একটা একটা করে দিন যায় । মৌসুমী দিন , মনখারাবী সকাল নিয়েই এ শহরের ঘুম ভাঙে । প্রতিদিন , চেনা ছকে , চেনা মানুষ নিয়ে সময় এগোয় । সূর্য ওঠে । ডোবেও চেনা ছন্দে ।
চেনা রাস্তার পাশে ওই বাবুর হোটেলের যে ছেলেটা প্রতিদিন কয়লা ভাঙে তার প্রতিটা 'আজ' শুরু হয় মালিকের বকুনি কিছু কম খাওয়ার আশায়, দুটো পয়সা বেশি পাওয়ার আশায় ।
যে শাকবুড়িটাকে সেদিন আমাদের ভিখিরি বলে ভ্রম হয়েছিল সেও জাগে প্রতিদিন , চেনা বাজারের মোড়ে সেও দাঁড়ায় রোজ শাক বেচা পয়সায় বাড়তি দুটো কচুরি কেনার আশায় ; বাড়িতে নয় বছরের বুধিয়ার যে ভীষণ খিদে পায় !
মা -মরা বুধিয়ার বাপ যেমন রোজ চোলাই ঠেকে জ্বাল দিয়ে বেশি রাতে টলতে টলতে ঘরে ফেরে , তেমনি ফেরে সনাতন-দার মেয়েটাও শেষ ট্রেনে শেষ ক্লাস করে ।
রোববার হোক, বা ছুটির যে কোনও দিন , সনাতনদার ছুটি নেই । রোজ সকালে স্কুল যাওয়ার পথে নেতার বাড়ির রাস্তার ওই বাঁকটায় সনাতনদার সাইকেল দাঁড়ানো দেখি , একটু বাঁয়ে চেপে একটু ব্রেক করে যখন ওই পেপার বোঝাই সাইকেলটার পাশ কাটাই বারবার ঘিনঘিনে মাছির মত চোখের সামনে নাচতে থাকে কিছু হাবিজাবি কথা । মেয়েটা কলেজে উঠে গেল , সনাতন-দার শ্রম নিশ্চয় সার্থক হবে এবার । মানুষটা বড্ড ভুল হিসেব দেয় প্রতিমাসে পেপারের বিলে । মেয়ে নিশ্চয় বুড়ো বাপের শেষ জীবনের হিসেবটা ঠিক মতই মিলিয়ে দেবে । নিশ্চয় একদিন সনাতন-দাও ছুটি পাবে, সেদিন সেও হয়তো বা নিশ্চিত চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বেলার দিকে সূর্যের রং দেখবে । ভোরের রং তো তার ঢের চেনা ।
একটা সকাল নিশ্চয় এমনও আসবে যেদিন ঘুম ভাঙা চোখে আমার ইচ্ছে হবে না মোবাইল দেখার । ইচ্ছে হবে না ঘড়ির দিকে তাকাবার । ইচ্ছে হবে না তারিখ মনে রেখে শুভেচ্ছা পাঠাবার । ইচ্ছে হবে না ট্রেন্ড নিয়ে ফ্রেণ্ডরা কি বলছে তা জানার ।
ইচ্ছে হবে না মন খারাপের সাথে দোস্তি করার । ইচ্ছে হবে না পড়া আর লেখার মাঝের দুরত্বগুলো মেপে দেখার । ইচ্ছে হবে না ইনবক্সের মেসেজ খোলার । ইচ্ছে হবে না আমার প্রিয় লেখা, প্রিয় সিনেমা, প্রিয় জিনিস বা প্রিয় মানুষকে নিয়ে 'লোকে-কি-বলছে' ভাবার ।
এলোমেলো এই 'ইচ্ছে হবে না' দের যেদিন কান ধরে মাটিতে নামাতে পারব , সেদিনটায় সত্যি ইচ্ছে হবে 'ভাল-থাকা'র সাথে আলাপ করার ।
ইচ্ছে হবে না মন খারাপের সাথে দোস্তি করার । ইচ্ছে হবে না পড়া আর লেখার মাঝের দুরত্বগুলো মেপে দেখার । ইচ্ছে হবে না ইনবক্সের মেসেজ খোলার । ইচ্ছে হবে না আমার প্রিয় লেখা, প্রিয় সিনেমা, প্রিয় জিনিস বা প্রিয় মানুষকে নিয়ে 'লোকে-কি-বলছে' ভাবার ।
এলোমেলো এই 'ইচ্ছে হবে না' দের যেদিন কান ধরে মাটিতে নামাতে পারব , সেদিনটায় সত্যি ইচ্ছে হবে 'ভাল-থাকা'র সাথে আলাপ করার ।
সেদিন সনাতন-দার মেয়ের সাথে সত্যি দেখা হবে আমার । সেদিন ধুলো পড়ে যাওয়া বইয়ের তাক সাফ করে 'পাগলা দাশু' নামাব । সেদিন মিডিওকার আমার জন্য আমার গর্ব হবে খুব । সেদিন শিশু আমি-টাকে একটু বেশিক্ষন আদর করব । সেদিন 'ক্ষীরের পুতুল' আর 'রাজার অসুখ' নিয়েই কাটবে সারাদিন । সেদিন সব কুন্ঠা কাটিয়ে নিশ্চয় স্কুল-গেটের ওই ফেরিওলার কাছে মেয়েবেলার কুলগুড়ি আর রাংতায় মোড়া মিঠে-কড়া চাটনি কিনে খাব - গোপনে নয় সব্বাইকে দেখিয়ে ।
সেদিন 'ফুড়ুৎ' -এর সাথে তার ভাষায় আমি কথা বলব , হয়তো সে শুনবে না , হয়তো সে পালিয়ে যাবে রোজকার মত - তবু এটুকু তো জানবে তার একটা বিশ্বস্ত জানলা আছে ঠোঁটে বয়ে আনা খড়কুটোগুলোকে নিরাপদে জমানোর জন্য ।
আমি জানি, সেদিন আমার শুকনো পিস-লিলি চারাটায় সবজে রং ধরবে, সাদা ধবধবে ফুলও ফুটবে , নিশ্চয় ।
সেদিন 'ফুড়ুৎ' -এর সাথে তার ভাষায় আমি কথা বলব , হয়তো সে শুনবে না , হয়তো সে পালিয়ে যাবে রোজকার মত - তবু এটুকু তো জানবে তার একটা বিশ্বস্ত জানলা আছে ঠোঁটে বয়ে আনা খড়কুটোগুলোকে নিরাপদে জমানোর জন্য ।
আমি জানি, সেদিন আমার শুকনো পিস-লিলি চারাটায় সবজে রং ধরবে, সাদা ধবধবে ফুলও ফুটবে , নিশ্চয় ।
ব্যালকনির সবক'টা কোণ জুড়ে সেদিন রাফখাতার পাতা ছড়ানো থাকবে ... এলোমেলো, ইচ্ছেমত... এক্কেবারে স্বাধীন । মা যতই বকুক আমি তো জানব ঐ রাফখাতার ছেঁড়াপাতাগুলোর প্রতিটায় এক একটা 'আমি' জেগে আছি ।
"Protiti kagojer tukrote lekha thakbe bristir fota r moto tomar naam
ReplyDeletetara swadhin vabe bolbe tomar jiboner protiti kaj, kintu ki hobe
seisob kajer naam, vebe luv nai ajj, urie dao mukto monke haoae haoae bihonger moto, oro oro, chole jao sei ochin dese, jekhane ochenara tomai korbe boron, valobasar norom aloi korbe tomai snato"