My Attitude!

My Attitude!

Pages

My Blog List

Meet and Recognise-- I, Me and MySelf...!

@@@ ~WELCOME TO MY CYBER WORLD~ @@@











~~~ I am My Own Music, People Want to Get in Touch With Me... Play Your Lyrics By My Rhythm ~~~



Monday, March 2, 2015

গিলোটিন তুমি কার ? প্রতিবাদ আর মুক্তচিন্তার !

Freedom of Expression and Speech , ভারতের সংবিধানের ১৯ নং ধারায় একটি খুব গুরুত্বপুর্ণ মৌলিক অধিকার । যে অধিকারগুলো আমাদের শ্বাস নেওয়াকে সত্যিকার ‘বাঁচা’য় পরিনত করে ।  কিন্তু বর্তমান সময়ে বারবার যে জিনিসটা প্রকাশ্যে বলাৎকার হয়েছে তা হল এই অন্যতম মৌলিক অধিকারটি , যা একটি স্বাধীন সার্বভৌম গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মেরুদন্ড গঠন করে । কথা বলার অধিকার, লেখার অধিকার, বই পড়ার অধিকার, স্বাধীন চিন্তাভাবনার অধিকার, প্রথাগত ধারনার বাইরে যাওয়ার অধিকার, মস্তিষ্ক কে সবরকম গোঁড়ামী আর সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত রাখার অধিকার --- এগুলো ভাত খাওয়া, ঘুমানো, বাজার যাওয়ার মতই একজন স্বাধীন মানুষের খুব জরুরী দাবীগুলোর মধ্যে অন্যতম । এর জন্য মোটা মোটা বই পড়ার দরকার পড়ে না , একটু সংবেদনশীল মন থাকলেই সেটা অনুভব করা যায় ।
অথচ এদেশে এই ১৯ নং ধারায় বলা মানবাধিকারটিকে খুব নির্মমভাবে হত্যা করার জন্য সেই একই সংবিধানে ১৯(২)ধারা তৈরী করা হয়েছে। কি আছে এই ধারায়?
 “Under Indian Law, the Freedom of speech and of the press do not confer an absolute right to express one’s thoughts freely. Article 19 (2) of the Indian Constitution enables the legislature to impose certain restrictions on free speech under following heads:
1.       Security of the state.
2.       Friendly relation with the foreign states.
3.       Public   order.
4.       Decency and morality.
5.       Contempt of the court.
6.       Defamation.
7.       Incitement to an offence .
And
8.       Sovereignty and integrity of India.
                                                              Reasonable restrictions on these grounds can be imposed only by a duly enacted law and not by executive action.”



এখন ব্যাপার হল, এই ৮ টি নিষিদ্ধ জায়গায় কোথাও নির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই । Decency and Morality বা defamation বলতে তুমি ঠিক কি বুঝবে ? কোনো শিশুপাঠ্য নীতিশিক্ষার অপমান নাকি আমার তোমার মত সাধারন পাব্লিককে কেউ গালি দিলো সেটা ? নাকি আমার তোমার জাত-ধর্ম নিয়ে কেউ সমালোচনা করলে সেটা ? এখানেই থেকে যায় আসল ফাঁক ,কথ্যভাষায় ঘাপলা! আর সেই ঘাপলার সুযোগ নিয়ে যে কেউ যে কারুর বাড়িতে হামলা করতে পারে, পুলিশ ডাকতে পারে অথবা দিনে দুপুরে যে কাউকে চাপাতি দিয়ে প্রকাশ্যে কোপাতে পারে । হ্যাঁ, এই সব আক্রমন কিন্তু সব সংবিধানের ঘেরাটোপের আওতাভূক্ত হয়ে পড়ে । ঠিক যেমনটি হচ্ছে মুক্তচিন্তার সাধারন মানুষ, লেখক, সাংবাদিক, সমাজসেবক বা মধ্যবিত্ত শ্রেনীর ক্ষেত্রে ।
ভারতে যেমন ১৯(২)ধারাটি Freedom of Expression এর অধিকারটিকে সপাটে চড় কষিয়েছে, তেমনি  বাংলাদেশের আইনে ৫৭ ধারাটিও একই দোষে দুষ্ট । আইন ও তার প্রায়োগিক কর্মশালার তথাকথিত রক্ষকগন মুক্তবুদ্ধির ও মুক্তচিন্তার প্রচারকদের কন্ঠরোধ করার জন্য সদা তৎপর । কারন, সমাজে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ধর্মের আফিং ও তার ধ্বজাধারীদের প্রশ্রয় দেওয়াটা অধিক জরুরি যেটা এইসব মুক্তচিন্তার মানুষেরা যুক্তি দিয়ে প্রমান দিয়ে সমূলে উৎখাত করে ।
আচ্ছা, নাস্তিক হওয়াটা বা সমকামী হওয়াটা ঠিক কতখানি ক্ষতি করে সমাজের? এরা আমার তোমার বাড়িতে অযাচিত ভাবে এসে উৎপাত করে না,
কারুর মা-বোন-স্ত্রী-কন্যাকে ‘রেপ’ করার হুমকি দেয় না, ড্রাগ মাফিয়ার সাথে ডীল করে না, কারুর পুকুর চুরি করে না, দেশে দেশে যুদ্ধ লাগায় না । তাহলে? তাহলে যেটা ব্যাপার সেটা হল, এরা প্রথা বা সমাজের বহুপ্রচলিত নিয়ম গুলোকে মানে না, যেটা আমরা করতে ভয় পাই এরা সেটাকেই করে দেখায় খুব সাহস নিয়ে , সবার সামনে । এইখানেই আমাদের চোখ টাটায় । তাই আমরা খুব যত্ন নিয়ে ‘নাস্তিক হটাও অভিযানে’ নামি , সমকামীদের অশ্লীল ইঙ্গিত দিয়ে একটা স্যাডিস্টিক প্লেজার পাই । যেন তারা ভিন গ্রহে থাকা জীব, আমাদের মত ‘মানুষ’ না ।
এই না-মানুষগুলোর জন্য তাই সংবিধান বলে কিছু থাকতে পারে না, আইন বলেও কিছু না আর প্রশাসনিক সাহায্য বলেও কিছু না , কিচ্ছু না । এটা আমদের তীব্র সুখ দেয় ।শালা দিলাম তোকে একঘরে করে, এবার দেখ কেমন লাগে !
‘ধর্ম’ একের পর এক যুদ্ধ, সংঘর্ষ, দাংগা পৃথিবীতে লাগিয়েছে , এখনো লাগাচ্ছে । কখোনো ‘ক্রুসেড’ নামে, কখনো ‘জেহাদ’ নামে আবার কখনো দেশভাগ নামে । পৃথিবীর মানচিত্রে একটা গোটা দেশ কেমন তিনটুকরো হয়ে গেল এই একটামাত্র কারনে । তবু ধর্ম-কে কাঠগড়ায় তোলা যাবে না। সংবিধান পারমিট করে না। আর তাই যারা একে নিয়ে সমালোচনা করবে তাদের আমরা বাঁচতে পারমিট করব না । কারন সংবিধান আমাদের ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ দিয়েছে কিন্তু ‘ধর্ম না-মানার স্বাধীনতা’ দেয় নি । এখন তুমি কোন বড়লাট এলে হে, ধম্ম মানো না ! অতএব ধর্মগুরুদের হাতে যেমন ধর্ম গ্রন্থ আছে, তেমনি ‘শিক্ষিত’ জনগনের জন্য নির্মিত গনতন্ত্রের হাতে দেশ চালানোর আধার মোক্ষম ওই বইটা আছে যা অ-ধার্মিকদের কোপানোকে ‘মোরালিটি রক্ষা’র বা ‘ডিফেমেশন থেকে ধর্মকে বাঁচানোর’ অধিকার দিয়েছে । অতএব যারা নাস্তিক কোপাবে তাদের বিরূদ্ধে অ্যাকশন নেবে কোন পুলিশ ?
তাই বাঁধা গতের বাইরে যারাই চিন্তা করবে, বলবে, লিখবে, সভা করবে তারা যদি অতি বড় পন্ডিতও হয় তবু আমরা তাকে কোতল করার লাইসেন্স রাখি ।সারা পৃথিবীজুড়ে উদাহরণ ভূরি ভূরি । তাদের মধ্যে বেশকিছু চেনা জানাদের নাম। লেখক-শিল্পীদের মধ্যে যেমন- সলমান রুশদি, তসলিমা নাসরিন, মকবুল ফিদা হুসেন, নরেন্দ্র দাভোলকার , হুমায়ুন আজাদ, ব্লগারদের মধ্যে রাজীব হায়দার, আসিফ মহিউদ্দিন, অভিজিৎ রায় , সচেতন শিক্ষিত মানুষদের মধ্যে যাদবপুরের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র, বা সামান্য প্রতিবাদি কৃষক শিলাদিত্য চৌধুরি । আরো অনেকে আছে । এদের অপরাধ একটাই । এরা খুব যুক্তিবাদি প্রশ্ন তোলে সব রকমের বাঁধা গতের প্রতি, আংগুল তোলে প্রচলিত ধ্যানধারনার যৌক্তিকতার দিকে, যা কখনো মৌলবাদীদের আবার কখনো সরকার বাহাদুরের কাছে একদম ভালো লাগে না , চোখে বালির মত কড়কড় করে । তাই শানাও চাকু, চালাও গুলি, কর দেশছাড়া, দাও নির্বাসন, ফেলে দাও জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে ।
অম্বিকেশ মহাপাত্র সামান্য কার্টুন এঁকে শাসক গোষ্ঠির কুনজরে পড়েছিলেন ও তার ফলে জেলের কুঠুরিতে ঠাঁই পান । শিলাদিত্য চৌধুরি প্রকাশ্য সভায় মুখ্যমন্ত্রীকে নির্ভিক কিছু প্রশ্ন করেছিলেন ‘সারের দাম বাড়ছে কেন ?’ইত্যাদি । তাই তাকে দাগানো হল ‘মাওবাদী’ হিসেবে, যে ট্যাগটা আমূল বদলে দিল তার জীবন, সমাজের কাছে, দেশের কাছে, সভ্যতার কাছে ।বড় আইরণিটা হল, সে অনেক পরে জেনেছিল এই শব্দটার মানে !

হুসেন, রুশদি, তসলিমা দেশত্যাগী হয়ে বেঁচেছেন ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনও তাই আজ ৮ বছর হল পশ্চিমবঙ্গ থেকে ওরা তসলিমাকে তাড়িয়েছে, তাঁর স্বদেশ থেকে তো আজ ২২ বছর হল ‘ব্যান’ তিনি, পৃথিবীর নানাদেশে নিয়েছেন আশ্রয়।  কিন্তু সবাই পারেনি এভাবে বাঁচতে । বিখ্যাত বই ‘নারী’-র রচয়িতা হুমায়ুন আজাদ, বা ব্লগার রাজীব হায়দার পালাতে পারে নিপ্রথমজনকে ২০০৪ ঢাকার বইমেলায় কুপিয়ে মারার চেষ্টা হয় আর পরেরজনকে  দু বছর আগে ২০১৩ সালে নিজের বাড়ির সামনে কুপিয়ে খুন করে জামাতী ইসলামীরা নাস্তিক আসিফ মহিউদ্দিন মুক্তচিন্তার আধারে ধর্ম ও সবকরমের ধর্মিয় গোঁড়ামির জন্য ব্লগ লিখতেন বলে তাঁর উপর হামলা চালায় মৌলবাদি গোষ্ঠি । তারপর দীর্ঘদিন হাস্পাতালে কাটানোর পরে বাংলাদেশ পুলিশ এসে তাঁকেই গ্রেফতার করে ও আটদিনের জন্য রিমান্ডে পাঠায় । আরেক জন নাস্তিক ও বিজ্ঞনমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় আমেরিকায় থাকতেন । ফতোয়া-হুমকি ছিলই অনেকদিন ধরে । তাকে ধরাছোঁয়া এতদিন সম্ভব হচ্ছিল না । এবছর মৌলবাদীদের কাছে সুযোগ এসে গেল যখন তিনি দেশে এলেন নিজেরই লেখা দুটি বই প্রকাশ করতে ২৬ শে ফেব্রুয়ারি’১৫ ঢাকা বইমেলা চত্বরের বাইরে পেছন থেকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে রাত সাড়ে ন’টার সময়ে তাকে খুন করল ইসলামভক্তরা  অভিজিৎ রায় একজন স্বনামধন্য লেখক ছিলেন। জটিল একাডেমিক বিষয় গুলোকে সহজ সরল করে বাঙ্গালী পাঠকদের জন্যে লেখা ছিলো অভিজিৎ এর প্রধান লক্ষ্য। প্রকাশিত এবং ম্যানুস্ক্রিপ্ট মিলিয়ে, অভিজিতের মোট দশ এগারোটি বই আছে । তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে লিখতেন বলে জনপ্রিয় ছিলেন না, তিনি বিজ্ঞান নিয়ে লিখতেন বলেই জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি আমাদের ভাষায় বিজ্ঞান নিয়ে লেখাকে স্কুলের গন্ডীর বাইরে জনপ্রিয় করেছেন। তিনি গত বারো চোদ্দ বছর ধরে লিখে গেছেন ধর্মীয় আচার বিচারের বিরুদ্ধে, ধর্মীয় আইকনিজমের বিরুদ্ধে, ধর্মীয় ফ্যানাসিজমের বিরুদ্ধে। আর লিখে গেছেন ধর্মকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা, তথাকথিত সংস্কারকে মান্যতা দিয়ে লালন করে চলা বিভিন্ন সামাজিক অন্ধকারের বিরুদ্ধে। তিনি সমকামিতা নিয়েও লিখেছেনযে সমকামিতাকে আমরা, ভারতীয়রা, ভারতের সংবিধান এবং ভারতের সমাজ অপরাধের চোখে দেখি অভিজিতের দোষ, সে নাস্তিক। সমস্তরকম ধর্ম ও তার নিয়মনীতি গুলো মানত না বরং তার সমালোচনা করত। ব্লগার আসিফ ও রাজীবেরও সেই দোষ ছিলতসলিমারও তাই । বাংলাদেশে ‘নাস্তিক’ শব্দটি একটি সাংঘাতিক খারাপ গালি । যে নাস্তিক সে বাঁচার অধিকার হারায়। একটাই রাস্তা হয় দেশ ছেড়ে পালাও , নয় তো চুপ করে আত্মসমর্পন কর । অবিশ্বাসের দর্শন’, ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’-এর লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় কোন অধিকারে বেঁচে থাকবেন, নিশ্বাস নেবেন সেদেশে !  আমাদের দেশেও একই অবস্থা কালোজাদু ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালানোয় খুন হতে হয় নরেন্দ্র দাভোলকরকে, শিল্পের খাতিরে ছবি আঁকার জন্য দেশছাড়া হতে হয় মকবুল ফিদা হুসেনকে, ইসলামবিরোধী কথা বইতে লেখার জন্য কলকাতায় থাকার অধিকার হারান তসলিমা নাসরিন আর এদিকে একজন খুনী গণহত্যাকারী  হঠাৎ করে চমকে ধমকে প্যারাসাইট-ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যায় ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যরক্ষার অধিকারে বিল পাস করায় কিন্তু নাস্তিকদের জন্য কোনও অধিকারই থাকে না

ধর্ম, ধর্মবিশ্বাস আসলে খুব ঠুনকো জিনিস। সামান্য ঠাট্টা-সমালোচনাতেই ভয়ে কেঁপে ওঠে ধর্মের ভিত । কোনো অর্বাচীন প্রশ্ন করলেই ‘ধর্মানুভূতি আহত’ হয় । তখন কলমের বিরুদ্ধে ঝলসে ওঠে ধর্মের তরবারি।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত সবখানেই কমবেশি একই অবস্থা
গুজরাতে দেখিনি আমরা ?মুজফফরনগর দেখি নি ? বাড়ির পাশে ত্রিলোকপুরি দেখছি না?
আমার ধর্ম অমুক, তুই ব্যাটা বিধর্মীআমি সবচেয়ে বেশি ভগবানের পেয়ারের বান্দা ।
হয় ‘ঘর বাপসি’ কর, নয় তো জ্বলেপুড়ে মর এই তো ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার নয়া ট্রেন্ড ।

খুব জানতে ইচ্ছে করে,  এতে কি রাষ্ট্র তার মিথ্যাচারি আইন ও ধর্মান্ধতার পরাকাষ্ঠাকে অভয় দিতে পারে? নাকি আরো কিছু সাদামাটা যুবককে এইসব অন্ধত্ব, ভীরুতা, অন্যায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা যোগায় !

মানববাদ বা Humanism খুব বড় একটা জিনিস , যা অভিজিৎ রায়ের মত মানুষের মনকে আমাদের মত ক্ষুদ্র বানায় না ,বরং সোচ্চারে বলতে শেখায়, “আমি নাস্তিক। কিন্তু আমার আশে পাশের বহু কাছের মানুষজন বন্ধু বান্ধবই মুসলিম। তাদের উপর আমার কোন রাগ নেই,  নেই কোন ঘৃণা। তাদের আনন্দের দিনে আমিও আনন্দিত হই। তাদের উপর নিপীড়ন হলে আমিও বেদনার্ত হই। প্যালেস্টাইনে বা কাশ্মীরে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর অত্যাচার হলে তাদের পাশে দাঁড়াতে কার্পণ্য বোধ করি না। অতীতেও দাঁড়িয়েছি, ভবিষ্যতেও দাঁড়াবো। এটাই আমার মানবতার শিক্ষা।
তাই তো তাঁর খুন হওয়া নিয়ে প্রতিবাদ ঝলসে ওঠে শ্রীজাত-র কবিতার ছত্রে," যে এখনও ভেবে দেখছ পথে নামবে কিনা / আমি তার মনুষ্যত্ব স্বীকার করিনা
লেখিকা তসলিমা নাসরিন তাঁর কলামে সোচ্চারে বলেন, “কিছু কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা অন্যকে বাঁচানোর জন্য পৃথিবীতে বেঁচে থাকেন । নিজেকে বাঁচানোর জন্য নয় । অভিজিৎ রায় ছিলেন সেরকম দুর্লভ একজন মানুষ ।“
যে বাংলাদেশে শাহবাগের মত শুভচেতনার মঞ্চ তৈরী হয়েছে, নতুন তরুণরা প্রান দিয়েও নিজেদের দাবী, চিন্তাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে পেরেছে, পেরেছে জামাতের মত অন্ধ দলকে কোণঠাসা করতে, সেই দেশে মুক্ত চিন্তার মানুষদেরই কেন বারবার অগ্নি পরীক্ষা দিতে হবে ? একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি এটা কাম্য ?
প্রতিটি স্বাধীন দেশ কিছু আইন বানাবে, যার যূপকাষ্ঠে শুধু বলি হবে মুক্তচিন্তার নব নব সংযোজনএরই নাম কি ‘গনতান্ত্রিক স্বৈরাচার’ ? যেখানে গদিতে আছেন জনগনের দ্বারা নির্বাচিত প্রশাসক আর অঙ্গুলি হেলাচ্ছে তাঁদের তাঁবেদার মৌলবাদীরা !
"A pen is mightier than sword."
“সব অস্ত্রের চেয়ে বড় হল কলম
আজ যে পৃথিবীতে আমরা শ্বাস নিচ্ছি তাতে এই প্রবাদ কি প্রিটিংমিস্টেক নয় ?
হ্যাঁ এটাকে শ্বাস নেওয়াই বলে । বেঁচে থাকা বলে না ।
বাংলাদেশ এখন বাংলাস্তান হয়ে গেছে ।
মস্তিষ্কের স্বাধীনতা যেখানে নেই সেখানে কি লাভ ২১ শে ফেব্রুয়ারির শোক সভার, শুভেচ্ছার , উৎসবের?
কি দরকার অমন মেলার যেখানে বই-য়ের জন্মই হয় ‘ব্যান’ হওয়ার জন্য ।
বুক ফুলিয়ে বইমেলায় ঘুরে বেরায় জংগিরা আর তাদের নজরদারিতে বিক্রি হয় লেখক-প্রকাশকদের আত্মসম্মান, জাত্যাভিমান, সততা ।
কিসের স্বাধীন দেশ তোমাদের যা মুক্তচিন্তকদের রক্ত ছাড়া একদিন পার করে না?
কিসের এত আবেগ, কিসেরই বা জাত্যাভিমান তোমাদের, যে জাতি আজ বিশ্ব দরবারে ধর্ষিত জাতি রূপে স্বীকৃত ?
আইএস এর সিরিয়া , তালিবানী আফগানিদের দিকে যখন তর্জনী তোলো, নিজের দিকে তোমারই চারটি আঙ্গুল ইশারা করে, মনে থাকে তোমাদের ?
হে মুজিব জাত স্বাধীন বাংলা , এই কি তোমার গনতন্ত্র, সাম্যবাদ ? যেখানে মানুষ নিঃশ্বাস নিতে ভয় পায়? নিজের দেশের মাটিতে হাঁটতে ভয় পায় ?
'বাংলা' নাকি সংস্কৃতির আরেক নাম?
বাংলায় নাকি ভুরি ভুরি গদ্য-পদ্য-সাহিত্য আর আঁতেল জন্মায় মিনিটে মিনিটে ! ২১ শে ফেব্রুয়ারি নাকি এই এক ভাষার জন্যই রক্ত ঝরেছিল ভাষাশহীদদের ?
পৃথিবীতে আর কোনো ভাষার জন্য এমন মারকুটে আবেগ তো শুনিনি, দেখিনি, পড়িনি , জানি নি । সেই কোন ছোট থেকে 'অমর _____' শুন্যস্থানে কেবল '২১ শে'ই বসবে জানতাম ।
আজো দেখি বাংলাদেশ বা পশ্চিমবংগ থেকে লোক এসেছে শুনলে দেহাতি গুজরাতিও বলে, "টেগোর কি দেশকা মেহমান হ্যায়কাউকে চিনুক না চিনুক ভিনরাজ্যের মানুষ সর্বাগ্রে বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে বুলি কপচায় । বাঙালি পানওয়ালাও তখন এক্কেবারে পোড়খাওয়া আঁতেলের মত কিছুই না বুঝে নিজেকে বেশ একখান কেউকেটা বলে বুকের ছাতি ফোলায় । এরমই বাংলার পরিচয় ছিল এককালে । এখন এসব অতীত!
সেই টেগোর, নজরুল, রোকেয়া, জীবনানন্দ আরো কত শত নামি দামি কবি সাহিত্যিকের এই ধরাধামে বিশ্বখ্যাত বইমেলা হয় । হ্যাঁ দু'পাড়েই । সারা ফেব্রুয়ারি জুড়ে বইয়ের হাট, মেলা, বাঙালির ১৪ তম পার্বন।
পৃথিবীর কম সে কম ১৪৫ রকমের আঞ্চলিক ভাষার আর কোনও বইমেলার এমন জয়ডঙ্কা বাজাতে কাউকে দেখেছে কিনা কস্মিনকালেও কোনো ধুরন্ধর বইব্যাবসায়ীও মনে করতে পারবেন না ।
এবারে বাংলাদেশের সেই একুশে বইমেলায় ‘রোদেলা প্রকাশনী’ থেকে ১৪০০ বছর আগের এক মৃত মানুষের, মানে ‘মহাম্মদের ২৩ বছর’ নামে একটা বই রিলিজ হয় এবং অবধারিত ভাবে তা মোল্লাতন্ত্রের ধর্মানুভূতিতে চোট ফেলে । ফলস্বরূপ তাঁরা প্রকাশককে হুমকি দেয়, নির্দেশ দেয় বই না-বেচার এবং তাঁদের ভয়ে প্রকাশক ব্যান বোর্ড ঝুলিয়ে স্টলের গায়ে কালো বোরখা চাপায়
বইয়ের মেলায় বই-ই মুখ ঢাকে। আর অশিক্ষিত মোল্লারা জংগিপনা করে ঘুরে বেড়ায় । বাজার চলতি বইয়ের শক্তি যে আল্লার কেতাবের চেয়েও বেশি তা ওরা প্রতিবার নিজেরাই প্রমান করে ।
এই ঘটনায় বিনা কারনে বিশ্বখ্যাত বাঙালি লেখক তসলিমা নাসরিনের বই লুকিয়ে ফেলার তাগিদ হঠাৎ করে অনুভব করে বাঙলা একাডেমী। হুমকির ভয়ে তারা সাত তাড়াতাড়ি দোকানের ঝাঁপি নামিয়ে , বই লুকিয়ে তসলিমাকে আরো একবার 'ব্যান' করে । কি ব্যাপার ? না, যুদ্ধ এসেছে, মোল্লা চটেছে !
কান্ড বটে !
মোহাম্মদহীন , আল্লাবিহীন বই আজকাল শুধু মোল্লাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেয় না । প্রকাশকদেরও নেয় । মরার আগে নাকি ভিতু মরে লাখবার । আর এমন প্রকাশক যারা নাকি বড় গর্বের সাথে বাংলার 'প্রথম সারির প্রকাশক' হিসেবে নিজেদের অভিহিত করে, তারা এমন কাজ করে প্রমান করে আল্লার চেয়েও মোল্লা বড় ওদের চটানোর জন্য পিঁপড়ে সমান সুযোগও যদি থাকে তাও ছাই দিয়ে চাপা দেবে । 
'
তসলিমা' নামটাই যদি বন্ধ করে ব্যবসা ? তাই প্রথম সারির প্রকাশকের শ্রদ্ধাবনত শির সসম্মানে মোল্লা তন্ত্রের চাপাতির আগে ঝুকিয়ে রাখবে , যদি দয়া করে চাপাতির কোপ মিস হয় !
সব অস্ত্রের চেয়ে বড় নাকি কলম । আর সেই কলমের জোরে টিকে থাকে লেখক । আর সেই লেখক ভাঙ্গিয়ে মুনাফা কামায় প্রকাশক । আর অশিক্ষিত মৌলবাদী হুমকির কাছে আত্মসমর্পনের জন্য সেই মুনাফাদাতা লেখককেই নির্বাসনে পাঠায় বাংলা একাডেমী ।
হ্যাঁ, বাঙালির গর্বের একুশে-বইমেলায় ।
বইমেলায় আজ আর বই নয় বিক্রি হয় ভিরুতা, নীচতা, শঠতা । 
মৌলবাদের আজ্ঞাকারী দাস যত বাড়ে, বইমেলায় তত কমে 'বই', জায়গা নেয় ফতোয়াদাতা আর তার পালনকারিরা ।
এই ফেব্রুয়ারি বইমেলার জন্মই হয় ২১ শের ভাষাদিবসের স্মরণে। কারন বাংলাদেশে ২১ শে ফেব্রুয়ারি আমাদের মত শুধুমাত্র ‘মাতৃভাষাদিবস’ নয়, ‘শহিদ দিবস’ ভাষা শহিদ-দের স্মরণে নানা উৎসব আয়জন হয়। বাংলা ভাষা । দেশের ভাষা । নিজের মায়ের ভাষা । মাতৃদুগ্ধের পরেই নাকি যার স্থান বাঁধা । এ ভাষা নাকি প্রতিবাদির রক্তে বয় । এ ভাষা নাকি চেতনার ভাষা । এ নাকি স্বাধীনতার ভাষা ।
আজ সেই ভাষাকে দেখতে হচ্ছে মোল্লার দাঁতের ফাঁকের ভাষা । মৌলবাদের ভাষা । নির্বাসনের ভাষা । হুমকির ভাষা । নিষীদ্ধ ভাষা । ভীরুতার ভাষা । আত্মসমর্পনের ভাষা। গ্লানীর ভাষা।
বড্ড আফশোস, আমরা এমন এক Islamized ভাষায় কথা বলি , কবিতা লিখি, গান গাই ।
বিগত কয়েক দশক ধরেই এপাড় ওপাড় দুপাড়েই প্রস্তুত হয়েছে  মৌলবাদের ভুমি, যা দখল করেছে আমাদের এই সাংস্কৃতিক মাতৃভূমিকে  আশেপাশে তাকালেই চোখে পড়ে ২০১৪ সালের ভারত বা বাংলাদেশকে । মুজাফফরনগর থেকে রামপুরহাটের খরমাডাঙ্গা বস্তি জ্বালানো , নানা প্রলোভন বা জোর করে ধর্মান্তরকরণ এই সবই ‘স্বচ্ছ ভারতে’র নিদর্শন ! শুধু ভারতেই নয় সারা পৃথিবী জুড়ে চলছে ধর্ম-উন্মাদদের আস্ফালন । শরিয়া আইন প্রচলনের পক্ষে ইসলামি দেশগুলো জাতিসঙ্ঘের কাছে দরবার করছে বিশ্বব্যাপী ব্লাসফেমী আইন বলবৎ করার জন্য । জানি না জাতিসঙ্ঘ কোন ভোট ব্যাঙ্কের ভয়ে গ্রহণ করেছে তাদের আপীল, ভেবে দেখছে তাদের দাবী ! বড্ড কঠিন সময় চলছে ।
২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল জাতীয় বিজ্ঞান দিবস তার ক’দিন আগে বিশ্ব হারালো একজন বিজ্ঞান সাধককে । মুক্তমনা, বিরল প্রতিভা চিরতরে মুছে গেল মৌলবাদের উদ্ধত চাপাতির আস্ফালনের কাছে  আমরা তবে কাদের জন্য গর্ব করব ? কিভাবে লাগাব সচেতনতার জয়টীকা আগামীর কপালে ?
মস্তিস্কই যখন শেকল বন্দী, তবে কার কাছে প্রজ্জ্বলিত করব মুক্তচিন্তার প্রদীপ ?
সেলুকাস ! এ তো ভঙ্গ বঙ্গদেশ । এখানে সত্য বলো না, ন্যায়বিচার চেওনা । কোপানো হবে ।
তারচে বরং ধর্মের জয়ধ্বনী কর । ফেসবুকে ফারাবীরা ১০০ লাইক দেবে ।
বিচারের বানী এখানে নিভৃতে কাঁদে না , আজকাল ড্যাবড্যাব চোখে চেয়ে দেখে মানুষের রক্তের রং দিন দিন কালচে হচ্ছে কিনা ! আজকাল আর মাথার দাম ঘোষনা নিয়ে মিছিলে মুখ ঢাকে না মৌলবাদের শহর।
টুইটারে, ফেসবুকে কত সহজে কত খোলাখুলি এরা ঘোষনা করে কবে কখন কাকে কিভাবে হত্যা করা হবে। এক সাথে মিলিয়ন মানুষকে বুক ঠুকে জানান দেয় আমরা আছি , থাকব পৃথিবীর শেষ দিন অবধি।
'আনসার বাংলা ৭' -- এক অখ্যাত মৌলবাদী গোষ্ঠি আজ 'মুক্তমনা' হত্যার দায়ে রাতারাতি বিখ্যাত নাকি কুখ্যাত আর এদিকে আমরা মুখ লুকাচ্ছি লজ্জায় এইভাবে যদি দেশ হাঁটতে থাকে বছরের পর বছর, তবে কোন এক সুন্দর সকালে সংবিধানে মুক্তচিন্তার বিরূদ্ধে আইন লাগু হবে । জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে শরিয়ার মত নৃশংস আইন সবার মাথায়
গ্লোবাল ইসলামাইজেশনের জেরে পৃথিবীর অভিধান থেকে মুছে যাবে 'সেকুলার' শব্দটা
দেশগুলো সব বোরখার কালো অন্ধকারে ঢেকে রাখতে বাধ্য হবে নিজেদের মানচিত্র
মুক্তচিন্তার প্রসারের ভয়ে ভীত ধর্ম ও তার সন্ত্রাসী পেয়াদারা পৃথিবী থেকে কেড়ে নেবে স্কুল -কলেজ-বই-কলম-কম্পিউটারব্লাসফেমাস-দের নির্বিচারে কোপানো হবে দিনে দুপুরে
একবার কল্পনা কর এমন এক পৃথিবী যেখানে বাড়ির বাচ্চাটি স্কুলে না গিয়ে প্রান রক্ষার তাগিদে হাতে তুলে নিচ্ছে নিজের চেয়েও ভারি AK 56 ! অভিজিত রায়ের পরে , আমার মনে হয়, এমন এক সকাল আসতে খুব দেরি নেই ।
কারন আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গেই আমরা দেখেছি খাগড়াগড় কেমন করে সবার চোখের সামনে হয়ে উঠেছে জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় । মন্ত্রীসান্ত্রীকে সঙ্গ দান করে দিল্লীর মিটিং এ যাচ্ছে দাগী আসামী এক জামাতি । পোষা হচ্ছে ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের ।কেনা হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্র , বোমা, বারুদ ।ভোট ব্যাঙ্কের লোভে নির্বিচারে চলছে ধম্মব্যবসায়ীদের তোল্লাই দেওয়ার কাজ । রাজ্যের রাজারানী তাঁর সুস্থচেতনার মাথাকে ঢেকে রাখছেন অন্ধকার হিজাবে । বাধা দেওয়া হচ্ছে নিরপেক্ষভাবে তদন্তের কাজ । পাছে ইসলামি ভোট কমে, তাই বলা হচ্ছে 'সাজানো ঘটনা' / 'বিছিন্ন ঘটনা' বিভ্রান্ত করা হচ্ছে মানুষকে ।
তিস্তার জল বৈঠক অজানা কারনে কোন সমাধান সুত্র বের করছে না । যাতে এদেশের ইসলামি মানুষদের এই বার্তা দেওয়া যায় " দেখ, আমরা ওদেশের 'সেকুলার'; 'শাহবাগী' মুসলিমদের সাথে নেই । তোমাদের সাথে আছি, পাশে আছি ।"

এসবই দেখছি আমরা । আর বড় ভয়ে ভয়ে বাঁচছি । তবু আমাদের মধ্যে যাদের শিরদাঁড়া বড্ড ঋজু তারা থামাচ্ছে না মিছিল, মুক্তকন্ঠে ভসে আসছে কলরব, “বানায় কারা নিয়ম কানুন, শানায় কারা আক্রমন / শরীর যদি ভাঙল তবু সজাগ হয়েই থাকল মন।“
যারা ভাবছেন যে ব্যতিক্রমী লেখক, শিল্পীদের উপরে এই আঘাত শুধু মাত্র ওদেঁর একান্ত নিজস্ব ঝামেলা, তারা ডাহা ভুল ভাবছেন আজ যা ওনাদের হয়েছে, সাধারন মানুষ শিলাদিত্যের হয়েছে,  কাল তা আমাদেরও হবে । রাস্তার কিছু লোক হয়তো স্রেফ আমাদের চেহারা কালো বলে অ্যাসিড ছুঁড়ে যাবে মুখে, বা হয়তো পছন্দের গান শুনছি বলে কান কেটে নেবে, অথবা ওদের পছন্দ মত চলতে পারছি না বলে কুপিয়ে যাবে দিন দুপুরে । আর রাষ্ট্রযন্ত্র তখনও আইনের ফাঁসে অসহায় গিলোটিন হয়েই থেকে যাবে । একের পর এক আমজনতা নিপীড়িত হবে , মানবাধিকার হারাবে আর দেশ চেয়ে চেয়ে দেখবে কতটা কালচে হচ্ছে রক্তের লালীমা ।
হে মোর প্রিয় দেশ, যদি তুমি এখনো মেতে থাকো ১০৮ রকম ধর্মচর্চায়, তবে শেষের সেদিন কিন্তু ভয়ংকর যেদিন আমরা মুক্তচিন্তার মানুষজন থাকব না সেদিন জবাব দিও নবপ্রজন্মকে কারন, কোনো রাষ্ট্রআইন কারুর মস্তিষ্ককে গ্রেফতার করতে পারে না, যদি তা আলোকপ্রাপ্ত হয়, সুস্থচেতনার আধার হয় । প্রশ্ন আসবেই ধেয়ে। তখন পারবে তো উত্তর দিতে ?
আমরা সেদিন থাকব না ঠিকই, তবু  মনে রেখ, ইতিহাস কিন্তু কাউকে ছেড়ে কথা কয় না ।

Sunday, August 31, 2014

'অনার কিলিং'-এর পর ২০১৪ তে নারী নিধনের নয়া অজুহাত 'লাভ জিহাদ'



শাস্ত্রে বলেছে ‘স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহ’ ।




ভারতের নয়া গেরুয়া সরকারের অশুভ আঁতাতকামী দল 'রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ' ও আরও কিছু দল নারী নিধনের একটি নয়া তরিকা বের করেছে একটি আপাত আঁতকে ওঠা নাম দিয়ে - 'প্রেম জেহাদ' ।


কি এই বস্তু ?


উত্তরপ্রদেশ , ঝাড়খন্ডসহ বিক্ষিপ্ত কিছু প্রদেশে ভিন ধর্মে বিয়ে করার পরে নব বিবাহিত মেয়েরা নানা ভাবে ঠকেছে ও অত্যাচারিত হয়েছে ।

তাই নিয়ে সারা দেশ জুড়ে হৈ চৈ । বলা হচ্ছে, মুসলিমরা পরিকল্পিত ভাবে, ষড়যন্ত্র করে অসহায় হিন্দু মেয়েদের প্রলুব্ধ করে বা স্রেফ ভয় দেখিয়ে, অথবা বলপ্রয়োগ করে প্রেমের অভিনয় করছে, তার পর নিকাহ্ নামা পড়িয়ে বেগম বানিয়ে পর্দানশিন করে ফেলছে। এর পিছনে নাকি রয়েছে আন্তর্জাতিক চক্র, যারা অর্থ জোগাচ্ছে ধর্মান্তরকরণের এই অভিনব প্রকরণে। এই সব ঘটনাকে ডাকা হচ্ছে ‘প্রেম জেহাদ’ বা ‘রোমিয়ো জেহাদ’ বা 'লাভ জেহাদ' রূপে ।

তার উত্তর দিতে উঠে পড়ে লেগেছে মুসলিম সংঘ বা মোল্লা গোষ্ঠি । এই বিষয়টির সাথে ইসলামের কোনো আঁতাত নেই ইত্যাদি বলে পালটা প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে তারা ।

এখন ব্যপারটা হল, হিন্দু মেয়েদের মুসলিম ছেলেদের প্রেমে পড়া ও পরিণামে ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়া ‘জেহাদ’ বলে গণ্য হবে কেন? কেনই বা ধরে নেওয়া হবে যে, প্রেম যখন জাতপাতের অবরোধ মানে না, তখন ধর্মের বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বাধা মানবে? হিন্দু ছেলের মুসলিম মেয়ের প্রেমে পড়া বা উল্টোটা কি এতই অসম্ভব কোনও প্রকল্প যে, তা অস্বীকার করতে একটা বিশাল আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের গল্প ফাঁদতে হবে? আসলে ভিন জাতে বিয়ে মানে তো কেবল পরিবারের এত দিনের খেয়ে পড়া মেয়ে / ছেলেটা হাত ছাড়া হল তাই নয় ; এত দিনের ধর্মচর্চাও জোড় ধাক্কা খেল প্রেমিক যুগলের আডাল্ট ডিশিসনের কাছে ।

হিন্দু পিতৃতন্ত্রের পক্ষে এই ‘পরাজয়’ শিরোধার্য করা তো দুঃসহ। এই পিতৃতন্ত্র আজও খাপ পঞ্চায়েতের ফরমান দিয়ে ঘরের মেয়ে-বউদের অসূর্যম্পশ্যা রাখতে চায়, স্বগোত্রে বিবাহ নিষিদ্ধ করে, অসবর্ণে বিবাহে চোখ রাঙায়, দলিত যুবকদের উচ্চবর্ণীয় মেয়েরা বিয়ে করলে বা প্রেম করলে জ্যান্ত ফাঁসি দেয় বা চণ্ডীমণ্ডপে মেয়েটিকে সমবেত ভাবে ধর্ষণ করে টাঙিয়ে বা পুড়িয়ে দেয়। হিন্দু নারী হিন্দু পুরুষের, হিন্দু পিতৃতন্ত্রের একান্ত লীলাক্ষেত্র। সেখানে কোনও অনধিকার প্রবেশ বরদাস্ত হবে না। পরিবার ও সনাতন ধর্মের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় প্রয়োজনে বিধর্মীর দিকে ঝোঁকা মেয়েদের হত্যা করা হবে । তবু হিন্দু পুরুষের পৌরুষ কলঙ্কিত হতে দেওয়া যায় না।

বিজেপির সাংসদ যোগী আদিত্যনাথ তাই হুঙ্কার ছেড়েছেন— "ওরা যদি আমাদের একটা মেয়েকে বিয়ে করে, আমরা তবে ওদের একশোটা মেয়েকে বিয়ে করব।" মুশকিল হল, হিন্দু পুরুষের বহুবিবাহ বেআইনি। তার চেয়ে বরং মুসলিম বিদ্বেষ লালন করা ও ছড়িয়ে দেওয়ার সহজ পথটাই বেছে নেওয়া ভাল। বিদ্বেষ ও ঘৃণা অপেক্ষাকৃত সহজ হয়, যদি তাকে নারীর সম্ভ্রম, শ্লীলতা, সতীত্ব ও যৌনতার ধারণার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নেওয়া যায়। 'প্রেম-জেহাদে'র ধারণাটা সে দিক থেকে বেশ উপযোগী । 'প্রেম জেহাদ' থেকে হিন্দু নারীদের রক্ষা করার নামে তাদের উপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া হবে। তাদের বাইরে বের হওয়া, সকলের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করায় নিষেধের দেওয়াল উঠবে, তাদের সদ্য-সূচিত ক্ষমতায়নের প্রকল্প মাঝপথে ধাক্কা খাবে। প্রেম-জেহাদ থেকে রক্ষা করার অজুহাতে হিন্দু নারীর প্রতি পিতৃতন্ত্রের বৈষম্য ও পীড়ন আরও বৃদ্ধি পাবে। নারীর বিরুদ্ধে ঘটতে থাকা পারিবারিক ও সামাজিক হিংসাও আরও প্রতিকারহীন হবে। পরিবারের সম্মানরক্ষার নামে ‘বিপথগামী’ মহিলাদের নিধন বাড়তে থাকবে ।

এই ভিন জাতে বিয়ের ব্যাপারে প্রথম থেকেই নানা বাধা , অত্যাচার , অনার কিলিং ইত্যাদি আপদ বিপদ মেয়েদের জন্য একচেটিয়া বিষয় ছিলই । কি গুজরাটে ,কি মহারাষ্ট্রে , কিম্বা পশ্চিমবঙ্গে । এখন ধর্মব্যবসায়ীদের জারি করা এই নব্য আইটেমে এবার তাহলে হিন্দু মেয়েদের 'সম্মান' বাঁচাতে পায়ের বেড়ি আরও মজবুত করা হবে, মেয়েবেলা থেকে লালিত পাশের বাড়ির যুবকটির দিকে প্রমাতুর দৃষ্টিতে তাকানোমাত্র জবাই করার জন্য রামদা হাতে ছুটে আসবে রামপন্থি , গেরুয়া ধারী , তিলককাটা তাবৎ ধর্মরক্ষক বাহিনী ।

আন্তর্জাতিক বাজারে এমনিতেই মেয়েদের জন্য নিরাপদ কোনও দেশ নেই । এত দিন মুসলিম জেহাদি, তালিবানি, শরিয়তি নানাবিধ ফতোয়ায় জেরবার ছিল নারী জীবন । কি ঘরে, কি বাইরে সর্বত্র ধর্মের বেড়ি নিষিদ্ধ করেছে তাদের ঋজু চলাফেরা । না মানলে কোতল করেছে প্রকাশ্যে , নইলে ছুঁড়েছে ঢিল মৃত্যু না আসা পর্যন্ত । আবার অন্য ধর্মের মেয়েদের পছন্দ-অপছন্দের ডানা ছাঁটতে 'অনার কিলিং' এর নামে নির্বিচারে নারীহত্যাকে আধুনিক ধর্মরক্ষা, পরিবারের মান রক্ষার মত ডাকসাইটে নাম দিয়ে এসেছে সুশিল সমাজ । না, এটা ভাবলে ভুল হবে যে শুধু অবাঙ্গালি রাজ্যে-পরিবারেই মেয়েদের এই বলিপ্রথা চলছে ; বরং এই পঃবঃ এও এর ধারা চলে এসেছে । খোদ কলকাতাতেই একটি থানায় বোনের কাটা মুন্ড হাতে দাদা ধরা দিতে এসেছে - বুক ফুলিয়ে স্বীকার করেছে অনার কিলিং এর কথা ।

এবার এই নয়া 'লাভ জেহাদ' এর ধূঁয়া তুলে রাজনীতির কারবারি আর তাদের অশুভ মিত্রশক্তিরূপী সাম্প্রদায়িক দল গুলি যদি এইভাবে দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের জঘন্য খেলায় নেমে পড়ে তবে ভারতীয় মেয়েরা যাবে কোথায় ?

আমার চেনা কয়েক জন মুসলিম মেয়ে বাড়িতে শরিয়তি অত্যাচারের হাত থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার জন্য স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে হিন্দু প্রেমিকের হাত ধরে, তারা বিয়ে করেছে, সংসার পেতেছে সানন্দে । এবার এই ফতোয়ায় এসব হিন্দু-টার্ন্ড মেয়েদের কি পরিচয় হবে ? 'লাভ জেহাদ' নাকি গ্লোবাল ইস্লামাইজেশনের একটা নরমপন্থী প্ল্যান যার জেরে হিন্দু মেয়েরা তাদের হিন্দুত্ব খোয়াচ্ছে । কিন্তু যেসব হিন্দু ছেলেরা মুস্লিম মেয়েদের বিয়ে করেছে তাদের ক্ষেত্রে এটা কেমন বিষয় ? ভাববার কথা ।

ভাববার বিষয় এটাও যে, ইস্লামি শরিয়তি ফতোয়াই হোক , হিন্দু সংঘের ফতোয়াই হোক ধর্মের যূপকাষ্ঠ কিন্তু সর্বদা হাঁ-মুখ খোলা রেখেছে নারী রক্ত-মাংস-হৃদয় ভক্ষণের জন্যই । সব সংগঠন বা জামাত, পুরুষদেরই কেবল ক্লিনচিট দিয়েছে সব ক্ষেত্রে । এই ভিন ধর্মে বিয়ের ব্যাপারেও কেবল মেয়েদের 'রক্ষা' র নামে তাদের পায়ের শিকল মজবুত করতে নির্দেশ দিচ্ছে সব সমাজের অভিভাবকরা । যেন বিয়েটা কেবল একজন মেয়েই করে । 'অনার কিলিং' , ' স্টোন কিলিং ' , 'কিলিং ফর লাভ জেহাদ' রকমারি সব হাঁড়ি কাঠ । জবাইয়ের বকরি কিন্তু সেই একটি জাতই - নারী । যে হিন্দুই হোক , মুসলিমই হোক , ইজরাইলি হোক , ফিলিস্তিনী হোক , ভারতীয় হোক, বাংলাদেশি হোক, পাকিস্তানী হোক , হিন্দীভাষী হোক কিম্বা বাঙালি হোক ... শেষমেশ তুমি এক তাল মাংসপিন্ডমাত্র যা জন্ম হইতেই পুরুষ-সমাজ-জাতধর্ম ইত্যাদি সবার জন্য একটি এন্টারটেইনমেন্ট এর বস্তু এবং জন্মক্ষণ হইতেই বলি প্রদত্ত ।

Thursday, August 7, 2014

' স্বপ্নের অপমৃত্যু , শিক্ষাব্যবস্থা ও আমরা '

 http://timesofindia.indiatimes.com/city/chennai/Engineering-college-student-commits-suicide-in-Chennai/articleshow/32314904.cms

http://www.dnaindia.com/mumbai/report-21-year-old-met-student-attempts-suicide-critical-2007231

http://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/Unable-to-land-plum-job-Jadavpur-University-techie-kills-self/articleshow/39707237.cms

http://zeenews.india.com/bengali/zila/ssc-candidate-commited-suicide_22012.html

http://zeenews.india.com/bengali/kolkata/ssc-candidate-ill-no-respond-from-government_20336.html

http://zeenews.india.com/bengali/kolkata/suci-mp-stand-beside-ssc-protester_119277.html

উপরোক্ত লিঙ্ক গুলোতে ক্লিক করলেই একটা কমন ছবি পাওয়া যাবে ।
আমাদের দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা , প্রতিযোগিতার ইদুঁর দৌড়ে হাজার হাজার কর্ম প্রার্থীর চেতনায় অবচেতনে স্থান করে নেওয়া হতাশার আত্মহত্যা যা গ্রাস করছে কতশত উজ্জ্বল মেধাকে ।
 সমস্যা কোথায় ? দূর্বল স্নায়ু , প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার ব্যর্থ চেষ্টা , চাপ নিতে না পারার মানসিকতায়, নাকি শিক্ষাব্যবস্থার সারবত্তাশুন্য শুধু চাকরিবাজারের দখলদারির বার্তা ?
বোধ হয় সমস্যাটা আরো একটু গভীরে, যা শুরু হয় আমাদের পরিবার, বাবা-মা -আত্মীয়দের সোনামানিকরা যে বয়সে স্কুলে যায় সেই বয়স থেকে । শুধুই চরৈবেতী মন্ত্র আর পেছনে না ফেরার ফাটা রেডিও বাজানো এবং একে ওকে তাকে 'দেখে শেখ' মার্কা অমোঘ মন্ত্র । নিজের মানিক সোনাকে সফল দেখতে চান না এমন বাবা-মা নেই (অন্তত চাকুরিওয়ালা শিক্ষিত বাড়িতে) ।
 কিন্তু তাদের সাফল্যের সোপান নির্মানে কোথাও Skill Management এর অভাব থাকল কিনা , আমার সন্তানটি যে জীবনে শুধু উঠতে শিখেছে, নামতে নয় সে যদি পা-পিছলায় তবে আবার চেষ্টার কৌশলটি জেনেছে কিনা -- তা বেশিরভাগ মা-বাবা ভাবেনই না ।
তার ফলেই ঘটে


যেকোনও মৃত্যুই শোকের, আর  স্বপ্নের অপমৃত্যু সমাজের অপমান , রাষ্ট্র ও প্রজন্মের কাছে অবিরল প্রশ্ন করে যাওয়া অসহনীয় সাউন্ডবক্স, যার কোনো অফ সুইচ নেই । 
এই নিয়ে মনোবিদ, চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদরা নানান কার্য-কারণ সম্পর্ক ও সমাধান সুত্র বাতলেছেন কিন্তু স্টুডেন্টদের সাইকোলোজি ও দেখার ধরণ বিন্দুমাত্র পাল্টেছে বলে তো মনে হয় না । এর জন্য শুধু তাঁদের দায়ী করা যায় না, এর কারণ এই সব মনোবিদ, শিক্ষাবিদ দের দেওয়া পরামর্শ সরকারের সিলেবাস কমিটি ও প্রতিযোগীতামূক পরীক্ষার বাজার কানেই তোলে নি । ভারত এক জন সমুদ্রের নাম, যে গর্বিত ভাবে ঘোষনা করে এদেশের ৬৫% জনগন হল যুব সম্প্রদায় । কিন্তু এবারো এদের প্রত্যেকের গর্বের কারণ হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে সরকার ? এই ৬৫% যুব সমাজকে নিয়ে সমীক্ষায় গর্ব করা সাজে, কিন্তু তাদের   অন্নসংস্থানের জন্য কি ব্যাবস্থা করেছে রাষ্ট্র ও তার শিক্ষা ব্যাবস্থা ? এখানে অনেকেই বলবে, কেন দেশে এখন প্রচুর স্কুল-কলেজ-নলেজ সিটি-ক্যাম্পাস উঠেছে , দিগন্ত ছুঁয়েছে দুর-শিক্ষাব্যাবস্থা যার দ্বারা দেশের পিছিয়ে পড়া, অনুন্নত শ্রেনীও বাড়ী বসে শিক্ষার আলো পাচ্ছে । হ্যাঁ পাচ্ছে ...১০০% হক কথা । কিন্তু তারপর... ? 
৫ম থেকে ৮ম শ্রেনী অবধি পাশ-ফেল তুলে দেওয়া হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক চাপ কমানোর জন্য । ৯ম -১০ম শ্রেনীর স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় গ্রেডেশন প্রথা আনা হয়েছে সেই একই মানসিক শক না লাগার জন্য ( যাতে নম্বর নিয়ে একে অপরকে দেখে তাদের মধ্যে প্যাঙ্ক না জন্মে , তাই ) । 
অথচ যখন সেই ছাত্রছাত্রী ১১-১২ ক্লাশের জন্য বাইরের স্কুলে যাচ্ছে তখন কিন্তু তার গ্রেড দিয়ে তাকে বিচার করা হচ্ছে না । কলেজে অ্যাডমিশনেও একইভাবে নম্বরের দাঁড়িপাল্লায় মাপা হচ্ছে মেধা । তাহলে ছোট থেকে কলেজ অবধি যে চাপ থেকে তাদের আড়াল করে আতুপুতু করে 'মানুষ' করল পরিবার, স্কুল, রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যাবস্থা তার সারবত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো ? ভালো কলেজে যখনই সে চান্স পেল না জন্মালো নিজের প্রতি তীব্র হতাশা, যার পরিনতি আতহত্যা । হ্যাঁ তারমধ্যেও কি সারভাইব করেনা বেশির ভাগ ? সবাই কি শেষ করে নিজেকে ? না, তা করে না ঠিকই । কিন্তু এই সমীক্ষাও তো ঠিক যে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন স্টুডেন্ট আত্মহত্যার চেষ্টা করে ।

এবারে আসা যাক, বৈধ চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি সরকারের উদাসীনতা :
আজ ৪০ দিনে পড়ল গত বছরের পঃবঃ স্কুল সার্ভিস কমিশন আয়োজিত শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার  ফাইনাল মেরিট লিস্টে চান্স পাওয়া একদল বৈধ কর্মপ্রার্থীদের চলা অনশন । হ্যাঁ ... একটানা ৪০ দিন অতিক্রান্ত । এদের মধ্যে একজন প্রার্থী রুমা দাস আত্মহত্যা করেছেন সরকারের চরম ঔদাসিন্য দেখে , বেকারত্বের জ্বালায় ভুগতে ভুগতে । কলকাতা হাই কোর্টে ঝুলছে প্রায় ৭০+ টী মামলা এই নিয়োগ নিয়ে ।  আর সরকার কি করছে ? শুধু সস্তার নাটক ! বার বার চেঞ্জ হচ্ছে SSC Chairman  ।আর একের পর এক দিন কেটে যাচ্ছে হতাশায়, অনশনে, অসুস্থতায় ও অপমানে ।
এই সরকার নিজেই তো ক্ষমতায় এসেছে জমি নিয়ে মমতার ২৬ দিন অনশনের হাত ধরে । কিন্তু সেই গভঃ আজ ক্ষমতায় বসে ৪০ দিন ধরে চলা যোগ্য শিক্ষক কর্ম প্রার্থিদের না পারছে চাকরি দিতে , না পারছে তাদের উচিৎ প্রশ্নের জবাব দিতে আর না পারছে তাদের আশার কোনো আলো দেখাতে ! উল্টে এই অনশন মঞ্চের হোতাদের আলাদা ডেকে চাকরির অফার করছে, যাতে তারা বাকিদের বুঝিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে পারে , নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে পারে ।এই সুযোগে নিপাট অরাজনৈতিক এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ মঞ্চ -এর সমর্থনে এগিয়ে আসছে বিরোধি বাম, ডান, অবাম, আল-বাল-ছাল , গেরুয়া , তেরঙ্গা পার্টির নানা প্রলোভন । চলছে রাজনীতির জঘন্য খেলা । মাঝখানে বলি হচ্ছে আরো বেশ কিছু রুমা দাস । স্বপ্ন গুলো প্রতিদিন ধর্ষিত হচ্ছে । মেধা গুলো ঝরে যাচ্ছে অকালেই ।
অথচ ভেবে দেখুন তো ,দেশ, রাষ্ট্র বা সরকার বাহাদুর চাইলেই কি পারে না রুমা দাস দের অকালে ঝরে যাওয়া থেকে বাঁচাতে ??


Tuesday, August 5, 2014

‘প্রসঙ্গ: তসলিমা নাসরিন, কিছু ট্যাবু ও আমাদের সাহিত্য পড়া’

তাঁকে আমরা ভালোবাসি বা না বাসি, সমর্থন করি বা না করি, তবু তাঁকে ঘিরে চায়ের কাপে আজও ঝড় ওঠে সে মধ্যবিত্তের তলতলে জীবনযাপনেই হোক বা তাবর রাজনীতিবিদের টেবিল ঠোকা বৈঠকি বিকেলেই হোক । তাঁর ক’টা বই বেরল বা ব্যান হল, কেমন আছেন তিনি , কোথায় কাটছে তাঁর জীবন সেটা জানি বা না জানি, তবু আজো তাঁকে নিয়ে কম লেখালিখি কিন্তু হয় না । প্রিন্ট মিডিয়ায় কথা বলছি না, সোসাল সাইট গুলোর ‘ভার্চুয়াল পাঠশালার’ কথাই বলছি । সে যাই হোক আজ এতখানি পথ পেরিয়ে এসবে তাঁর কিছু যায় আসে না ।
হ্যাঁ আমাদের যায় আসে ।                                                                                             
আমরা মানে গুটিকয় সচেতন আর কোটি কোটি অচেতন বা অর্ধচেতন পাব্লিক যারা কাগজে তাঁর নাম দেখলে গোগ্রাসে সেটি পড়ে, মিডিয়ার দেওয়া গালভরা গাল ‘বিতর্কিত লেখিকা’ শিরোনাম পড়ে চুক চুক আওয়াজ তোলে জিভ-টাগরায় এবং অবশ্যই চায়ের কাপে ।
তারপর একদল বলে : ‘কি লাভ এসব বিতর্কে জড়িয়ে ? এখানে কি আছে খালি ব্যান ,নয় বিতর্ক ! বরং সুইডেনে উনি নাগরিকত্ব নিয়ে স্বচ্ছন্দে বাস করলেই পারেন ।‘

একদল বলে: ’ কি আর করবে সংসার তো পেল না, বই আর বিতর্ক লিখেই এবং গাল খেয়েই দিন কাটে । ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো আর কাকে বলে ! যত্তসব !”

একদল যোগ করে : ‘ জীবনে ধর্ম মানে না । মেয়েমানুষ হয়ে অত ঠোঁট কাটা হলে চলে ? ওর পাপ লাগবে না তো কি আমাদের লাগবে ? এত জিভ-ছোলা কথা বললে ধর্মে সইবে নাকি ! এখনো সময় আছে তোওবা করে ধর্মের পথে আসুক। নিজের ঘরে ফিরতে পারবে । নইলে আজীবন নির্বাসন ঘুচবে না। দেশ থেকে ও আপদ আমরা তাড়িয়েই ছাড়ব ।’

আর একদল ‘প্রগতিশীল’ হাঁ হাঁ করে তেড়ে এসে বলে : ‘কেন? এদেশে যদি আজমল কাসভের মত ইন্টারন্যাশানাল জংগি , আফতাব আন্সারির মত ন্যাশানাল জংগি, কোটি কোটি চোর পলিটিশিয়ান এবং আমাদের এত শত বিতর্কিত বুদ্ধিজীবি থাকতে পারে, তবে তসলিমা কেন নয় ?’
                     অবাক হই । যেন তসলিমার থাকার সাথে দাগানো খুনি-জংগির নামগুলোই একমাত্র উদাহরণ ! নেগেটিভিটির মাঝে যে মানুষটা পজেটিভ ভাইব ছড়ানোর জন্য প্রাণপাত করছেন ,অন্ধকারের মাঝে থেকেও যিনি সত্যের টর্চ হাতছাড়া করেননি এক মুহুর্তও, তার সাথে কেবল অন্ধকার জগতের লোকের তুলোনা হচ্ছে !!

আমার মনে আছে , স্কুলে পড়া বয়সে ক্লাশ এইট হবে, সম্ভবত ১৯৯৯, এক বন্যার সময়ে বাবার বইয়ের আলমারী থেকে হাতে পড়েছিল ‘নির্বাচিত কলাম’ এবং ‘লজ্জা’ ।আগে তুলে নিয়েছিলাম ‘নির্বাচিত কলাম’ বইটি । পড়তে শুরু করেছিলাম শুয়ে শুয়ে এক দুপুরবেলা আর পাঁচটা গল্পের বই পড়ার মত, ভাত ঘুম দেওয়ার আগে। বেশ মনে আছে বইটা যখন শেষ করেছিলাম রাত তখন ৮ টা এবং আমি সোজা হয়ে উঠে বসে পড়েছিলাম, নিজেরও অজান্তে। ঘুমের ঘোরেও দু’চোখের পাতা অনেক দেরিতে এক হয়েছিল । ‘লজ্জা’ ওই বয়সে পড়ে কিছুই বুঝি নি । কোন ইতিহাসের কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে লেখা জানতাম না, পড়ার বইয়ের বাইরে খবরের কাগজের সাথে আলাপ ছিল না । বইগুলো লুকিয়ে পড়েছিলাম বাবার বকার ভয়ে , সেই শুরু লুকিয়ে পড়ার, লুকিয়ে লেখার এবং অনেক কিছু লুকানো থেকে বের করে আনার । পরে মেয়েবেলার শেষ লগ্নে গিয়ে এবং বড়বেলায় এখনো দেখি তাঁর নামের সাথে ‘লুকানো’ শব্দটিও এমনি এঁটুলির মত সেঁটে আছে যে আনন্দবাজারে পত্রিকায় তাঁর ইন্টারভিউও বেরোল ‘তুই নিষিদ্ধ,তুই কথা কইসনা’ শিরোনামে । তবে হ্যাঁ সেদিনের ওই লুকিয়ে তসলিমা পড়ার জন্যই হোক আর যাই হোক মেরুদন্ডটা বড্ড ঋজু হয়ে গেছে ।

তাঁকে নিয়ে আলাপ চারিতায় মূলত যে যে ‘নিষিদ্ধ পয়েন্ট’ ট্যাবু আকারে বেরিয়ে আসে তা হল :

১। তসলিমার লেখাগুলো সাহিত্য পদবাচ্য নয়:  আমার এক বাংলা অনার্স বান্ধবী বলেছিল ‘ওকে আমি সাহিত্যিকের পর্যায়ে ফেলিই না । ওর লেখায় রগরগে ব্যাপার বেশি, স্নিগ্ধতা নেই একদম।‘
আমি বলি, ‘হ্যাঁ রে , বাংলা সাহিত্য পদবাচ্য লেখা মানেই কি কাল্পনিক মিথ্যার আশ্রয়ে কিছু হিরো- হিরোইনের কাহিনী থাকতে হবে ? যেখানে প্রেমঘন সেক্সদৃশ্য বর্ননা করার সময় মিষ্টি মিষ্টি কথার আড়ালে নায়কের মুখে লেখক লিখবেন ‘কই,আমার সাদা পায়রা দুটো কই । তারা যে আমার হাতে আদর খাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে, আমি জানি। কাছে এস...‘ –আর সেটা পড়ে ‘নাজুক নাজুক’ বলে পাঠকের অন্তর্বাস ভিজে যাবে গোপন কামে । তবু সেটা সুন্দর । কারন সে গল্পের ঢাল আছে “এই গল্পের সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই । বাস্তবের কোন ঘটনা-স্থান-পাত্রের সাথে যদি কোনও মিল পান তা নিছক কাকতালীয়!”
না, তসলিমার কলম এসব ঢাল নিয়ে চলতে রাজী না । কারন উনি যা লেখেন তা আমার-তোমার জীবন থেকে সেঁচে নেওয়া বিষয় । জীবনাদর্শ নিয়ে যা বলেন সেই জীবন উনি যাপন করেন । আর বাংলা সাহিত্যের কোন বিশ্বকোষে লেখা আছে ‘ সাহিত্যের সাথে মিথ্যে কষ্ট কল্পনার নিরব আঁতাত থাকতেই হবে ?’ এমন কোন সংজ্ঞা আছে যে, সাহিত্যিকের সত্য বলা নিষিদ্ধ ?লেখক যে জীবন কাটান আর যে জীবন লেখেন তার মাঝে থাকতে হবে যোজন দূরত্ব ? আছে যদি, তবে আমায় দেখাও ।

২। তসলিমা মেয়েদের জন্য লেখে ভালো কথা , কিন্তু বড্ড বেশি ধর্ম-বিদ্বেষী : আমি বলি, ‘ধর্ম মানবো আবার নারীমুক্তি / নারীর অধিকার নিয়ে গলাও ফাটাবো’ সেটা যদি চাও তাহলে আমায় সোনার পাথরবাটি এনে দেখাও ! কারন ও দুটো তো একসাথে চলতে পারে না, এটা তো মেয়েরা জীবন দিয়ে প্রমান করেছে যুগে যুগে । ওরা বলে , ‘প্রকৃত ধর্ম তো এরম না, মানুষ এমন বানিয়েছে । ধর্মকে corrupt  করেছে ।
--“ ও মা ! তাহলে ধর্মও যে politician দের মত রং চেঞ্জ করে corrupt হতে পারে তা স্বীকার করছ তো, ধর্মও তাহলে কাঁচের বাটিতে রাখা জল, যাকে যখন খুশি ধর্ম ব্যাবসায়ীরা ব্যাবহার করে, কুলকুচি করে, কফ থুথু দেয়, আবার গংগা জলের মত পূজাও করে ! এর চেয়ে কি নাস্তিকতা ভাল না ?’

৩। তসলিমা পুরুষ বিদ্বেষী আমায় কিছু জন বলেছে, বেশি ওপেনলি ওঁর অনুগামী হতে যেও না। পুরুষ বিদ্বেষী তো তাই ওর অনুরাগী হলে  আর এ জন্মে তোমার বিয়ে হবে না ।
--কেন ?
-- তুমি জানো না, তসলিমার লেখা মানতে গিয়ে কত কত সংসারে আগুন লেগেছে । কত সম্পর্ক ভেংগেও গেছে ওর জন্য ।
তাই কি ? কটা বই পড়েছে ওরা তসলিমার, যারা দাবি করছে ও পুরুষ বিদ্বেষী / সংসার বিরোধী ? আসলে কিন্তু সম্পর্কগুলো অন্য কারুর জন্য ভাংগে না, ভাংগে নিজেদের কারনেই । আর যদি অন্য কাউকে দায়ি করার মত অবস্থা দাঁড়ায় তখন সেই সম্পর্কের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে । সত্যকে চেপে মিথ্যে দিয়ে সুখের বাড়ি নির্মান করা যায় না । পুরুষ-নারী সমতা যেখানে থাকবে সেখানে সংসারে ফাটল ধরবে কি করে? এর জন্য পুরুষ বিদ্বেষী বা নারীপ্রেমীর প্রশ্ন আসে কি করে!

এরম আরো অজস্র ট্যাবু তৈরি আছে তসলিমার নামের সাথে । মিডিয়া এই সব ট্যাবুগুলোর ওপর ভর করেই খবর বানায় । তাই তাঁর কোন বই ব্যান হল তার খবর পেপারে ওঠে, তাঁর কোন বই বিদেশে বেষ্ট সেলার হল তার খবর থাকে না । তাঁকে ঘিরে রাজনীতির নোংরা খেলার হলুদ সাংবাদিকতা হয়, যা চেপে যায় তাঁর অক্সফোর্ডে লেকচার , জাতি-সংঘে বক্তৃতার, সান্মানিক ডিগ্রী প্রাপ্তি, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের তুমুল ক্লাশ - এরম আরো অজস্র উজ্জ্বল কৃতিত্বকে । কেন? এসব লিখলে কি পেপারের কাটতি কম হবে? না, এসব লিখলে মোল্লাতন্ত্রের ধমক নানা রঙ্গের পার্টির ওভারহেড ফোনের দ্বারা সংবাদপত্রের অফিসে আছাড়বে, যা আদপেই কোনো ‘নির্ভিক সাংবাদিক’ চাইবে না । তাই ছাপা হোক বিতর্কিত খবর, যদি উনি কিছু নাও বলেন তবু তাঁর মুখে বসানো হোক এমন শব্দ , যা মানুষ এবং মোল্লা ‘খায় ভালো’ !
কিন্তু মুখে না বললেও তসলিমার অতি বড় সমালোচকও এটা স্বীকার করতে বাধ্য হবেন,সাহিত্যের আন্তর্জাতিক বাজারে যে ক’টা মুষ্টিমেয় মাতৃভাষায় সাহিত্য চর্চাকারী আছেন , তসলিমা তাদের মধ্যে বঙ্গ তথা বাংলা সাহিত্যের একমাত্র উজ্জ্বল প্রতিনিধি এবং বেষ্ট সেলার লেখক । তাঁর লেখাকে আমরা যতই গালি দিই, লুকিয়ে পড়ি ,উপন্যাস-কবিতার পাতার পেঁয়াজ ছাড়াই, কখোনও কাঁদি, কখোনও ‘ব্যান কর এ আবর্জ্জনা’ বলে ছুঁড়ে ফেলি না কেন বাংলা ভাষার একমাত্র অভিবাসী লেখক হিসেবে আজকের প্রজন্ম তাঁকেই চেনে । হ্যাঁ শুধু তাঁকেই – যিনি গোল্লাছুট খেলতে খেলতে কখন যেন নিজের অজান্তেই খেলা থেকে বাদ পড়েছেন , নির্বাসিত হয়েছেন আমাদের জন্য আমাদের হয়ে আমাদের দাবীগুলো গুছিয়ে বলার জন্য আমাদেরই প্রানের বাংলা থেকে । ‘সেই সব অন্ধকার’ আর ‘নেই, কিছু নেই’ এর মধ্যে বাঁচতে বাঁচতেও তিনি স্বপ্ন দেখেছেন এমন এক সাম্যের সমাজ গঠনের যেখানে থাকবে না কোনো কাঁটাতার, প্রতিষ্ঠা পাবে এক সুন্দর জাতি – ‘মানুষ’ যার নাম । আমরা তাঁকে সন্মান জানানো ত দূরে থাক, প্রয়োজন বোধ করিনি কি লিখেছে তা পড়ে দেখার ।

সত্যি সেলুকাস, তাঁর জীবন এক বিচিত্র জার্নি , অন্ধকার থেকে আলোর দিকে । আবার অনেক আলোকময় পৃথিবী প্রান্তের হাতছানি থাকা সত্বেও যিনি ফিরে আস্তে চান সেই অন্ধকূপ পাঁকের জন্মভূমিতে, হাত বাড়াতে চান অজ্ঞানতায় ডুবতে থাকা মানুষ গুলোর দিকে –তারা যাতে আলোর পথে আসতে পারে ।

তাঁর সত্যের পথ যদি আজ রুদ্ধ হয়, সত্যি বলার জন্য যদি তাঁর নাম আজ ব্রাত্য হয় তবে বলতেই হয় :  যদি তসলিমা ব্যান হয় , তবে ব্যান হোক শিশুপাঠ্য হিসেবে আবশ্যিক নীতিপাঠ গুলোও:
·         সদা সত্যং বদ
·         সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি /সারা দিন আমি যেন সৎ পথে চলি ।

আমরা যাই করিনা কেন, কথা সেটা না, তিনি আমাদের চেয়ে অনেক অনেক বেশী ম্যাজিক ও রিয়ালিটি । তাঁকে ধরে রাখতে না পারলে সেটা তাঁর অসন্মান নয়, কারণ তিনি সে সবের অনেক উর্দ্ধে অবস্থিত, সেটা দেশের এবং জাতির কাছে লজ্জার । কারন , মূল্যবান রত্নের ছটা নিয়ে অনেক তুফান তোলা বিতর্কসভা করা ছাড়া তার আসল মূল্য এই অভাগা অর্ধশিক্ষিত জাতি কখনো কি দিতে পেরেছে ? তাই তো আমরা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠসময় নিয়ে বুলি কপচাই, সোপ-অপেরা করি আর শ্রেষ্ঠ এক সৎ-সাহসী বাঙালি সাহিত্যিককে নির্বাসনে পাঠাই, রাজনীতির নাটক করি ,আবার ঠুঁটো জগন্নাথের মত দেখিও ।

Saturday, November 2, 2013

Historical and Panoramic Diary of Andaman --11.1013 to 17.10.13

Exploring Andaman ...Its History, Evolution & Beauty

On July I had a sudden proposal for visiting Andaman and I accept it in no time since I have a childhood crush about this island. Its not like exploring an unknown beautiful place of interest but its like a mythical place to me. when I was in primary school one of my aunty (Kalyani Dasgupta) , my mother's senior colleague influenced me a lot about Indian National Movement , Swadeshi movement, Patriotic revolt in Bengal against the then British Raj and I was thrilled. So its a natural enthusiasm from the core of my heart that fuels to accept the chance of exploring 'The Island' of my childhood Story/ fantacy rather, specially the Cellular Jail and its pathetic history.

There are 574 islands in the entire Andaman,but only 36 islands are allowed to visit. 
Total 6 tribes are there :- Jarwas , Onge, Sentinelis Mongoloid , Sampens, Nicobaries, Great Andamanies. According to latest sensus of tribal population there are 240 Jarwas, 99 Onge , 32 Great Andamanies, 200 Sampens, 250 Sentinelies mongoloid and 30,000 Nicobaries.
There are 3 Drinking (sweet)water rivers :- Alexzandria , Galtiya and Kalong. The Oldest Saw mill in Asia is Chatham Saw mill.

On 11.10.13 we (Namita masi, Shanta masi, Bidhan kaku with his family , Mampi and her father , my mother and Me ) 8 members of 'Dishari Tours and Travel' set off on kolkata-Port Blair boarding SpiceJet flight at 11.45am. After recahing Vinayak Damodar Savarkar International Airport ,Port Blair on 2 pm we found cloudy atmosphere there and then reached Hotel A.G around 3 pm . We were told to be ready within 4.30 pm to go to Corvyn Cove Beach and then the Cellular Jail for its evening Light and sound show. Corvyn Cove beach is really exotic. I took some evening snap from a watch tower. The setting Sun made the entire scenery awesome. Then at 6.30 we reached Cellular Jail and I was spell bound to see the place of my interest. The show started at 7.15 pm after much hue and cry in line for tickets. The show was about the foundation of the jail to the post British condition. The old Peepul tree was the Story teller and when it spoke about the history and our martyrs' pathetic life in Jail I couldn't help weeping. 

On 12.10.13 our journey was started at 6.30 am towards Baratang. After checking at Jirkatang post we got permission to enter in the Jarwa area of 51 km. Its really a suspense to go amidst the deep dark rain forest on both side and in the middle runs our convoy ! On the way we found 6 Jarwas ( 1couple, 1 old man with 1 child, 2 youths with bows and arrows) and their huts in the far deep jungle. We were fortunate enough to see them closely. They are not savage now, they are adapted enough to the civilized society. In Baratang we set off for an adventurous journey towards the Lime-Stone cave amidst the Rain forest .The path was slippery and rough full of many poisonous insects and reptiles and we kept walking.. 3km walking distance is not a joke ! Many imaginary statues were built naturally by the chemical reaction of lime-stone and water. We got bak to the jetty in the afternoon we had our lunch.
On 13.10.13 we left hotel at 6 am for Havlock island through M.V Coastal Cruize ship. It was an exciting experience on the cruize and seeing Fling fish , Dolphins and many other marine beauties. Radhanagar beach is famous for its beauty and sun bath. Its one of the best sun-kissed beach &  I had a sea bath there. The water was clearer beyond imagination. Then we went Nile island and stay for one night. Nile is famous for glass boating for visiting beautiful coral and snorkeling. Seeing Coral was a thrilling experience.
On 14.10.13 7.30am M.V Coastal Cruize departed from Nile's Old jetty and off for Port Blair . On the way we saw North bay island and its light house , behind it stands the Mt. Harriot ( 2nd highest peak in Andaman, 1st is Saddle peak). Bharatpur beach in Nile island was spectacular with setting sun and its yellowish light.the Sun set point beauty is unforgettable.
On 15.10.13 we visited Cellular Jail. A pathetic yet thrilling experience that I had while listening the story from our guide.But 1 hr was not sufficient to explore that myth. When I touched the bars, locks and the name plates of the convicts, tears trickled down from my eyes with out my knowledge. The feeling was beyond description. We searched for the name Nagen Dasgupta ( elder brother of my aunt Kalyani Dasgupta) who was one of the 692 convicts and an active freedom fighter and at last we found his name with cell no. 203 and his photo in the Jail museum . 
At noon we went to Samudrika Museum, Anthropology Museum and Sagarika market complex.. In the afternoon we went to Ross island to see debrish of British colony, printing press, power house, Church , cemetry, water purifier and lotus pond. Ross island is full of deer, peacocks and rabbits. Rajib Gandhi water complex jetty was neat and clean with exotic view of sea. 
On 16.10.13 at 8.30 am we set out for Red Skin / Jolly bouy island. its famous for red corals, yellow corals and other marine beauty. there we had a panoramic experience to fetch the yellow and red coral by glass boating. 
17.10.13 was our day of saying 'goodbye' to Andaman. We were asked to check out at 10 am but I and mother secretly left hotel at 7.30 am again for Cellular Jail. The previous day we missed to visit Art gallery and Netaji Gallery in the entrance of the jail. For 1.30hr I roamed around all the gallery , took various snaps and then came out with heavy and pinching heart.

Our return flight was at 1.45pm . Through out the way I kept memorizing about the spectacular view of the land of my dream. Its a land that is cordially connected with our independence history, our biological forefathers , the human evolution (Tribals) and marine beauty of colourful corals...To me, Visiting Andaman is a Bliss of Solitude !
The Cellular Jail


The two wings of the Jail and the chairs are for light-n-sound show

panoramic view from the roof of the Jail
Colourful Corals

replica of convicts with different types of chains
The nocturnal view of jail during light-n-sound show

Thursday, June 28, 2012

Gender Disorder

GENDER VERDICT OF PINKI PRAMANIK : JUSTIFIED?
__________________________________________________________________________


Oflate bengal's famous athlete Ms.Pinki Pramanik is in News for
attempting to rape her 3 yrs love partner, a separated-married woman
with a child ! After 3 long yrs of their volenteered conjugal life,the
lady now accused that Pinki has raped her !
the question is if it is Rape by chance or instinct, then how come the
victim record their love making scene & submitted the private video
footage to the police ?

Anyway, The main point is,Focus on Rape allegation has been suddenly
changed into Focus on Sex-determination of the accused Pinki !
Coming from a poor family of Purulia dist Pinki Pramanik has been
growing up as 'female' child, became a 'Female' athlete with
international repute, received many awards & prizes including the Gold
Medal for champion in Doha Asian games in 2006 and the Silver Medal
for Champion in Melbourne Commonwealth Games for 4x400 mt.Relay Race
in the same year. besides at the age of 18 she got govt.job in Indian
Rail through her athlete quota. but now she has been suspended and
threatened to lose all her hard-earned honour and awards.
Everyday Media and Public are continuously discussing and abusing
Pinki's physiq and her sexual life openly without caring about her
reputation,social status and of course, her Privacy.
Is it just because of her identity disorder problem? or for her poor
family status?

Pinki is not the first one having such gender-disorder syndrome. In
India there are million of people living with such problem without any
question. In Art and Film Industry lots of famous personalities are
living luxurious lives with their chromosomal contradiction, but Pinki
is being humiliated publicly due to her low-profile lifestyle and lack
of higher authority contacts.

If allegation is proved then Pinki must be punished in a legal way and
treated like an ordinary accused . But publicly humiliation regarding
her gender and sexual life is undoubtedly a violation of Human Right.
Everyone is different in colour and manner of living, Everyone has
right to live life in their own style without poking others.

We neither support a Rapist (If proved), nor the way an accused is
treated like animal in a cage !
Identity disorder is a medical problem and not a fault of Pinki. she
is not responsible for her physiq. but in digital media we all have
seen that she is treated brutally. when a police man squeezes Pinki's
chest in order to show 'her' manhood - it is horribly violent act
which is objectionable. Nobody has right to make others naked in front
of others neither to indulge in savage celebration of somebody's
identity crisis.
We  must raise our voice against all kind of rape attempt, oppression
to women and also this type of inhuman activities in the name of
justice-seeking agitation !