- আজকের
মত এটুকুই । এখন পড়ার ছুটি , একটা গল্প বলব আজ । বেশ
কয়েক বছর আগের কথা । আমাদের পাশের জেলা পুরুলিয়া , চেন তো ? হারান
আর মিনুর মামারা নাকি থাকেন ওখানে , তাই না !
- হ্যাঁ মিস ।
- জানো তো, সেখানে ওদের মামারাই শুধু থাকেন না । সেখানে থাকে মুক্তি মাঝি, সঙ্গীতা বাউড়ি, বীনা কালিন্দী, আফসানা খাতুন ,সুনীতা মণ্ডল এর মত সাহসী মেয়েরা । কেন সাহসী জানো ? আমাদের স্বপ্না বাউড়ি যা করতে পারে নি, ওরা তাই করে দেখিয়েছে । ওদের সবার ইস্কুলে পড়াকালীন বিয়ে হয়ে যেত , যদি না ওরা প্রতিবাদ করত । তোমাদের মত বয়সে ওদের বাড়ির লোক ওদের চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী লোকের সাথে বিয়ের ঠিক করে । ওরা যে পড়াশুনায় খুব ভাল ছিল সবাই, তা নয় মোটেই। কিন্তু পড়া এবং স্কুলের প্রতি ওদের ভালবাসা ছিল খুব । সেইজন্য বাবা-মা যখন জোর করে ওদের বিয়ের ঠিক করল ওরা প্রবল জোরে মাথা নেড়ে 'না' বলল । বাবা-মা ওদের ঘরে তালা মেরে আটকে রাখল । সেখান থেকে অনেক কষ্টে ওরা বই-খাতা ব্যাগে ভরে রাতের আঁধারে পালাল । পুলিশের কাছে খবর দিল , নিজেদের বাল্যবিবাহ আটকালো - সে এক বিশাল কান্ড !
তারপর একদিন তারা রাষ্ট্রপতির কাছে সম্মানিত হল, কত লোক তাদের পাশে দাঁড়ালেন, সংবর্ধনা দিলেন - ওদের বিয়ে আটকে গেল । সবাই আবার স্কুলে গেল । হয়তো তাদের আগামী কাল কেউ কৃতী ছাত্রী বা বিখ্যাত কেউ হিসেবে মনে রাখবে না , কিন্তু মেয়েদের শিক্ষার ইতিহাসে তাদের নাম খোদাই হয়ে গেল । এই সবই শুধুমাত্র পড়াশুনাকে ভালবেসে তারা করেছে , কেউ তাদের উস্কায়নি , কেউ তাদের মুখে ভাষা যোগায় নি । এদের থেকে শুধু ছোটদের শেখার আছে তাই না, আমাদের সব বয়েসের মানুষের শেখার আছে । তাই না !
- হ্যাঁ মিস ।
- জানো তো, সেখানে ওদের মামারাই শুধু থাকেন না । সেখানে থাকে মুক্তি মাঝি, সঙ্গীতা বাউড়ি, বীনা কালিন্দী, আফসানা খাতুন ,সুনীতা মণ্ডল এর মত সাহসী মেয়েরা । কেন সাহসী জানো ? আমাদের স্বপ্না বাউড়ি যা করতে পারে নি, ওরা তাই করে দেখিয়েছে । ওদের সবার ইস্কুলে পড়াকালীন বিয়ে হয়ে যেত , যদি না ওরা প্রতিবাদ করত । তোমাদের মত বয়সে ওদের বাড়ির লোক ওদের চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী লোকের সাথে বিয়ের ঠিক করে । ওরা যে পড়াশুনায় খুব ভাল ছিল সবাই, তা নয় মোটেই। কিন্তু পড়া এবং স্কুলের প্রতি ওদের ভালবাসা ছিল খুব । সেইজন্য বাবা-মা যখন জোর করে ওদের বিয়ের ঠিক করল ওরা প্রবল জোরে মাথা নেড়ে 'না' বলল । বাবা-মা ওদের ঘরে তালা মেরে আটকে রাখল । সেখান থেকে অনেক কষ্টে ওরা বই-খাতা ব্যাগে ভরে রাতের আঁধারে পালাল । পুলিশের কাছে খবর দিল , নিজেদের বাল্যবিবাহ আটকালো - সে এক বিশাল কান্ড !
তারপর একদিন তারা রাষ্ট্রপতির কাছে সম্মানিত হল, কত লোক তাদের পাশে দাঁড়ালেন, সংবর্ধনা দিলেন - ওদের বিয়ে আটকে গেল । সবাই আবার স্কুলে গেল । হয়তো তাদের আগামী কাল কেউ কৃতী ছাত্রী বা বিখ্যাত কেউ হিসেবে মনে রাখবে না , কিন্তু মেয়েদের শিক্ষার ইতিহাসে তাদের নাম খোদাই হয়ে গেল । এই সবই শুধুমাত্র পড়াশুনাকে ভালবেসে তারা করেছে , কেউ তাদের উস্কায়নি , কেউ তাদের মুখে ভাষা যোগায় নি । এদের থেকে শুধু ছোটদের শেখার আছে তাই না, আমাদের সব বয়েসের মানুষের শেখার আছে । তাই না !
হাঁ
করা মুখগুলোর সামনে যখন বক্তব্য শেষ করলাম দেখি অনেকের চোখ চকচক করছে । ফার্স্ট
পিরিয়ড শেষ হতে তখনো পাঁচমিনিট বাকি । গতকালের কাজগুলো শেষ করতে দিয়েছিলাম , কেউ
করে নি । আজ বললাম ' কি হতে চাও' এক
লাইনে লেখ । ওরা খাতা কলমে দাগ টানল, কেউ কেউ পেন চিবালো , কেউ
বা জানলা দিয়ে বাইরের ঝাপসা আকাশে চেয়ে কিছু ভাবল ।
ইতিমধ্যে ক্রিং ক্রিং বেল পড়ল !!
খাতা টেনে নিয়ে দেখি বেশীরভাগের উত্তর ___________ । বেবাক ফাঁকা !
ইতিমধ্যে ক্রিং ক্রিং বেল পড়ল !!
খাতা টেনে নিয়ে দেখি বেশীরভাগের উত্তর ___________ । বেবাক ফাঁকা !
- "কি হল, কে
কি হতে চাও সেটুকুই তো লেখার । বড় হয়ে কেউ কিছু হতে চাও না?"
থার্ড বেঞ্চের মাঝের জন উশখুশ করছে দেখে তুললাম । নাহ, সে জবাব দেয় নি, টয়লেট যাওয়ার অনুমতি চেয়েছে । আরও বার দুয়েক তাড়া লাগাতে ছেলেদের সেকেন্ড বেঞ্চ থেকে উত্তর এল ''কিছু না । বাড়ি থেকে যা বলবে ।'
দুজন মেয়ে শুনে হেসে ফেলল । তাদের দাঁড় করাতে জবাব পেলাম " আর দুটা বছর ইস্কুলে , তারপর বিয়া ।"
থার্ড বেঞ্চের মাঝের জন উশখুশ করছে দেখে তুললাম । নাহ, সে জবাব দেয় নি, টয়লেট যাওয়ার অনুমতি চেয়েছে । আরও বার দুয়েক তাড়া লাগাতে ছেলেদের সেকেন্ড বেঞ্চ থেকে উত্তর এল ''কিছু না । বাড়ি থেকে যা বলবে ।'
দুজন মেয়ে শুনে হেসে ফেলল । তাদের দাঁড় করাতে জবাব পেলাম " আর দুটা বছর ইস্কুলে , তারপর বিয়া ।"
- সেকি ! বিয়ে করবে ? কেন
? এই
যে বীনা কালিন্দীর গল্প বললাম, অল্প বয়েসে বিয়ে করলে
কত সমস্যা হয় জানো না ? সেদিনও এই নিয়ে
বলেছিলাম ...তাছাড়া তোমাদের পড়ার জন্য শিক্ষাশ্রী , কন্যাশ্রী প্রকল্প
হয়েছে । সরকার থেকে পড়ার সুবিধা পাচ্ছ, তবে পড়বে না কেন ?
- " পড়ে কি হবেক মিস, বিয়া তো হবেকই একদিন । উই ট্যাকা গুলান জমাইলে খরচা উঠবেক । তার লেগ্যে স্কুলে পাঠাইচ্ছে ..."
- " পড়ে কি হবেক মিস, বিয়া তো হবেকই একদিন । উই ট্যাকা গুলান জমাইলে খরচা উঠবেক । তার লেগ্যে স্কুলে পাঠাইচ্ছে ..."
মেয়েটি
আরো কি কি সব বলে গেল, আমি স্থবির হয়ে চেয়ে রইলাম । আরো
অনেকে ওই মেয়ের সাথে নিজেদের বিয়ের প্ল্যান শোনাল । মিনিট পনের এভাবেই বোবা দৃষ্টি
নিয়ে কাটালাম । বাইরে তখন অন্য ক্লাসের স্যার দাঁড়িয়ে !
এদিকে আমার সামনে বসে যারা এতক্ষণ উজ্জ্বল মুখে পুরুলিয়ার লড়াকু মেয়েদের গল্প শুনছিল , তারা কি সহজে সটান দাঁড়িয়ে বলে দিল ' পড়ে কি হবে ? বিয়ে তো করতেই হবে একদিন !'
এদিকে আমার সামনে বসে যারা এতক্ষণ উজ্জ্বল মুখে পুরুলিয়ার লড়াকু মেয়েদের গল্প শুনছিল , তারা কি সহজে সটান দাঁড়িয়ে বলে দিল ' পড়ে কি হবে ? বিয়ে তো করতেই হবে একদিন !'
শিক্ষকদের
উৎসাহ অনেক খাদের কিনারায় পৌঁছানো বাচ্চাদের নাকি টেনে তুলেছে, গল্পে
তো তাই জেনেছি । বাস্তবেও যে দেখি নি তা নয় । তবে কিসের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে আমাদের
বেলায় ? স্বেচ্ছায়
, খুশি
খুশি তারা বাল্যবিবাহে সায় দিচ্ছে যেখানে , সেখানে আইন করে , পুলিশ
ডেকে, ধমকে
চমকে, বুঝিয়ে
বা ভয় দেখিয়ে কেই বা আলোর রাস্তায় আনতে পারবে ওদের !
একটা
আফসানা খাতুন যা পেরেছে , একটা মুক্তি মাঝি যা
করে দেখিয়েছে - একই বাংলার জল হাওয়ায়, একই রকম মিড-ডে মিল
খেয়ে, শিক্ষাশ্রী
- কন্যাশ্রীর সম পরিমান অনুদান পেয়ে , একই অভাব আর কুসংস্কার
আক্রান্ত পরিবেশে বেঁচে আমার রাখি, বীনা, সুমিতা, কুসুম
, কিম্বা
হারান , বিনয়, গৌরবরা
কি ইতিহাস গড়তে পারে না !
শ্লথ পায়ে আমি ক্লাসরুম ছাড়ি , সেকেন্ড পিরিয়ডে আরো কিছু বয়ঃসন্ধির কাঁচাপাকাদের আড্ডায় এগিয়ে যাই ।
পেছনে সামনে কচি কচি মুখগুলো ঘুরে বেড়ায় , যাদের মস্তিষ্কের কোষে কোষে 'মেয়েদের এটা করতে হয়, এটা নয়', 'নারী জন্মের আসল সার্থকতা মাতৃত্বে' আর 'বিয়েতেই মেয়েদের মুক্তি' - নামক ঘুণপোকাদের বাস ।
তাদের সামনে কোনও আদর্শ নেই, জীবন গড়ার লক্ষ্য নেই ।
কোনো রেখা কালিন্দীর প্রতিবাদের গল্প তাদের জানা নেই । জানলেও পাত্তা দেওয়ার ইচ্ছে নেই । রূপকথার গল্প শুনেও তাদের হাই ওঠে । কোনো গৃহবধূ পণের জন্য খুন হলে, কোনো মেয়ে মোলেস্টেড হলে তাদের মনে হয় সেই মেয়েরই দোষ ছিল - ' কেন দেয় নি টাকা ?' ' কেন গেছিল রাত্রে একা ? বেশ হয়েছে !'
শ্লথ পায়ে আমি ক্লাসরুম ছাড়ি , সেকেন্ড পিরিয়ডে আরো কিছু বয়ঃসন্ধির কাঁচাপাকাদের আড্ডায় এগিয়ে যাই ।
পেছনে সামনে কচি কচি মুখগুলো ঘুরে বেড়ায় , যাদের মস্তিষ্কের কোষে কোষে 'মেয়েদের এটা করতে হয়, এটা নয়', 'নারী জন্মের আসল সার্থকতা মাতৃত্বে' আর 'বিয়েতেই মেয়েদের মুক্তি' - নামক ঘুণপোকাদের বাস ।
তাদের সামনে কোনও আদর্শ নেই, জীবন গড়ার লক্ষ্য নেই ।
কোনো রেখা কালিন্দীর প্রতিবাদের গল্প তাদের জানা নেই । জানলেও পাত্তা দেওয়ার ইচ্ছে নেই । রূপকথার গল্প শুনেও তাদের হাই ওঠে । কোনো গৃহবধূ পণের জন্য খুন হলে, কোনো মেয়ে মোলেস্টেড হলে তাদের মনে হয় সেই মেয়েরই দোষ ছিল - ' কেন দেয় নি টাকা ?' ' কেন গেছিল রাত্রে একা ? বেশ হয়েছে !'
এই
আমার স্বাধীন ভারতের আগামী প্রজন্ম - এই আমার আগামীদিনের 'শাইনিং ইণ্ডিয়া' ।
এদের পড়াবার লক্ষ্যেই আমার ,আপনার ,আমাদের
সবার দিন শুরু হয় ।
হ্যাঁ আমরা পড়াই । প্রতিটা দিন , প্রতিটা ক্লাসে নরমে গরমে পড়াই আমরা ।
প্রতিটা দিন ভাবি আজ বোধহয় একটা শিবনাথ সোরেন দুর্দান্ত কিছু লিখবে , কারণ কাল তার চকচকে মুখে অনেক ভাবনা খেলতে দেখেছি ।
কিন্তু প্রতিটা দিন আমি ভুলে যাই, সিলেবাসের যেমন নির্দিষ্ট পরিধি থাকে , মোটিভেশানেরও তেমনি গড় আয়ু থাকে... ৩০ মিনিট ।
হ্যাঁ আমরা পড়াই । প্রতিটা দিন , প্রতিটা ক্লাসে নরমে গরমে পড়াই আমরা ।
প্রতিটা দিন ভাবি আজ বোধহয় একটা শিবনাথ সোরেন দুর্দান্ত কিছু লিখবে , কারণ কাল তার চকচকে মুখে অনেক ভাবনা খেলতে দেখেছি ।
কিন্তু প্রতিটা দিন আমি ভুলে যাই, সিলেবাসের যেমন নির্দিষ্ট পরিধি থাকে , মোটিভেশানেরও তেমনি গড় আয়ু থাকে... ৩০ মিনিট ।
আমার
নাছোড় ছায়াসঙ্গী রাফখাতাটা অলক্ষ্যে দেখে আমার হেরে যাওয়ার এক একটা দিন ।
এক একটা যন্ত্রণা সে নীরবে লিখে রাখে ব্যর্থতার হিজিবিজি আঁচড়ে ।
প্রতিটা সকাল সেই আঁচড়গুলোয় আঙুল বোলাই, আর আবারও আশায় বুক বাঁধি কোনও এক সঙ্গীতা বাউড়ির দেখা পাব বলে ।
এক একটা যন্ত্রণা সে নীরবে লিখে রাখে ব্যর্থতার হিজিবিজি আঁচড়ে ।
প্রতিটা সকাল সেই আঁচড়গুলোয় আঙুল বোলাই, আর আবারও আশায় বুক বাঁধি কোনও এক সঙ্গীতা বাউড়ির দেখা পাব বলে ।
" gohon ratri kete ase usa r alo,
ReplyDeletesongi tar notun alo, notun pother disha r ayojon,
tomai jano, bole, ogo asar nesai koro din japon?
vebona, ami achi alo hate adharer jatri hoe,
ektu khani to ratri r ondhokar, naona, soe."