অভিযোগের শেষ ছিল না ।
আমরা এই নিয়ে চেঁচাতাম , থালা ছুঁড়ে মারতাম , খিদের চোটে লাইনে দাঁড়িয়ে বাটি বাজাতাম !
মোট কথা, আমরা এসব নিয়েই বেশ খুশিতেই থাকতাম ।
বাধ সাধল সুপারের ওই ঘোষনা ।
অনেক অবেদন নিবেদন করেও যখন কাজ হল না , তখন কয়েকজনের পরামর্শে আমি এক রাতে সুপারের অফিসের মাথায় একটা নোটিস টাঙ্গিয়ে এলাম যাতে লেখা ছিল --
'হোস্টেলের সবার পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে অবিলম্বে আমাদের টাকা ফেরত দিন , নইলে আমরা বোর্ডের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হব ।'
প্রসঙ্গত জানাই , অ্যাপ্লিকেশন লেখা বা যে কোনো ফরম্যাল চিঠি চাপাটি লেখাতে আমার ডাক পড়ত , সেই ছোট থেকেই এক কেস !
তো সকালে এই নোটিস পড়ে সুপার খচে বোম !
বেছে বেছে আমাদের ক'জনের লোকাল গার্ডিয়ানদের ফোন করে বললেন, ''আপনার মেয়ের নামে চার্জশীট তৈরী হচ্ছে । ওদের নামে অনেক অভিযোগ । আসুন , কথা বলুন । ওদের শিঘ্রই হোস্টেল থেকে তাড়ানো হবে ।"
খুব স্বাভাবিক ভাবেই আমার বাবা খেপে গেলেন । অন্য অনেকের অভিভাবকরা চিন্তিত হলেন ।
সবাই এক কথা -- "টাকা কি কম পড়েছে ? মাত্র ১০০ টাকার জন্য আন্দোলন ? লিখিতভাবে সুপারের কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও , উনি ঠিক মেনে নেবেন ।"
এবারে আমাদের মাথা গরম হল ।
আমরা দলে ছিলাম ৫-৭ জন । যাদের নামে চার্জশীট ইত্যাদি । আমার নাম সবার উপরে ।
বাড়িতে জানালাম , "কিছুতেই আমরা সুপারের অন্যায় দাবীর কাছে মাথা নোয়াবো না । তাতে যা হয় হবে । "
--- "তাহলে বাড়ি আসবে না । নিজের ব্যবস্থা নিজেই করবে ।" বাবা বলে দিলেন , ফোন কেটে গেল ।
খোঁজ নিতে শুরু করলাম , সুপারের এই ঔদ্ধত্বের জবাব দেব কিভাবে ?
বন্ধুরা খোঁজ নিয়ে জানল , সুপারের ভ্যালিডিটি শেষ হয়েছে একমাস আগেই । এবার নতুন সুপার আসার কথা । কিন্তু তিনি পদ আটকে বসে আছেন , ক্ষমতা ও থাকা-খাওয়ার সুবিধের লোভে , যা নিয়ম বিরুদ্ধ ।
আরো জানা গেল , ওনার সাথে ওনার স্বামীও একই হোস্টেল ঘরে থাকেন , যা নিয়ম বিরুদ্ধ ।
পাশাপাশি আরো খোঁজ পাওয়া গেল উনি কোনো কলেজের প্রফেসরই নন, সামান্য এক প্রাইভেট প্রাইমারি স্কুলের টেম্পোরারি টিচার, যা নিয়ম বিরুদ্ধ !
এই করে করে আমরা গোপনে অনেক তথ্য সংগ্রহ করলাম যা সুপারের বিরুদ্ধে যায় ।
এবার,
আমাদের একমাত্র দাবী হয়ে উঠল -- " টাকা নয় । এই কোরাপ্ট সুপারের অপসারণ চাই । নতুন সুপারের নিয়োগ চাই ।"
মে মাস এসে গেল , চাঁদি ফাটা গরমে এক সোমবার সকালে আমরা ৮ জনের দল গেলাম কলকাতার ওয়াকফ বোর্ডের মেইন অফিসে । সেখানে চেয়ারম্যান দেখা করলেন না । বেয়ারা মারফত জানলাম চার্জশীটের ব্যাপার ওনারা কিছু জানেন না । একরকম কুকুরের খেঁদানোর মত তাড়িয়ে দেওয়া হল আমাদের ।
পরের দিন , আমরা ঠিক করলাম ওয়াকফ বোর্ড না , এবার আমাদের গন্তব্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রীর চেম্বার অর্থাৎ মহাকরণ ( Writers Building ) অভিযান । যেমন কথা তেমন কাজ ।
পরের দিন গেলাম মহাকরণ । লাল বাড়ির গেটের সিকিউরিটিরা একসাথে ১০ জন মেয়ে দেখে বেশ ঘাবড়ে গেলেন ।
তিন চার জন এসে বললেন, 'এভাবে সবাইকে তো ঢুকতে দেওয়া হবে না । পারমিশন নিয়ে আসুন । ৩ জনকে Allow করতে পারি ।'
আমাদের এক বন্ধুর মামা রাইটার্সে আমলা ছিলেন । পারমিশন এসে গেল । আমি , একজন উর্দুভাষী দিদি ও আরো একজন বন্ধু মিলে গেলাম মন্ত্রী রাজ্জাক মোল্লার সাথে দেখা করতে, কিন্তু উনি না থাকায় আনিসুর রহমানের চেম্বারে গেলাম। উনার অফিসের এক আমলা পই পই করে বারণ করলেন মিডিয়াকে কিছু জানাবে না কিন্তু !
আমরা অভিযোগ যথাযম্ভব বিস্তারিতভাবে বলে গেলাম ও ওয়াকফ বোর্ডের অন্যায় ব্যবহারও বাদ দিলাম না ।
উনি বললেন - ''ঠিক আছে , দেখছি ।''
বুঝে গেলাম ,এভাবে কাজ হবে না ।
এরপর শুরু হল, মিডিয়ার সাথে অ্যাপো !
সুরেন্দ্রনাথ কলেজের কিছু টিচারের আত্মীয় ছিলেন সাংবাদিক । অনুনয় বিনয় করে তাদের কাছে বার্তা পৌঁছালো আমার কিছু বন্ধু।
এদিকে আমি কলেজের পথে দেখতাম পার্ক স্ট্রীটে 'স্টার আনন্দে'র ট্যাবলো আর ওবি ভ্যান দাঁড়ানো ।
একদিন সটান গিয়ে ওদের চ্যানেলে সব জানালাম ।
এই করে 'আজকাল' ,'সংবাদ প্রতিদিন', 'বর্তমান', 'টেলিগ্রাফ' , 'টাইমস' ও সব শেষে 'আনন্দবাজার' জানল । মিডিয়া লুফে নিল পুরো ব্যাপারটা আর মেয়েদের এই লড়াকু অবস্থানকে পুরো সমর্থন দিয়ে পাশে দাঁড়াবার আশ্বাস দিল ।
আমরা নেক্সট অ্যাজেন্ডা স্থির করতে শুরু করলাম । না, কোনো অভিজ্ঞতা , অভিজ্ঞ মাথা আমাদের ছিল না । বিনা গাইডলাইনেই চলছিলাম আমরা । উদ্দেশ্য পরিস্কার ছিল , আর ছিল বুক ভরা সাহস।
যদি হোস্টেল থেকে তাড়িয়ে দেয় ,বাবাও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়, কোথায় যাব ?কিভাবে পড়ব ? আর কেনই বা ছাড়ব মেরিট বেসিসে পাওয়া হোস্টেল ? -- এই চিন্তায় সবাই মরছি ।
তখন মন্ত্রী, আমলা, নেতা , মাথা কাউকেই ডরাই না , এমন মনোভাব ।
পরের দিন, এক সিনিয়র বল্লেন, এভাবে হবে না । আমাদের ডেডলাইন দিতে হবে সরকারপক্ষকে । বোর্ডের কাছে লিখিত দেওয়া হোক , এক কপি মহাকরণেও পাঠানো হোক । আমাদের দাবি না মানলে শুরু হবে অবস্থান বিক্ষোভ , তাতেও না হলে অনশন করব ।
যেই কথা সেই কাজ ।
পরের দিন আবার বোর্ড , এবারে লিখিত দাবি । তাই ফেরাতে পারল না ওরা । শুনল এবং চলে যেতে বলল । বেরিয়ে এসেই মহাকরণ । মন্ত্রী তখন দিল্লীতে । সুতরাং আবার অপেক্ষা ও এবার খোদ শিক্ষা মন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ । আমলারা বুঝল ব্যাপার গুরুতর । মুখ্যমন্ত্রীর চেম্বারের যাওয়ার আগেই অন্যরা থামিয়ে দিয়ে সব লিখিত আবেদন জমা নিলেন ও আমরা বেরোবার আগে বলে গেলাম ---
"৭ দিন সময় । এর মধ্যে যদি কাজ না হয় , অনশনে বসব ।"
একই মেসেজ ওয়াকফের কাছেও গেল । ওদের সামনে বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ এল । বুঝল, মহাকরণ অবধি যখন এই কাণ্ড গেছে , তখন মিডিয়া নিশ্চয় জেনে গেছে এবং তাদের সাপোর্টও নিশ্চয় আমাদের আছে। ফলত ১০০ টাকার সামান্য সমস্যা, যেটা দিয়ে শুরু হল কাণ্ড , সেটা থেকে এবারে ওয়াকফের কোটি টাকার ঘাপলা ধরা পড়ে যাবে ।
এ যেন কেঁচো খুড়তে কেউটে !
ওয়াকফ বোর্ড প্রমাদ গুনল । বলল-- " না, তোমাদের কারুর নামে কোনো অভিযোগ আমাদের নেই । কোনো চার্জশীট তৈরী হচ্ছে না , হবেও না । তোমরা এইসব না করে মন দিয়ে পড়াশুনা কর।"
অনেক বুঝিয়েও যখন আমাদের একগুঁয়ে মনোভাব থেকে নড়াতে পারল না, তখন হাল ছেড়ে দিল ।
আমরা সোম থেকে শনিবার অবধি টাইম বেঁধে দিলাম । যা মিটিং করার করুন । সুপারের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমান আছে । ওকে না সরালে হোস্টেল অচল থাকবে অনির্দিষ্ট কাল।
আমাদের সহপাঠিরা , হোস্টেলমেটরা অনেকেই ভয় পেয়ে , আমাদের গালি দিয়ে হোস্টেল থেকে কিছুদিনের লীভ নিয়ে বাড়ি চলে গেল । ঝামেলা মিটলে ফিরবে এই বাসনায় ।
আমরা থোড়াই কেয়ার করি !
এই একসপ্তাহে আমরা আঁকতে শুরু করলাম নানান কার্টুন , প্ল্যাকার্ড , স্লোগান , পোস্টার এবং আরো নানা কিছু ... হ্যাঁ আঁকার দ্বায়িত্বে আমিই ছিলাম , স্লোগান বাঁধতেও সেই আমি ও আমার রুমমেট !
না, কোনো কাজ হল না । বোর্ড থেকে লোক এসে চলে গেল কিন্তু সুরাহা হল না । সুপার আসা-যাওয়া করতেই থাকলেন, সাথে চলল হুমকি । রাস্তায় ছেলে ফিট করার কথাও শুনতে পেলাম । ভয় যে পাইনি , এমন নয় । কিন্তু এতোটা এগিয়ে কিছুতেই পিছু হঠা যায় না ।
শনিবার রাতে হোস্টেলে মিটিং হল । যারা থাকতে চায় না আন্দোলনে তাদের চলে যেতে বলা হল , এবং সকালে প্রতি রুমে তালা মারার ব্যবস্থা হল ।
এসে গেল রবিবার । আমাদের ডেড-এন্ড ।
সকাল ৬ টায় পোস্টার - প্ল্যাকার্ড - কার্টুন ইত্যাদি হোস্টেল গেটের বাইরের দেওয়ালে আটকে শুরু হল ৩৫ জনের অবস্থান ।
স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হল দীলখুশা স্ট্রিটের চৌরাস্তা , গলি ।
মিডিয়া আসতে শুরু করল বেলা গড়াতেই । সুপার ভয়ে পেছনের গেট দিয়ে পালিয়ে গেল । খবর গেল বোর্ডে , রাইটার্সেও ।
অবস্থান তখন অনশনের পথে ।
বেলা গড়াতেই আমাদের বন্ধুরা একে একে অসুস্থ হতে লাগল । ওদের নিয়ে যাওয়া হল নিকটবর্তী 'ইসলামিয়া হসপিটালে' ।
ভালো ছিলাম না আমরা কেউই ।
এরমধ্যে দুজন মিলে লিফলেট জেরক্স করে হ্যান্ডবিল আকারে রাস্তায় বিলোতে শুরু করেছি ।
ভীড় বাড়ছিল । একগাড়ি পুলিশ না জানি কি করে বা কেন এসে উপস্থিত ! না, টিয়ার গ্যাসের দরকার পড়ে নি ।
দুপুর গড়াতেই একে একে চার গাড়ি আমলা , মন্ত্রী এবং বোর্ড মেম্বাররা এসে উপস্থিত হল ।
সব শুনলেন আবার । 'অন-স্পট অ্যাকশনের' দাবীতে আবারো মুখরিত হল হোস্টেল চত্ত্বর ।
ডিজিটাল মিডীয়া ততক্ষনে আমাদের আঁকা কার্টুন আর পোস্টার সব টিভীতে দেখাচ্ছে 'লাইভ ' !

দিকে আমাদের শরীর সত্যি আর দিচ্ছিলো না ।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামতেই সুপার যেই ফিরলেন, তক্ষুনী তার ঘর সীল করে নোটিশ ধরিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হল । তার সাথে আমাদের দাবী মত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজও শুরু হচ্ছে বলে জানিয়ে দেওয়া হল । অফিসারেরা রাতে গাড়িতে চড়ে বিদায় নিলেন ।
আমরা জল -বিস্কুট খেয়ে পার্টি দিলাম ! ঘুমিয়েই পড়লাম ধরতে গেলে ।
সেদিনের পরেও দীর্ঘদিন মিডিয়ার নানা বন্ধুরা যোগাযোগ রেখেছিলেন আমার সাথে , আমার বন্ধুদের সাথেও ।
এই একটা ঘটনা আমাদের এক লাফে অনেকটা বড় করে দিল । বন্ধুরূপী মানুষের মুখ আর মুখোশের আড়াল থাকল না ।
তবে হ্যাঁ ভালোর মধ্যে, আমাদের মেট্রন ,যিনি ছাত্রী দরদী ছিলেন, তিনি প্রমোশান পেয়ে অস্থায়ী সুপারের চার্জ নিলেন । সাথে আমাদের সমীহও করতে শুরু করলেন ।
রান্নার চাচিদের দৌরাত্ম কিছুটা কমে গেল ।
আর আমরা ...হঠাৎ সিনিয়র হয়ে গেলাম অনেকের কাছে !
২০০৬ এ আমাদের শেষদিন অবধি এই এক ঘটনা ওয়াকফ হোস্টেলের ইতিহাসে অলিখিত কিন্তু স্মরনীয় হয়ে থাকল ।
২০০৫ এর আগে এরম কিছু ঘটেনি , এখন ২০১৫ ; এত কাল পরেও কিছুই ঘটল না । তা বলে কি সব ঠিকঠাক চলছে ? নাহ , আসলে সেদিনের প্রতিবাদী মুখগুলো হয়তো পালটে গেছে, এখন নেইও কেউ হ্যাঁ কে 'হ্যাঁ' আর না কে 'না' বলার ।
মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে আমাদের আনাড়ি আন্দোলনের 'শুরুয়াত' তো হল , তাৎক্ষনিক সুরাহাও হল । কিন্তু মূল ঘাপলার শেষ হল না । ঘাপলার কেচ্ছায় কলঙ্কিত হয়ে থাকল ওয়াকফ বোর্ড ! এই নিয়ে বুদ্ধিজীবিদের বাইট দেখানো হল টিভিতে , অনেক আঁতলামি চলল । ওয়াকফ ট্রাস্ট থাকল ওয়াকফেই।
আমরা পেরিয়ে গেলাম অনেকটা দীর্ঘ পথ । বড় হয়ে গেলাম দ্রুত ।


Thursday, April 9, 2015

হাদিস-কোরান মাদ্রাসাশিক্ষা (বুঝে) : শিশুমস্তিষ্কে অবাধ প্রবেশ যৌনতা, অ্যাডাল্টারি ও মাদক সেবনের মত 'গ্যান' : সহি ইসলামি শিক্ষা !

আমাদের উপমহাদেশিয় রাষ্ট্রে মানে ভারত ও বাংলাদেশে কওমী / খারিজি মাদ্রাসা গুলোয় শিশু বয়স থেকেই ছেলে ও মেয়েদের (ঋতুস্রাব না হওয়া অব্ধি) আরবী শিক্ষা , কোরান শিক্ষা ইত্যাদি দান করা মুসমানীয় রীতি অনুযায়ি ফরজ (বাধ্যতামূলক / আবশ্যক) । 

মানে আল্ল্যাফাক তাই কয়েছেন তার আকাশ থেকে টপকানো কেতাবে ।
এখন কেতাবওয়ালা তো কেতাব লিখে খালাস । এবার যারা পড়বে তারা বুয়ে নিক ,বুয়ে পড়তে গিয়ে তাদের ইমানদণ্ডের টনটনানি আরও বাড়ুক ,সেখান থেকে আরামদন্ডের সুড়সুড়ানি বাড়ুক আর তাব্লীগরা (মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা) হস্তমৈথুনের সাথে সাথে মনেমনে সাত আসমান জুড়ে রেপের স্বাদ নিক !

এই অব্ধি পড়ে যারা অস্তাগফিরুল্লা জপছেন তাদের বমি ওঠার আগেই আসুন দেখা যাক কেন এত্ত বড় অ্যালিগেশন সহি ইসলামের সাদা জোব্বার গায়ে !

বাচ্চারা, প্রাপ্তবয়সে পৌছানোর আগেই, যদি নিজের মাতৃভাষায় মাদ্রাসার মৌলবির কাছে ধর্ম শিক্ষা নেয় তাহলে সহি ইসলামি কেতাবের পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা জুড়ে অন্য অনেক কিছুর সাথে আরও কি কি সওয়াব (পূন্যার্জন করা) শিখবে , দেখা যাক ।
--------------------------------------------------------

১)
 প্রশ্ন : - কুরআন ও হাদীসের আলোকে রুমে কেবল স্বামী স্ত্রী থাকলে শরীরে কোন কাপড় না রেখে কি ঘুমানো যায়? 

উঃ - লজ্জাস্থান অপ্রয়োজনে খুলে রাখা বৈধ নয়। পর্দার ভেতরে প্রয়োজনে তা খুলে রাখায় দোষ নেই। যেমন মিলনের সময়, গোসলের সময় বা প্রস্রাব পায়খানার করার সময়। অপ্রয়োজনের সময় লজ্জাস্থান আবৃত রাখা ওয়াজেব।
নবি (সঃ) বলেছেন, “তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকট লজ্জাস্থানের হেফাজত কর।”
সাহাবী বললেন, ‘হে আল্লাহ্র রাসুল! লোকেরা আপসে এক জায়গায় থাকলে?’
তিনি বললেন, “যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়।”
সাহাবী বললেন, ‘ হে আল্লহর রাসুল! কেউ যদি নির্জনে থাকে?’
তিনি বললেন, “মানুষ অপেক্ষা আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, তাকে লজ্জা করা হবে।” ৬১৪ (আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত ৩১১৭ নং)

২)
 প্রশ্ন :-- শুনেছি, সহবাসের সময় সম্পূর্ণ উলঙ্গ হতে নেই, রুম অন্ধকার রাখতে হয়, একে অপরের লজ্জাস্থান দেখতে নেই ইত্যাদি। তা কি ঠিক?
  
উঃ -- এ হল লজ্জাশীলতার পরিচয়। পরন্ত শরীয়তে তা হারাম নয়। অর্থাৎ রুম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে এবং সেখানে স্বামী স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ না থাকলে আর পর্দার প্রয়োজন নেই। স্বামী স্ত্রী একে অন্যের লেবাস। উভয়ে উভয়ের সব কিছু দেখতে পারে।
মহান আল্লাহ বলেছেন,“সফল মুমিন তারা, যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যাতিত।
সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারা হবে সীমালংঘনকারী। (মু’মিনূনঃ ৫-৬, মাআরিজঃ ২৯-৩১)

৩) 

প্রশ্ন :--  কোন কোন সময় স্ত্রী সহবাস নিসিদ্ধ? শুনেছি অমবস্যা ও পূর্ণিমার রাত্রিতে সহবাস করতে হয় না ? এ কথা কি ঠিক?
   উঃ -- দিবারাত্রে স্বামী স্ত্রীর যখন সুযোগ হয়, তখনই সহবাস বৈধ। তবে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত কয়েকটি নিষিদ্ধ সময় আছে, যাতে স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ নয়।

১। স্ত্রীর মাসিক অথবা প্রসবোত্তর খুন থাকা অবস্থায়। মহান আল্লাহ বলেছেন, “লোকে রাজঃস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তুমি বল, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা রাজঃস্রাবকালে স্ত্রীসঙ্গ বর্জন কর এবং যতদিন না তারা পবিত্র হয়, (সহবাসের জন্য) তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। অতঃপর যখন তারা পবিত্র হয়, তখন তাদের নিকট ঠিক সেইভাবে গমন কর, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাপ্রার্থীগণকে এবং যারা পবিত্র থাকে, তাঁদেরকে পছন্দ করেন।” (বাকারাহঃ ২২২)

রাসুল (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি তার ঋতুমতী স্ত্রী (মাসিক অবস্থায়) সঙ্গম করে অথবা কোন স্ত্রীর গুহ্যদ্বারে সহবাস করে, অথবা কোন গনকের নিকট উপস্থিত হয়ে (সে যা বলে তা) বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সঃ) এর অবতীর্ণ কুরআনের সাথে কুফরী করে।” (অর্থাৎ কুরআনকে সে অবিশ্বাস ও অমান্য করে। কারণ, কুরআনে এ সব কুকর্মকে নিসিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।) (আহমাদ ২/৪০৮, ৪৭৬, তিরমিযী, সহীহ ইবনে মাজাহ ৫২২ নং)

২। রমযানের দিনের বেলায় রোযা অবস্থায়। মহান আল্লাহ বলেছেন, “রোযার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।” (বাকারাহঃ ১৮৭) আর বিদিত যে, রমযানের রোযা অবস্থায় সঙ্গম করলে যথারীতি তার কাফফারা আছে। একটানা দুইমাস রোযা রাখতে হবে, নচেৎ অক্ষম হলে ষাট জন মিসকীন খাওয়াতে হবে।

৩। হজ্জ বা উমরার ইহরাম অবস্থায়। মহান আল্লাহ বলেন, “সুবিদিত মাসে (যথাঃ শাওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্জে) হজ্জ হয়। যে কেউ এই মাস গুলোতে হজ্জ করার সংকল্প করে, সে যেন হজ্জ এর সময় স্ত্রী সহবাস (কোন প্রকার যৌনাচার), পাপ কাজ এবং ঝগড়া বিবাদ না করে।” (বাকারাহঃ ১৯৭)
এ ছাড়া অন্য সময়ে দিবারাত্রির যে কোন অংশে সহবাস বৈধ। (মুহাম্মাদ স্বালেহ আল-মুনাজ্জিদ)হাদিসে এসেছে, “যদি তোমরা কেউ স্ত্রী সহবাসের ইচ্ছা করে, তখন দুআ পড়ে, তাহলে তাঁদের ভাগ্যে সন্তান এলে, শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারে না।” (বুখারী-মুসলিম)

৪) 
প্রশ্ন :-- শরীয়তে সমমৈথুন প্রসঙ্গে বিধান কি?

উঃ --  সমমৈথুনঃ পুরুষ সঙ্গম বা পুরুষ-পুরুষে পায়ুপথে কুকর্ম করাকে বলে। আর এরই অনুরূপ স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করাও। 
মহান আলাহ বলেন,“ মানুষের মধ্যে তোমরা তো কেবল পুরুষদের সাথেই উপগত হও। ” (সূরা শূআরা ১৬৫ আয়াত) তিনি আরও বলেন, “তোমরা তো কাম তৃপ্তির জন্য নারী ত্যাগ করে পুরুষদের নিকট গমন কর!” (সূরা আ’রাফ ৮১ আয়াত) 
আল্লাহ তাঁদেরকে এই কুকাজের শাস্তি স্বরূপ তাঁদের ঘর বাড়ী উল্টে দিয়েছিলেন এবং আকাশ থেকে তাঁদের উপর বর্ষণ করেছিলেন পাথর। তিনি বলেন,“অতঃপর যখন আমার আদেশ এল তখন আমি (তাঁদের নগরগুলোকে) ঊর্ধ্বভাগকে নিম্নভাগে পরিণত করেছিলাম এবং আমি তাঁদের উপর ক্রমগত কঙ্কর বর্ষণ করেছিলাম।” (সূরা হিজর ৭৪ )

৫) 
প্রশ্ন:--হস্ত মৈথুন যুবক যুবতী কারোর জন্যও বৈধ নয়। কিন্তু যদি স্বামী স্ত্রী একে অপরের হস্ত দ্বারা মৈথুন করে, তাহলেও কি তা অবৈধ হবে?

উঃ -- স্বামী স্ত্রীর ক্ষেত্রে এমন মৈথুন অবৈধ নয়। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, “সফল মু’মিন তারা, যারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে। নিজেদের পত্নি অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যাতীত; এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। সুতরাং কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে, তারা হবে সীমালঙ্ঘকারী।” (মু’মিনূনঃ ৫-৭, মাআরিজঃ ২৯-৩১)
সুতরাং অবৈধ হল নিজের হাতে নিজের বীর্যপাত। স্বামী স্ত্রীর একে অন্যের হাত দ্বারা বীর্যপাত অবৈধ নয়।
মহানবী (সঃ) ঋতুমতী স্ত্রীর সাথে যৌনাচার করার ব্যপারে বলেছেন, “সঙ্গম ছাড়া সব কিছু কর।” (মুসলিম ৩০২ নং)

৬) 
ইসলামে যৌন চাহিদা পূরণের জন্য বিবাহের প্রতি ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

হাদীসে আছে, "যে যুব সম্প্রদায়, তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ে করার সামর্থ আছে তাদের উচিৎ বিয়ে করা, এটি দৃষ্টিকে নত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাযত করে । (বুখারী, মুসলিম)

৭)
হস্তমৈথুন প্রসঙ্গে হাদিস বলছে ---
ইসলাম কেবল স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে যৌনসঙ্গম অনুমোদন করে। হস্তমৈথুন বা স্বকাম তাই ইসলামে অনুমোদিত নয়। ইবনে কাসীর সহ বেশ কিছু হাদীসগ্রন্থের হাদীসে হস্তমৈথুনকারীকে অভিশপ্ত এবং হস্তমৈথূনকে স্বীয় হস্তের সাথে ব্যভিচার বলা হয়েছে।
এছাড়াও হাদীসে বলা হয়েছে, হস্তমৈথুনকারীকে আল্লাহ জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, কিন্তু যারা অনুশোচনা ও তওবা করবে আল্লাহ শুধু তাদেরকেই ক্ষমা করবেন। 

৮) 
ব্লোজব / মুখমৈথুন প্রসঙ্গে ---
ইসলামে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মুখমৈথুনের ব্যপারে স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয় নি। সে কারণে অনেক আলেমই এটির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা বৈধতা প্রদান করা থেকে বিরত থেকেছেন। আবার অনেক আলেম এটিকে মাকরুহ বলে স্বাব্যস্ত করেছেন।

৯) 
এছাড়াও কোরানে আছে , "তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা , ভগিনী, ফুফু, খালা, ভাতুস্পুত্রী, ভাগিনেয়, দুধ-মা, দুধ-বোন, শ্বাশুড়ি ও তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সহবাস হয়েছে তার পূর্ব স্বামির ঔরসজাত কন্যা । তবে যদি তাদের মায়ের সাথে সেই স্বামীর সহবাস না হয়ে থাকে তবে তোমাদের সঙ্গমে বৈধতা আছে ।" ( সুরা নিসা , ৪ঃ২৩)

১০) 
যৌনতা ছাড়াও অন্যান্য যেসব নেশার কথা বেশ লোভনীয় ভাবে কোরানে বর্নিত হয়েছে তা হল---
" সাবধানিদের (বিশ্বাসী , মুমিন) জন্য আছে সাফল্য, উদ্যান , দ্রাক্ষা , সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুনী এবং পূর্ণ পানপাত্র ।" (সুরা 'নাবা' ২ঃ৩১ )

*** মুসলমানরা খুব গর্বিত যে কোরান তাদের মদ খাওয়া / নেশা করা থেকে বিরত রেখেছে । তাদের জন্য মাদক সেবন হারাম করেছে । তারা কি আদৌ কোরান পড়েছে ? পড়লে কি এই জান্নাত চ্যাপ্টার মাথায় ঢোকে নি ?

১১)
"যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’লা দ্বীন ইসলামকে বুলন্দ এবং সুউচ্চ করেছেন তা হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে জিহাদ করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘‘আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন যে ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহর পথে জিহাদ করা এবং তাঁর কথাকে সত্য বলে প্রমাণিত করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়। অথবা তাকে জিহাদের সাওয়াব ও গণীমত লাভে ধন্য করে গাজী হিসাবে ঘরে ফিরিয়ে আনেন’’। [বুখারী ও মুসলিম]


------------------------------------------------------------------------------
একটু বড় হয়ে গেল লেখাটা । কিন্তু কেতাবওয়ালার সওয়াবি 'গ্যান' কি আর অতটুকু সময়ে মেলে ? এট্টূ ধৈর্য্য তো লাগবেই, খোদা কসম !

ইনশাল্লা, এবারে নিশ্চয় বুয়েছেন কি দারুণ সব প্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষা আছে ধর্ম কেতাবে !
কে বলে, লেখা পড়া না করলে 'বড় ' হওয়া যায় না ?
আবালের কথায় কান দেবেন না ।

আপনার বাচ্চাকে তাড়াতাড়ি 'বড় ' করতে হলে নিশ্চয় মাদ্রাসায় পাঠাবেন হাদিস শরিফ, কোরান সহ । সেখানে তার মওলানা (শিক্ষক) ও সহপাঠিদের সাথে এই নিয়ে প্রবল বিশ্বাসে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালিনই বাচ্চা দ্রুত ৮ থেকে ১৮ তে পৌছে যাবে ।

বেকার কিছু আবাল শিক্ষিত পাব্লিক 'চাউমিন'কে দায়ী করে বাচ্চাদের রক্তে দ্রুত অ্যাডাল্ট হরমোন ঢোকানোর নামে দুয়ো দেয় ।
আসল চাউমিন তো এখানে, আপনি খান, সন্তানদেরও খেতে উদবুদ্ধ করুন । সহি ইসলামি শিক্ষা ... ইয়াম্মি !!

Monday, April 6, 2015

ন্যাপকিন বিপ্লবে উত্তাল রাজ্য ... ট্রায়াল রুমে হিডেন ক্যামেরা কান্ডে উত্তাল দেশ ।

দুই ঘটনা । প্রথমটি একটা রাজ্যে, অন্যটি দেশে ।
একটির ভিক্টিম কিছু মহিলা ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া, অন্যটির ভিক্টিম খোদ HRD Minister ( মানব সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী ) শ্রীমতি স্মৃতি ইরানী ।

দুই ঘটনায় মিল কোথায় ?--- দুটিই নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে একটা বড়সড় থাপ্পড় !

আসুন দেখা যাক----

১)
"Naming and Shaming,
Victims in Sexual Violence !"
এই শিরোনামে স্যানিটারি প্যাডে স্লোগান লিখে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের নোটিশ বোর্ডে সাঁটিয়ে দেয় কিছু 'কলরবি' ছাত্রছাত্রী ।
হ্যাঁ , ওদের 'ভিসি হঠাও-ধর্ষনকান্ডের তুরন্ত বিচার চাই ' আন্দোলনের পরে এখন ওই নামেই ডাকা হয় ।
ঘটনার সুত্রপাত গত ২৭ শে মার্চ , শুক্রবার। দিল্লীর জামিয়া মিলিয়া ইস্লামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাড-প্রতিবাদ কান্ড থেকে উদ্দিপিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের নারীদের ক্রমাগত শ্লীলতা হানী, ক্যাম্পাসে মহিলাদের ইভটিজিং করা, সমাজে চলা লিঙ্গবৈষম্য, ঋতুস্রাব নিয়ে অযথা গোপনীয়তার বিরুদ্ধে ,নারীস্বাধীনতা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ও ক্রমবর্ধমান ধর্ষনের ঘটনার বিরুদ্ধে একটা জোড়সোর প্রতিবাদ করার লক্ষে যাদবপুরের ছাত্র ছাত্রীরা এই অভিনব প্যাড প্রতিবাদ অভিযান শুরু করে ।

যারা নেপথ্যে রয়েছেন এই কান্ডের তাঁরা কোনোকিছুই গোপন করেন নি । খোলাখুলি স্বীকার করেছনে তাদের অ্যাজেন্ডা ।
অরুমিতা মিত্র নামে এক ছাত্রী জানান , 'এই ধরনের প্রতিবাদ সংঘটিত করার জন্য ইতিমধ্যেই 'পিরিয়ডস' নামে একটি ফোরাম গঠন করা হয়েছে । কর্তৃপক্ষ কি ভাবছেন , কি করবেন না করবেন তা নিয়ে আমরা ভাবছি না । ভবিষ্যতেও এমন প্রতিবাদে আমাদের সংগঠন থাকবে ও লড়বে ।'

এরপর থেকেই এই প্যাড নিয়ে প্রতিবাদের ঘটনা ছড়িয়ে দেয় আগুন । যারা যারা আগের 'ভিসি হঠাও' আন্দোলনকে সমর্থন করছিলেন, সেই ওয়েবকুপা / আবুটা শিক্ষক সমিতি বা নানারঙ্গের ছাত্র সঙ্ঘরা আজ কলরবি প্রতিবাদীদের দুয়ো দিচ্ছে , কেউ আবার একদম মৌন ব্রত নিয়েছে । তাদের মতে, দাবী বা প্রতিবাদ জানানোর অনেক পথ আছে ,কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখতে হবে কোনটা শোভনীয় । স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে প্রতিবাদ এদেশের সংস্কৃতির সাথে খাপ খায় না । উপাচার্য থেকে শিক্ষক মহল এই নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত । তাঁরা বলছেন 'এমন প্রতিবাদ যা মেয়েদের অস্বস্তিতে ফেলে দেয় তা কিছুতেই মানা যায় না ।'

আবার ইতিহাসের অধ্যাপক শ্রী অমিত ভট্টাচার্য বলেন তাঁর এটাকে ন্যায্য প্রতিবাদের পথ হিসেবে মানতে আপত্তি নেই । তিনি বলেন, " সব প্রতিবাদের পদ্ধতি সবার মনোমত নাও হতে পারে , কিন্তু মানুষের ভাবনাকে একটা ধাক্কা দিতে এধরনের পদ্ধতি কিন্তু প্রয়োগ করা হতেই পারে । আর ছাত্ররাই তো তাদের প্রতিবাদের উদ্ভাবণী শক্তি দেখাবে , তাই না ?"


২)
 'ফ্যাব ইন্ডিয়া' ভারতের একটি জনপ্রিয় মার্ট বা শপিং মল । নানা রাজ্যে নানা সিটিতে এই মার্টের ব্রাঞ্চ আছে । তেমনই এক ব্রাঞ্চে ড্রেস কিনতে গিয়েছিলেন ভারতের মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী শ্রীমতি স্মৃতি ইরানী । ড্রেস পছন্দের পরে ট্রায়াল রুমে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন সেখানে একটি হিডেন ক্যামেরা আছে । সঙ্গে সঙ্গে তিনি ম্যানেজারকে খবর দেন , শোকজ করা হয় দোকানের মালিককে। চার্জ করা হয় দোকানের সব কর্মচারিদের । যদিও দোকানের কেউই এই অভিযোগ মানতে রাজী নন । কিন্তু তদন্তে জানা যায় সেই মার্টের একজন কর্মী লুকিয়ে মেয়েদের ড্রেসিং চেঞ্জের সময় মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও তোলার দোষে এর আগেও দোষি সাব্যস্ত হয়েছে ও শাস্তিও পেয়েছে । কিন্তু কোনো পুলিশকেস তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় নি । এসব কিছু নিয়ে এখন কেন্দ্রীয় সরকারি স্তরে তদন্ত কমিশন বসেছে , উত্তাল রাজনীতি ও জনগন মহল ।

"কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরই যদি কোনো সুরক্ষা না থাকে তাহলে এদেশের বাকি সাধারন মেয়েদের কী অবস্থা !"- এরম মন্তব্য 'ক্লীশে' শোনালেও বাজারে আবার ছড়াচ্ছে ।

----------------------- ------------------------------------ ---------------------------------

এখন দেখা যাক, এই দুই ঘটনায় মোদ্দা কথা কি ?
কিছুই না , ওই থোড় বড়ি খাড়া আর খাড়া বড়ি থোড় !নারীর কোনো সুরক্ষিত দেশ নেই , রাজ্য নেই, জায়গা নেই, ঘর নেই, ক্যাম্পাস নেই, শিক্ষাঙ্গন নেই । কিচ্ছু নেই ।

স্যানিটারি ন্যাপকিন দোকানে কিনতে গেলে দোকানি প্যাড দেওয়ার আগে খবরের কাগজ খোঁজে তা আড়াল করতে । তাড়াহুড়ায় বড্ড বিচ্ছিরি লাগে এই ওয়েট করা । আমার এরম অভিজ্ঞতা বেশ কয়েকবার হয়েছে।

অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভীড় ওষুধের দোকানে চেঁচিয়ে "ও দাদা , হুইস্পার আল্ট্রা আছে ? একটা দিন তো ।" বলতেই দোকানি মেপে নিল । তারপর ইশারায় স্টাফদের কিছু বলল । তারা আগে একটি খবরের কাগজ খুঁজতে লাগল ।আমায় ওয়েট করতে ইশারা করা হল। ক্রেতার ভীড়ে মন দিলেন দোকানি। আমার ধৈর্য্য জিনিসটা বরাবর ভীষন কম । এতক্ষন ধরে প্যাড কেনার ধৈর্য্য রাখা দায় ।

--- " ছাড়ুন তো । কাগজে প্যাক করতে হবে না ।আমার ব্যাগ আছে । মালটা দিন , দামটা নিন ।"দোকানী থেকে ক্রেতার ভিড় এবার ফুল্টু আমার দিকে মুভ ! যেন কী এক নিষিদ্ধ কথা আমি বেফাঁস বলে ফেলেছি । লজ্জায় ওদেরই লাল হতে দেখলাম । আমি তখন বাড়িমুখো ।
সে যাক, এখানে আমার প্যাঁচালি বলতে আসিনি ।

বলছিলাম, আমাদের সভ্য সংস্কৃতির কথা ।
ওই যে শিক্ষককূল বলছিলেন, স্যানিটারি প্যাড নিয়ে প্রতিবাদ করাটা মেয়েদের অস্বস্তিতে ফেলবে । শুধু তাই না, এটা ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে মেলে না । এক্কেবারে অসভ্য একটি নির্লজ্জতা !

তো আমার প্রশ্ন , রেপ করাটা বা গোপনে মেয়েদের নগ্ন ছবি নেওয়াটা আমাদের 'পশ' সভ্যতার কত নং ধারায় / উপধারায় আছে ?

আচ্ছা, নাহয় ধরে নিলাম, সব পুরুষ , 'পুরুষ' নয় তাদের মধ্যে অনেকেই মানুষ ।তারা 'সদা সত্যং বদ' পাঠ করে , সকল মেয়েদের ভগিনী সমান দেখে , রেপ করার চিন্তা মাথা থেকে যোজন
দূরে রাখে এবং ভারতীয় সভ্যতার ধারক বাহক হিসেবে বেশ গর্ব বোধ করে ।
এখন কথা হল, এরাও কি সানী লিওনকে একটু ব্যাঁকা চোখে দেখে না ? তাঁর মেয়ে রাতে বাড়ি ফিরতে না পারলে সকালে ভদ্রতার খাতিরে তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস না করে মেয়ের মাকে তার পোষাক তছনছ করে একটু তল্লাশি চালাতে বলেন না ?
নাকি এগুলো সবই সভ্যতার পরাকাষ্ঠা !

স্যানিটারি প্যাড কিনতে গেলে কাগজের ঢাকনা চাপা লাগে ,
মেয়েদের বাইরে বেরোতে হলে বোরখা বা হিজাবের ঢাকনা লাগে ,
সী-বিচে বেড়ানোর সময়ও মেয়েদের বুকে আলাদা একটা ঢাকনা দেওয়া লাগে, 
পোষাক কিনতে গেলে ট্রায়াল রুম মার্কা একটা আলাদা ঢাকনা ঘর লাগে ।

তো এইসব ঢাকনা কি ফেমিনাইন জেন্ডার ?
মেয়েদের জন্যই এগুলোর সৃষ্টি কিজন্য এই প্রশ্নটার উত্তর দেবে কোন সুশীল বুদ্ধিজীবি ?

উল্টোদিকে,
ছেলেদের কন্ডম কেনার সময় প্যাকেট কাগজের ঢাকনা চাপা লাগে না । জাপানী তেলের ক্ষেত্রেও একই কথা । কারন ওটা থেকে 'মেল' 'মেল' গন্ধ আসে ।

ওগুলো কেনা মানেই উদ্ধত পুরুষালি ঘোষনা দেওয়া 'look, I am able to have sex or fun with someone , may be ' size ' matters , but I or my partner don't care ."

তো মেয়েদের প্যাড কেনাও তো একইভাবে ফেমিনিষ্টিক উচ্চারণ করে, "See, I am able to give birth of a baby . I may not have wish to do so, but I can ."তাহলে এবেলায় এত রাখঢাক গুড়গুড়ে ঢাকনা চাপা কেন ?

প্রতিবাদে যদি পুরুষ তার বুকের উপর লিখতে পারে , " Do Or Die !" বা আণ্ডার ওয়্যারের স্ট্রিপে লিখতে পারে "Justice delayed is Justice denied ." ইত্যাদি, এবং সেগুলো দিব্বি 'অ্যাংগ্রী ইয়ং ম্যান '/ 'মাচো ইমেজের' বিপ্লবী প্রতীক হয়ে উঠতে পারে ,

তাহলে মেয়েরা তাদের নিজস্ব ভঙ্গীতে ব্রার উপরে , প্যান্টির উপরে, প্যাডের উপরে কিছু লিখে প্রতিবাদ জানালে সেটা কোন ধারায় অপরাধি তালিকা ভুক্ত হবে ?

ওহ , তারমানে এদেশের, ম্যান মেড কৃষ্টি অনুযায়ী 'প্রতিবাদ' শব্দটিও জেন্ডার বায়াসড, বড্ড পুং !

মন্ত্রী স্মৃতি ইরানীই যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তাহলে আমরা কোথায় যাই --- বলছেন যারা তারা বোধহয় ভুলে গেছেন উনি মন্ত্রী হতে পারেন কিন্তু আগে মহিলা । আর মহিলা মাত্রেই সে ভগিনী নন ... ভোগের সামগ্রী ।

তাই যে ক্যামেরা আম-মেয়েদের জন্য ফিট করা হয়েছিল তাইই উনাকেও ট্র্যাপ করতে চেয়েছে । ক্যামেরা তো আর অত 'ভিআইপী প্রোটোকল' বোঝে না !
তো এবার যদি এই ঘটনা নিয়ে অন্য কোনো নারী সংগঠন , মহিলা সমিতি প্যাড নিয়ে মিছিল করে তাহলে কেমন হবে ?

ভারতীয় কৃষ্টির ইতিহাসে মহিলাদের ফলো করা,
টিজ করা, অপমান করা,
তাদের শারিরীক গঠনের অসভ্য ভাবে সুযোগ নেওয়া , যেখানে সেখানে উত্তক্ত করা,
অটোতে-বাসেতে ইচ্ছেকৃত কনুইয়ের গুঁতোয় নারীশরীরের সাথে ঘেষে বসে অর্গাজমের সুখ পাওয়া ,
স্যানিটারি প্যাডের অ্যাডে ' দ্যাখ , লালীমাসিকে দেখাচ্ছে ' বলে সিটি বাজানো ---এসবই 'ম্যান মেড' নিয়মের মধ্যে পড়ে । কারন এগুলো সব বড্ড মেয়েলী !
ওকে , ফাইন । এরা যদি সব মেয়েদের জিনিস হয় তাহলে এগুলো নিয়ে মেয়েরা পথে নামলে তোমাদের মুখ -মাথা 'শীঘ্রপতনের' মত তোম্বা হয়ে যায় কেন , হে ?

'পুরুষের রক্ত হবে নাকো ব্যর্থ' -- স্লোগান যেমন তোমাদের কানে বড্ড মধুর শোনায় ।
তেমনি 'মেয়েদের রক্ত লজ্জায় আরক্ত' --- শুনলে আমাদের কানে শলাকা হয়ে বিঁধে যায় ।

এই রক্তের কারনে তোরা পৃথিবীর আলো দেখেছিস , এই রক্ত থেকেই পুষ্টিরস শোষন করে মায়ের জঠরে ক্ষুধা নিবারণ করেছিস । আর এখন এই রক্তই তোদের চোখ টাটায় !

হিডেন ক্যামেরা ফিট করে আদুর গায়ের মেয়ে দেখতে যদি তোদের ভালো লাগে , প্যান্টের ভিতর সুরসুরে এক সুখ নামে ।
'আরো চাই , আরো চাই ' বলে ভেতরটা যদি হাহাকার করে ওঠে;তাহলে মেয়েদের ব্যবহৃত ন্যাপকিনে প্রতিবাদী লেখা দেখেও তেমনি ভালো লাগাতে হবে ।

আফটার অল, 'মেয়েলী জিনিস পুরুষের লোভনীয় , কমনীয় বস্তু ।' এই নিয়ম তো পুরুষই বানিয়েছে তাদের অনেক সাধে রচিত পুরুষতন্ত্রের অলিখিত সংবিধানে ।
তাহলে মেয়েদের এই জিনিস নিয়ে মিছিল , স্লোগান , নোটিশবোর্ডের দম্ভ দেখতে কেন এত চোখ কড়কড় করছে ?

যাদবপুর যে এমন অনেক প্রথাভাঙ্গা প্রতিবাদীদের পীঠস্থান, এটা দেখতে আমার ভালো লাগছে ।
ভালো লাগছে এটা ভেবেও যে এদের অনেকেই আমার বন্ধুস্থানীয় ।
ভালো লাগছে এই 'নেই রাজ্যের' একজন বাসিন্দা হতে পেরে ।
ভাল লাগছে প্রতিবাদীদের পাশে দাঁড়াতে পেরে ।
ভালো লাগছে আমার দেশের আমার জন্মস্থানের বেশ কিছু ফেলো সিটিজেন এমন ট্যাবু ভাঙ্গা বিপ্লব বাস্তবায়িত করতে পেরেছেন বলে ।
ভালো লাগছে 'পিরিয়ডস' ফোরামের নেক্সট অ্যাজেন্ডাগুলোও এমন আরো অনেক কিছু নতুন সৃজন করতে পারবে বলে ।

লাল সেলাম 'পিরিয়ডস ' ... অনেক অনেক শুভেচ্ছা তোমাদের জন্য ।
তোমরা হয়তো মন্ত্রী স্মৃতি ইরানী নও, কিন্তু সাধারনের মধ্যেও অসাধারন এক অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ।
এখন শুধু দাবানল হওয়ার অপেক্ষা ...সেই লক্ষ্যকে পাখির চোখ করে এগিয়ে চল । পাশে আছি ।