My Attitude!

My Attitude!

Pages

My Blog List

Meet and Recognise-- I, Me and MySelf...!

@@@ ~WELCOME TO MY CYBER WORLD~ @@@











~~~ I am My Own Music, People Want to Get in Touch With Me... Play Your Lyrics By My Rhythm ~~~



Thursday, October 27, 2016

'বাঙালি জাতি' বনাম আমরা - ওরা'

উৎসবের মরশুম । এ সময় বাঙালির উদারতা বা সর্বজনীনতা যার পরনাই বেড়ে যায় । বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমোঘ কণ্ঠস্বরমাখা যে ভোর বাঙালির ঘরে ঘরে নষ্টালজিয়া এনে দেয় , তা কারুর কাছে শারদীয়ার বিনা ঠিকানার চিঠি , আবার কারুর কাছে ভোরের আজানের মত মিস্টি । একটা কথা আজকাল বেশ প্রচলিত “ ধর্ম যার যার , উৎসব সবার।“ এই আপ্তবাক্যই ভারতের বিশেষত বাঙালির ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাবাহক । তবু , মণ্ডপের ভিড়ে কান পাতলে আজও শনা যায় , “ এই দ্যাখ তোদের দূর্গাকে জুম করে ক্যাপচার করলাম । তোরা কি আমাদের আল্লাকে ধরতে পারবি !” অথবা
“ এটা তো তোদেরই রেওয়াজ রে , তুই জানিস না ! আমাদের মধ্যে তো এ খাবারের চল নেই ।“
অর্থাৎ সবেতেই প্রচ্ছন্ন একটা আমরা – ওরার সূক্ষ্ম স্রোত । সাহিত্যিক আব্দুল জব্বার বলেছিলেন “ গোঁড়ারা ধর্মের ঢেঁকি । ... পুরোনো গর্তের ইঁদুর। নতুনকে নিতে পারে না । “
কথাটা শুধু যে ছাপ মারা  ‘গোঁড়া’দের সঙ্গেই বসে , তা না । আমাদের সঙ্গেও একশ ভাগ যায় । সামাজিকতা বজায় রাখতে সুগার কোটেড স্পিচ যতই দিক , নিজের ‘আসল’টা কিন্তু কেউ ছাড়ে না । ‘আসল’ মানে ‘Identity ‘ – নিজের জন্ম- পারিবারিক জাত-ধর্ম-স্বজাতের শিক্ষা ।
আর এই যার যার / তার তার আইডেন্টিটিই বাঙালির বাঙালিয়ানার সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা । যা কখনোই আমাদের হিন্দু-মুসলিম আইডেন্টিটির বাইরে স্রেফ ‘বাঙালি’ পরিচয়ের একমাত্র সুতোয় বাঁধতে দেয় না ।
আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু অভিজ্ঞতা নিশ্চয় হয়েছে , কিন্তু স্ব-স্ব সংস্কার বশত এগুলোকে আমরা ‘স্বাভাবিক’ বলেই মেনে নিয়েছি ।

'দিন আগের কথা ।পাড়ার এক ব্যক্তির সাথে প্রায়ই দেখা হয়, কথা হয় টুকটাক । কিন্তু কখনও দেখি সে বাংলায় কথা বলছে, কখনও দেখি হিন্দিতে । আমার সাথে পরিষ্কার বাংলায় কথা বলে , তো সেদিন বইয়ের দোকানে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, “আপনি বাঙালি তো ?”
জবাব পেলাম, " না, আমি মুসলিম ।"
একইসাথে আমি অবাক ও চিন্তিত । চিন্তিত এইজন্য যে, উনি কি আমার প্রশ্ন বুঝতে পারেন নি, নাকি জানেন না । অবাক এইজন্য যে, আমি তো ধর্ম পরিচয় জানতে চাই নি, তাহলে অযাচিত উত্তর দেন কেন !

----"না, আমি জানতে চাইছি আপনি মুসলিম হলেও বাঙালি তো!"
---" আরে, না না । বাঙালি হব কেন? আমি তো মুসলিম ।"
---"তাহলে আপনার মাতৃভাষা কি ?"
---- "বাংলা ।"
এবার আমি বুঝলাম । এরম ঘটনা এই প্রথম নয় । আগেও অনেকবার এমন হয়েছে। রাস্তাঘাটে অচেনাদের বাদই রাখলাম, চেনা পরিচিতদের থেকেও এমন ঝটকা খেয়েছি আগে

মনে পড়ে, গত বছর একটি ছেলে, আমাদের গ্রুপের কমন বন্ধু হিসাবে প্রায় একমাস ধরে ফোন, SMS ইত্যাদিতে বেশ সাবলীল ভাবে কথাবার্তার পরে জানতে চেয়েছিল ,আমি ‘বাঙালি’ কিনা ! তো আমি 'হ্যাঁ' বলেছিলাম ।পরে আমার পুরো নাম শুনে বলেছিল,
---- "ও! তাহলে তো তুমি মুসলিম ? বাঙালি বললে কেন ? "
--- "কারন, ওটাই আমার আসল পরিচয় । পদবীটা তো জন্মসুত্রে পাওয়া আর ধর্মটাও তাই ।"
---"ও , কিন্তু তাহলে বল বাঙালি মুসলিম । বাঙালি নও । বাঙালি মানে তো আমরা, হিন্দুরা ।"

এবার আমি চমকে যাই । প্রচন্ড অপমান ও রাগে বলেছিলাম,
----- " মানেটা কী ? 'জন হিন্দুকে দেখাতে পারবে, যে আমার চেয়ে বেশী বাঙালি ? ধর্ম পরিচয়টাই আসল হল ? "

আসল ব্যাপারটা হল, 'বাঙালি' শব্দটা এরাজ্যের হিন্দুরা বহু ব্যবহারে নিজেদের জাত-ধর্মের সাথে এমন ট্যাগিয়ে নিয়েছে যে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও যে বাঙালি হতে পারে, তা একরকম ভুলেই গেছে বা মানতে চায় না ।

এরপরে ট্রেনেও কথা বার্তায় দেখেছি, আমার পাশে বসা বোরখা পরিহিত মুসলিম মেয়ের সাথে জিন্স টী-শার্টের মুসলিম মেয়ের কথা হচ্ছে হিন্দীতে । দুজনেই বন্ধু বা পরিচিতসম্ভবত ঝাড়খন্ডী নন-বেংলী ।
---- " রোজা কা টাইম আ গায়া । ফির ঈদ হ্যায় । মার্কেটিং হো গ্যায়া ক্যায়া তেরা ?"
----- " হাঁ ইয়ার । অর বোল মাত , সালোয়ার শিলহানে দিয়ে তো শালে নে চুস্ত বানা দিয়া । বোলা কি , আব ইহি ফ্যাশান হ্যায় । ওয় বাংগালী লোগ বোলতে হ্যায় না, চুড়ি-পাজামা !"
---- হাহাহাহা !
----- "সহি হ্যায় ইয়ার । বঙ্গালি মুসালমান লোগ ভি না এইসাহি কাপড়া বানাতে হ্যায় । "
---"আরে ছোড় না , উহ লোক ভি মুসলিম হ্যায় ক্যা !"
--- " সাহি বোলা ইয়ার । বাংগালি লোগ মুসলিম বিরাদারি কা গিনতি মে নেহি আঁতে ।"
---" এক্সাক্টলি ইয়ারবঙ্গালি মুসলিম লোগোকা না জাত হ্যায় না ধরম । ওভি হিন্দু হি হ্যায় ।"

এই দু-চারটে আম বাতচিতেই প্রমানিত 'বাঙালি' শব্দটার কি নির্মমভাবে বলাৎকার হয়েছে ।
না, এর জন্য ওই দেশভাগ, আর শ্রেনী বিভক্ত সমাজের ঐতিহাসিক বহু চটকানোতত্ত্ব বা তার ভুক্তাবশেষকে দায়ী করেই কিন্তু আমরা নিজেদের মানে, তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের স্বশিক্ষা বনাম সুশিক্ষার দায় কোনওভাবেই এড়াতে পারি না ।
অনেক প্রগতিশীল উচ্চশিক্ষিত কর্পোরেট ওয়ার্কার হিন্দু বন্ধুদের দেখেছি, যারা সোশাল মিডিয়ায় নানা কথার ফুলঝুড়ি সাজায়, সমাজের নানা উচ্চ বর্গিয় ব্যক্তিদের সাথে ওঠা-বসা করে, নানা সমাজ সেবা মূলক কাজও করে । কিন্তু যখন বিদেশি বন্ধুদের সাথে আলাপ পরিচয় করে, তখন এইভাবে ভারতীয় কালচারের উদাহরণ দেয়,
---" ইটস দা টাইম অফ দূর্গাপূজা । উই আর নাও প্রিপেয়ারিং ফর আওয়ারকালারফুল ফেস্টভাল অফ ওয়ারশিপিং গডেস দূর্গা । দেন কামস কালী পূজা । ইউসী, বেংলীস আর ভেরি কালারফুল পিপল । উই বেংলীস সেলিব্রেট ভেরিয়াস পূজাস, দোলপূর্নীমা অর হোলি উইথ কালারস ।...ইন আওয়ার কালচার ম্যারেজ ইস আলসো ভেরি কালারফুল । বেংগলী ম্যারেজেস আর ডান উইথ ফ্লাওয়ারস এন্ড সিন্দুর ; দ্যাটস অলসো আ ডাস্টিরেড কালার । বেংগলী উইমেন্স উইয়ার হোয়াইট শাড়ি উইথ রেড বর্ডার ইন মেনিফেস্টিভ্যাল অর সেলিব্রেশনস , লাইক বিজয়া দশমী হুইচ ইস দ্যা এন্ড অফদূর্গা পূজা ......"

কথা চলতেই থাকে ফোনে, চ্যাটে , নেটে, ডেটে, স্কাইপে তে । সেইবিদেশি ব্যক্তিটি কতখানি 'বাঙালি কালচার' বুঝল , কে জানে । কিন্তু কথার আড়ালে থেকে যায় চাপা একটা অজ্ঞতা , অজ্ঞানতা , কুশিক্ষার বীজ ।

'বাঙালি কালচারেঠাঁই পায় দূর্গাপূজা, হোলি, হিন্দু বিবাহ, সিঁদুর ইত্যাদি । বাদ যায় নবান্ন, বইমেলা, নববর্ষ, বসন্ত উৎসব ,একান্ত বাঙালিদের মেতে ওঠার দিন ২১শে ফেব্রুয়ারীর রঙ্গিন উজ্জ্বলতা ।

যে পরিচয়টা ভাষা ভিত্তিক হওয়া উচিৎ, তা আজ একটি নির্দিষ্ট ধর্মের একচেটিয়া প্রপার্টি বলে বদনাম কুড়াচ্ছে । যে পরিচয় ধর্ম-জাত ,শ্রেনী-বর্ণ,নারী-পুরুষ , উচ্চ-নীচ, পূর্ব-পশ্চিম ইত্যাদি মোটা দাগের গন্ডীকে একলহমায় দূর করতে পারে, তা নিজেই আজ একটি ‘বিশেষ জাতি’র পরিচয় বাহক
এটা 'বাঙালি' শব্দের অপমান, বাঙালি সমাজের লজ্জা, গোটা জাতির গ্লানী ।
এই যে বাঙালি কালচারে 'আমরা' / 'ওরা' ভাগ , এটা কিন্তু সমাজের মজ্জাগত  
থেকে তাবৎ প্রগতিশীল , সুশীল , শিক্ষিত সম্প্রদায়ও মুক্ত হতে পারে নি এটা শুধু যে 'সহি মুসলিম' প্রজাতির সাথে 'সনাতন হিন্দু' প্রজাতির দ্বন্দ্ব তা ভাবলে কিন্তু ভুল হবে
এসব কট্টর তকমাধারিদের বাইরেও যে একসমুদ্র সাধারণ মানুষ আছে যাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাস করে এমন বিদ্বেষ-ঘৃনা-হিংসাত্মক চিন্তাভাবনা
হ্যাঁ, সবটাই কিন্তু অভিজ্ঞতা লব্ধ নয়, বেশিরভাগই শ্রুতিলব্ধ ' জ্ঞান '
শিক্ষিত প্রজন্ম উদারতা, সহিষ্ণুতা ইত্যাদি নিয়ে লেকচার দিতে শিখেছে ঠিকই , কিন্তু তা জীবনে বাস্তবায়নের সময় ভুলে যায়, সম্প্রদায়-জাত-ধর্ম ইত্যাদি নিয়ে মানুষ জন্মায় না একটা নাম একটা পদবী দিয়ে এসব জাতিগত ট্যাগ আমাদের গায়ে জোর করে বসানো হয় তারপর সেই বেমক্কা জন্মে পড়া মানুষ সেই নামের চক্করে, বংশানুক্রমিক পরম্পরার ধারা বজায় রাখতে রাখতে কেমন করে যেন 'হোমো-স্যাপিয়েন্স' নামক আসল প্রজাতিটার স্বীকৃতি অস্বীকার করে  
তখনই গড়ে ওঠে স্ব স্ব সারনেম ধারী 'সারমেয়' গোষ্ঠী এবং সমান তালে চলে ভিন্ন গোষ্ঠীর থেকে নিজেদের জাত অহংকার কতটা বেশি তা তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টা ...ভৌ ভৌ ভৈরবে আদপে মানুষের মধ্যে বিভেদটা কিন্তু Preoccupied mind এর ফসল আমরা নিজ নিজ ওরিজিন আঁকড়ে রাখার চক্করে একটা সত্যি কথা ভুলে যাই ,  চেহারায় 'মানুষের' পালিশটা ধরে রাখতে পারলেই একটা জীবন ঠিকই বেঁচে-বর্তে থাকা যায়  
তাকে খামোকা হিঁদু- মুসল্লির ফেসপ্যাক দিয়ে মোড়াটা অর্থহীন
হাজার নয় লাখ নয় ...একটা তো মাত্র জীবন তাই না !

আমার রাজ্যের সকল উদারমনষ্ক ‘বাঙালি’ দের কাছে জানতে চাইছি,  একবারও কি নিজেদের সন্তানদের ২১শে ফেব্রুয়ারীর গল্প শুনিয়েছেন ?
শুনিয়েছেন, যে একটা জাতি শুধুমাত্র তাদের মাতৃভাষা চর্চার অধিকারের জন্য হাসতে হাসতে বারুদের সামনে বুক চিতিয়েছিল ? তারা তখন দেখেনি কোন ধর্মের লোক তার সাথে হাত মিলিয়েছে তারা শুধু হাতগুলোকে আঁকড়ে ধরে মুষ্টিবদ্ধ করতে জেনেছিল । সেই হাতগুলো , প্রানশক্তিগুলোই তাদের কাছেই বড় ছিল, ধর্মপরিচয়গুলো নয় কিন্তু ।

হে বাঙালি , সত্যি যদি সেই গল্প শুনিয়ে থাক তোমাদের আত্মজদের , তবে নিশ্চিত জেন, তারা আর যাই হোক সগর্বে নিজেদের হিন্দু- মুসলিম বলার আগে 'বাঙালি' বলতে শিখবে । বাঙালি কোন ছেলে-মেয়ের সাথে বন্ধুত্বের পরে তাকে জিজ্ঞেস করবে না "তুমি বাঙালি হিন্দু ,নাকি বাঙালি মুসলিম?"

আর যদি না শুনিয়ে থাক নিজেদের জাতির ভাষাগত সংঘর্ষের কথা, তবে নিজেকে গর্বিত 'বাঙালি' বলে পরিচয় দেবার আগে, বিদেশি বন্ধুকে 'বাঙালি কালচার' বোঝানোর আগে এটাই পরিস্কার জেনে রেখ, তোমাদের মানবজন্ম হয়তো হয়ে গেছে, কিন্তু 'বাঙালি'  হওয়া এখনো ঢের বাকি


Saturday, June 25, 2016

ধর্মের ধ্বজভঙ্গ দশা

ধর্ম ও তার প্রচারক গ্রন্থগুলি মানুষের হাতের এমন ক্রীড়নক যে, প্রয়োজনে মানুষ ভগবানকে কাপড় পরাচ্ছে, প্রয়োজনে উলঙ্গও করছে ।
মানুষের হাতেই ধর্ম তার ধ্বজভঙ্গ দশা লাভ করেছে । এই যেমন, শিবরাত্রিতে হাট করে মন্দির খুলে ভক্তদের ঢালা দুধে শিবলিঙ্গ চকচকে করার বিধি , আবার অম্বুবাচীতে কামাখ্যায় স্থিত সতীযোনী রজঃস্বলা হলে সে মন্দির ৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার বিধি ।
ভাল স্বামী পাওয়ার 'বর' দেওয়া শিবলিঙ্গ প্রদর্শনে বীর্যবান পৌরুষিক আভিজাত্য আছে । কিন্তু কামাখ্যার কেসে 'মা' নাকি তখন অশুচি । 'পিরিয়ড' শেষে ৫ দিনের দিন মা-কে স্নান করিয়ে শুদ্ধ করে তবে ভক্তদের জন্য মন্দির আবার খুলে দেওয়া হয় । এই ক'দিন ব্যাপক মেলা -জমজমাট আয়োজন চলতে থাকে পুরো কামাখ্যা জুড়েই, ঠিক যেমন শিবরাত্রিতেও ভক্তদের মেলা -ধুমধাম আয়োজন চলতেই থাকে ।
এখন ব্যাপার হল ,যারা বিশ্বাস করেন শিবরাত্রিতে উপোস করে শিবের লিঙ্গে দুধ ঢাললে ‪‎ভাল স্বামী‬ পাওয়া যায় , তাদের এটাও বিশ্বাস করা উচিৎ , অম্বুবাচীর সময় উপোস করে কামাখ্যার রজঃস্বলা সতীযোনীতে দুধ ঢাললে ‪‎ভাল স্ত্রী‬ পাওয়া যায় ।
অম্বুবাচীর রজঃস্বলা সতীযোনী পূজা উপলক্ষে মেলা , ভিড় , আয়োজন , প্যাকেজ এত কিছু । অথচ সেই মন্দিরই থাকে বন্ধ ওই বিশেষ ৪ দিন । তা যার জন্য এত আড়ম্বড় , আয়োজন সেই দেবী যোনীই দর্শন বন্ধ রেখে মেলা করার কী অর্থ ?
ধর্মের কারবারিদের মগজস্থিত ডিকহেড স্বত্ত্বা জীবনভর তাদের রক্তে লালিত হয় দৈবিক শক্তিতে, কিন্তু পূন্যলাভের মাপকাঠি এত ভিন্ন হয় কেন ?
নাকি বীর্যবান লিঙ্গের প্রদর্শন রজঃস্বলা যোনী প্রদর্শনের চেয়ে কম অশ্লীল ? সে মানুষই হোক আর দ্যাবতাই হোক !

অনেকেই বলবেন , এসবের পৌরানিক গল্প আছে । 'মিথ' এর আধার আছে । তা, ধর্মের জন্মের জন্য তো মিথ্যের ম্যারিনেশান লাগবেই যা থেকেই সৃষ্ট হবে 'মিথ' নামক মিথ্যের বেসাতি ।
পৌরানিক গল্পে যখন তখন মুনিঋষিরা যেকোনো রাজকন্যেকে চোখের পলকে 'মা' বানিয়েছেন । যে কোনো দেবতা তপস্যার সিদ্ধিলাভ হিসেবে জ্ঞান , বুদ্ধি ভিক্ষা দেন নি । 'সন্তান' দিয়েছেন । তারফলে কত কেচ্ছা যে ঘটেছে ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী । ইসলামেও এসবের ছড়াছড়ি । মুসলিমরা যে নবীর নাম নেওয়া মাত্রই 'peace be upon him' উচ্চারণ করেন , বারবার করে যাঁর জান্নাতপ্রাপ্তির তদবির করা হয় আল্লার কাছে , সেই ব্যক্তি যে কি পরিমান বিচিত্রবীর্য ছিলেন তা খুদায় মালুম ! ১৩ খানা বউকে নিয়ে আপাদমস্তক একছত্র হারেমখানার মালিক হিসেবে জীবন কাটিয়েছে । প্রয়োজনে আল্লাতায়লাকে ব্যবহার করেছে ,যখন যা খুশি তাঁকে দিয়ে লিখিয়েছে এবং সে পথ ধরেই তার শিষ্যরা সেসব লেখার যা খুশি মানে বের করেছে । কোরানে এমন কি সঙ্গম করার সুরা পর্যন্ত ঠাঁই পেয়েছে ।
অর্থাৎ ধর্মব্যবসায়ীদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কেবল কাম আর কাম । নারী দেহ মাত্রেই তাদের প্রতি কেবল বীর্য বর্ষনের নির্দেশ নানা স্টাইলে , নানা শব্দের মারপ্যাঁচে । সে নারী পৌরানিক হোক, রানী হোক , দেবতা হোক , মনীষী হোক আর শিবের বৌ-ই হোক না কেন , যেহেতু সে নারীশ্রেনীর প্রতিনিধি , দেহে তাঁর স্তন , যোনী ইত্যাদি লোভনীয় মাংসপিন্ড আছে সুতরাং সেগুলো নিয়ে ইচ্ছেমত ধর্মীয় বিধান রচিত হয়েছে । পুরুষ, কখনো পণ্ডিতের বেশে ,কখনো পুরুতের বেশে ,কখনো পান্ডাদের বেশে সেসব ঐশ্বরিক প্রাইভেট পার্টস নিয়ে ইচ্ছেমত দলিত মথিত করে নানা রিচুয়াল বানিয়েছে 'বারো মাসে তেরো পার্বনে'র বিচিত্র নাম দিয়ে।
তা সে শিবলিঙ্গ চন্দন চর্চিত করে স্বামী কামনায় হোক বা মক্কায় 'হজর-এ-আওসাদ' নামক যোনী রূপী পাথরে চুমু খেয়ে 'হজে'র পূন্য কামনায় হোক , ধর্মচর্চার সাথে রতিক্রিয়ার যোগ প্রবল ।

তা যা দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন অম্বুবাচীর সিজিন । দেবী ঋতুমতী হয়েছেন । মন্দির খুলবে পরশুদিন । সে খবর পড়ে-টরেই ভাবছিলাম , ব্রহ্মদেব যদি জানতেন দ্যাবতাদের প্রাইভেট পার্টস নিয়েও মর্ত্যে কী বীভৎস ছেনালিপনা চলে ; তাহলে শিবকে নির্ঘাত 'ত্রাহি মাম' নোটিশে তৃতীয় নেত্রে সব ভষ্ম করার নির্দেশ দিতেন !

Tuesday, July 7, 2015

নারী , সন্তান ও একটি রায়

গতকাল ভারতীয় উচ্চ আদালতের ঘোষিত একটি ঐতিহাসিক রায়ে ভারতের গণতন্ত্রের উপর একচেটিয়া পুং মালিকানার মরচে একটু ঘষা খেল ।
একটি ব্যক্তিগত মামলার যুগান্তকারী রায়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারতের গোটা নারী সমাজ ।

কি ঘটেছিল ?
এক অবিবাহিতা মহিলা গেজেটেড অফিসার নিজের সন্তানকে একলা মানুষ করার জন্য আদালতে যান , সন্তানের অভিভাবকত্ব চান । কিন্তু নিম্ন আদালত তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিল এই বলে যে, " অভিভাবকত্বের দাবী সম্বলিত পিটিশন দাখিলের ক্ষেত্রে বাচ্চার বাবার পরামর্শ আবশ্যক । "
ব্যাখা ছিল ' The guardians and wards Act ' এবং ' Hindu minority and guardianship Act' অনুযায়ী, অভিভাবকত্ব স্থানান্তর করতে গেলে বাবা-মা দুইয়ের অনুমতি লাগবে ।
কিন্তু মহিলা যুক্তি দিলেন , তিনি অবিবাহিত । বাচ্চার বাবার সাথে মাত্র দু'মাস কাটিয়েছেন । বাচ্চা যেমন বাবাকে চেনে না , বাবাও তেমনি বাচ্চার কথা জানে না । তাহলে কিসের অনুমতি?

এর পরেই তিনি গেলেন সুপ্রিম কোর্টে এবং গতকাল পেলেন এক ঐতিহাসিক জয় । যার সুফল কেবল তিনিই নন, ভবিষ্যতে পাবেন আরো অনেক নারী , যারা 'সিঙ্গল পেরেন্ট' হিসেবে দায়িত্ব নিতে সক্ষম এক কচিপ্রানের ।

রাজনৈতিক নেতারা পর্যন্ত এবিষয়ে নিজেদের নোংরা নাক গলাতে ছাড়েন নি । কিন্তু তাদের যুক্তিও সুপ্রিম কোর্ট খন্ডন করেছে এই বলে , " বাবার পরিচয়ের দরকার নেই । সন্তান বেড়ে উঠবে মায়ের একক অভিভাবকত্বেই । "
নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের রায়ের তীব্র সমালোচনা করেও উচ্চ আদালত জানিয়েছে, " শিশুর উন্নতির দিকটিই সবচেয়ে বেশী নজর দেওয়া উচিৎ ছিল । কিন্তু  যে বাবা সন্তানের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভুলে যাওয়াকেই বেছে নিয়েছেন , তাকে সন্তানের ভালমন্দের শরিক নাই বা করা হল ।" এর সাথে এও জানিয়েছে,কোনো মহিলাকে সন্তানের পিতৃ পরিচয় প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে না । একজন আর্থিক -মানসিক সক্ষম মা তাঁর একক অভিভাবকত্বেই স্বাধীনভাবে সন্তানের প্রতিপালন করবেন । 

গত বুধবারও , এরমই আরো একটি যুগান্তকারী সাহসী রায় দিয়েছিল উচ্চ আদালত । বিচারপতি মিশ্র ও পন্থের বিভাগীয় বেঞ্চ একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে বলেন , " ধর্ষনের শাস্তি কমিয়ে আনতে ক্ষতিপূরণ বা বিবাহের প্রতিশ্রুতি কোন ভাবেই গ্রাহ্য হতে পারে না । "
আর গতকাল যে রায় বেরোল , তাতে এটারই প্রতিধ্বনী শোনা গেল ," অবিবাহিত মায়েদের ক্ষেত্রে সন্তানের অভিভাবক হতে আর বাধা রইল না । শিশুর বাবার পরিচয় এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয় ।"

সন্তানের কাস্টডী নিয়ে সমাজের নাক উঁচু-র পেছনে আছে দীর্ঘ পুরুষতন্ত্রের জং ধরা নারীবিদ্বেষী নিয়মকানুন এবং নারী স্বাধীনতা ও অধিকারকে দমিয়ে রাখার ইচ্ছে ।

ধর্ষনের বিচারে আজকাল প্রায়ই শোনা যায় 'মেয়ে নষ্ট ' হয়ে গেছে , পেটে বাচ্চা এসেছে । তাই একে বাঁচানোর একমাত্র পথ হল ধর্ষকের সাথেই বিয়ে দেওয়া । এতে মেয়েটির একটা 'বৈধ সামাজিক অভিভাবক' ও বাচ্চাটির একটি 'বৈধ পিতৃ পরিচয় ' জুটবে ।

ধর্ষন করবে পুরুষ , নষ্ট হবে মেয়ে ।
বাচ্চার জন্য বীর্য ঢালবে পুরুষ , নষ্ট হবে মেয়ে ।
বাচ্চা জন্মাবে সেই 'নষ্ট মেয়ে'র পেট থেকে , 'বাবা' হবে পুরুষ ।
আর মা যদি সেই বাচ্চা একা রাখতে চায় , ধর্ষককেই বিয়ে করতে বাধ্য করবে পুরুষতন্ত্র ।

পৃথিবীর যাবতীয় ভোগ-সুখ- অধিকার-নাম -ক্ষমতা - পরিচয়ের একচেটিয়া মালিক পুরুষ । অথচ তার মালিকানা ফলাতে দরকার একটি নারী দেহ-মন-আত্মা । পুং মালিকানায় পুরুষ প্রভুটি যখন খুশি দাসী নারীটিকে যা খুশি নামে ডাকবে , তার পরিচয় দেবে । আর সমাজ সেটাকেই মান্যতা দেবে ।
এই চলে আসছিল ।

এখন ঘটল এক উলোট পুরাণ ।
অথচ এটা ঘটার কথা ছিল অনেক আগে , অন্তত এক দশক আগে তো বটেই । কারণ 'সিঙ্গল পেরেন্টশিপের' দাবী আজকের নয় । কয়েক দশক ধরে মেয়েদের যোগ্যতা ও সাহসিকতার ন্যায্য দাবী এটি ।
একটি মহিলা যখন আর্থিক ভাবে , মানসিকভাবে প্রস্তুত ও সক্ষম , সন্তান ধারণ ও ভরণপোষনের , তখন সমাজ কে তাকে বাধা দেবার ?

আসলে, সমাজ জিনিসটা ধর্মবিশ্বাসের মতই অন্ধ-কালা-বোবা । একেবারেই প্রতিবন্ধী ।
যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে কোন জিনিসকে বিচার করার মত সহনশীলতা বা নমনীয়তা নেই একেবারেই ।
নইলে, যে সমাজে ডাস্টবিনে কুকুর মা পাহারা দেয় মানবশিশুকে , আস্তাকুড়ে ঠাঁই হয় কন্যাভ্রূনের ; সেখানে একজন দায়িত্বশীল সক্ষম মা -কে তার সন্তানের দায়িত্ব নিতে আদালতে চক্কর কাটতে হয় ফী-বছর ?

দেহ যখন নারীর , জরায়ু -গর্ভাশয়ও যখন মায়ের ; তখন সেই মা-ই সিদ্ধান্ত নেবে তার সন্তান পৃথিবীতে আসবে কিনা । যদি আসে তাহলে তার শরীরের পুষ্টিরস দিয়ে যে ভ্রূনকে তিলেতিলে একটা পূর্ণাঙ্গ রূপ তিনি দিয়েছেন সেই প্রাণটির অভিভাবক তথা সর্বময় ঈশ্বর সব হবেন সেই মা । আর কেউ না । কোনো যুক্তিতেই না ।

পুরুষের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় বীর্য ঢেলে । এর পরে কি হল, কি হবে তা নিয়ে মোটেও সে মাথা ঘামায় না । তাহলে, সেই বীর্য থেকে 'মানুষ' হল না 'শুয়োর' হল তা নিয়ে পিতৃত্বের ন্যাকামি থাকার প্রশ্নই ওঠে না ।
সুতরাং নারীরা কোনোভাবেই সন্তানকে বলতে বাধ্য নন, কে তার বাবা ।

প্রশ্ন উঠবেই, বিজ্ঞানসম্মতভাবে যদি গর্ভাশয় ভাড়া দেওয়া একটি সারোগেট মাদার তার পরিচয় গোপন রাখতে পারেন আজীবন , তাহলে বীর্য ভাড়া দেওয়া একটি পুরুষ কেন 'বাবার ' পরিচয় পাবে ?
সারোগেট গরীব মা হয়তো টাকার বিনিময়ে কাজটি করেন , কিন্তু পুরুষ তো টাকার চেয়েও বড় জিনিসের বিনিময়ে লিঙ্গসুখের কাণ্ডটি ঘটায় -- নারীর মাংস-হৃদয় ভক্ষন , মানসম্মানের বলাৎকার দ্বারা।
ডিম্বানুকে নিষীক্ত করতে একটি ফার্টাইল শুক্রানু দরকার যা যে কোন লাইসেন্সপ্রাপ্ত 'স্পার্ম ব্যাঙ্ক' থেকে পাওয়া যায় । তাহলে এক্ষেত্রে সেই ভাড়ার শুক্রানুর মালিককে 'বাবা' বলা যায় কি ?
প্রশ্ন ওঠে ।
প্রশ্ন আরো ওঠে , এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেতে পাশপোর্ট বানাতে হলে যেখানে বাবার নামধাম-ঠিকুজির দরকার পড়ে না , তাহলে স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে বাচ্চার গার্জিয়ান হিসেবে মায়ের নাম কেন মান্যতা পাবে না ?
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় , এই সকল প্রশ্নের মুখে সপাট উত্তর জুগিয়েছে ।

তবু...
তবু...
আশঙ্কা থেকেই যায় , উচ্চ আদালতের রায় আমাদের এই প্রতিবন্ধী সমাজের 'চুঁইয়ে পড়া' নীতি ফলো করে নিম্নস্তরেও পৌছাবে তো ? লোকাল থানা বা স্থানীয় প্রশাসন অবধি লাগু হবে তো সত্যি ? নাকি এখনো ডাস্টবিনে পিঁপড়ে ছিড়ে খাবে কোনো শিশুকে ? অথবা দত্তক আইনের মারপাচে হন্যে হবে অন্য এক যোগ্য মা ? অথবা স্কুল ফিরিয়ে দেবে 'বাবার নাম জেনে তবে আসুন' এই বলে ?
আমরা আশায় বাঁচতে চাই । তাই ভাবতে চাই এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও আখেরে শিক্ষিত স্বনির্ভর মায়েরা নিশ্চয় ভাষা পাবেন তাদের অভিভাবকত্বের প্রশ্নে ।

দেশে এখন 'বেটি বাঁচাও , বেটি পড়াও ' নামে আন্দোলন শুরু হয়েছে সরকারিভাবেই । ভারতের বহু গ্রাম এখন মহিলা শুন্য । রাজস্থান-গুজরাটে কন্যাভ্রূন হত্যার কুফল হিসেবে  সেখানকার সমাজ  ভুগছে সোনার ছেলেদের বিয়ে -সংসার ইত্যাদি প্রশ্নে । কারণ ওই যে, পুং মালিকানা ফলাতে হলেও তো চাই এক নারী শরীর ।
তাদের নিজেদের কানেই একই প্রশ্ন বাজছে , বেটি নেহি বাঁচাওগে ... তো বহু ( বৌ ) ক্যায়সে পাওগে ?

উচ্চ আদালতের এই রায় হয়তো এই আন্দোলনকে এক অন্য দিশা দেবে , আশা রাখি ।
নারী শিক্ষিত হলে , স্বনির্ভর হলে পুরুষের অপদার্থতাকে লাথি মেরে নিজের একক মাতৃত্বের সংসার গোছাতে পারবে ।
গোছাতে গিয়ে বাধা এলে অন্তত শিক্ষিত মেয়েরা সমাজের লালচোখকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে নিজেদের বুদ্ধি যুক্তি দিয়ে সন্তানকে বুকে নিয়ে পথে তো নামতে পারবে , আর সাথি হিসেবে পাবে সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়কে , আইনের রূপ পেতে যার খুব দেরি হয়তো হবে না ।

এভাবেই ' পড়ে গা ইন্ডিয়া ... তব হি তো বড়ে গা ইন্ডিয়া ' -- আপ্ত বাক্য সফল হবে ।
কারণ, মনীষীরা যুগ যুগ ধরে বলে আসছেন, সেই দেশই প্রকৃত স্বাধীন ও শিক্ষিত... যে দেশের নারী জাতি স্বাধীন ও শিক্ষিত ।

দেশ ও সমাজের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের ন্যায়ের মুকুটে আরো অনেক উজ্জ্বল পালক যুক্ত হোক , এই আশা নিশ্চয় খুব বেশি কিছু চাওয়া নয় ।


Tuesday, May 19, 2015

একটি বিকট বিতর্ক ও কিছু বেয়াড়া বাওয়াল প্রশ্ন :

সলমান খানের শাস্তি , তাঁর ‘বিয়িং হিউম্যান ‘ কাজকর্ম , গায়ক অভিজিতের বিতর্কিত বাইট নিয়ে মিডিয়ায় হেব্বি বাওয়াল হল ।

‘গ্লোরি অফ ডেথ’ অথবা ‘গ্লোরি অফ ফেলিওর’ এই হল মোদ্দা কথা ।
১২৫ কোটির মহান দেশে জন্মহারের চেয়ে মৃত্যুহার অনেক পুওর (মানে কম । ভুলেও ‘গরিব’ টরিব ভাব্বেন না )।
তবু মৃত্যু এদেশে বিরাট 'বিষয়' ।

বাঁচন্তির ‘পক্ষে’র লোকেরা যে মূহুর্তে চেঁচাবে, 'মদ্যপ ড্রাইভারের ফাঁসি চাই । গরিবের অধিকার বাঁচাও কমিটি গড় । রাস্তা কি বড়লোকের বাপের ?'

অমনি, বাঁচন্তির ‘বিপক্ষে’র লোকেরা সওয়াল করবে ‘ ন্যালাগুলো বেকায়দায় ঘুমাবে , গাড়ি এলে সরে যেতে পারবে না , ফিটনেস নেই , কিন্তু দুচার পিস টেঁসে গেলে শালা পাতাখোড়ও ট্যাগ খাবে সুপ্রিম শহিদ !’

কথা হল , গাড়ি মদ খেয়ে চালানো বেআইনী ঠিকই , ফুটপাতে গাড়ি তুলে দেওয়া আরো বে আইনি । গাড়ির উপর নিয়ন্ত্রন না থাকা ও ফুটপাতবাসিকে খুন করা ( হোক না তা অনিচ্ছাকৃত) সওয়ারির অবশ্যই ফাঁসি হওয়া উচিৎ । 
সব বুঝলাম ।

কিন্তু বলুন তো, ফুটপাত জুড়ে শুয়ে থাকা কোন ধারায় আইন সম্মত ?

গাড়ির তলায় এসে পড়া লোকজন সব সময় গাড়ির মালিককে টার্গেট করে । রোড অ্যাক্সিডেন্টে যে ক’টা  পিস আদমি শাস্তি পায়, সব ড্রাইভার । একটাও পথচারী নয় । ট্রাফিকের সতর্কতা, মোবাইলে সতর্কতা কিছুই পথচারীরা বা পথবাসীরা শুনবেন না ।

কেন ?
কারন ,                                                         
‘যব তক সুরজ চাঁদ রহেগা / রাস্তে পে আপনা ঘর রহেগা !’

আমরা, আম জনতা যেমন খুশি রাস্তাকে ব্যবহার করব , হাঁটব ,দৌড়াবো, মদ্যপ অবস্থায় মাপব, খাব, হাগব , মুতব, শোব , গড়াগড়ি খাব কিন্তু কোনো গাড়িওয়ালা যদি নিশানায় বেখেয়ালে এসে যায় তাইলে শালার হিউম্যান রাইটকে এমন যমের দুয়ারে পাঠাবো যে জীবনে লোকে তাকে 'হিউম্যান' ডাকবে না , হনুমান ডাকবে !

National Crime Record Bureau  অনুযায়ী ২০১৩ সালে গড়ে প্রতিদিন ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে পথ দূর্ঘটনায় । রোজ আহত হচ্ছেন ১২৮৭ জন । এত এত দূর্ঘটনা , এত এত মৃত্যু সব কী স্রেফ ড্রাইভারের দোষ ? বুক ঠুকে বলুক তো ফুটপাতের আম-নাগরিক !

একথা ঠিক যে, বেশীর ভাগই ড্রাইভারের দোষ । কিন্তু সড়ক দূর্ঘটনা মানেই যে ড্রাইভার ভিলেন এটা কি খুব সত্য ?

সরকারি খতিয়ান বলছে , ২০১১ সালে ভারতে যত পথ দূর্ঘটনা হয়েছিল তার মধ্যে ২২.৫% ক্ষেত্রে ড্রাইভারের দোষ ছিল না । দোষ ছিল পথচারীর বেপরোয়া মন , যান্ত্রিক গোলোযোগ , খারাপ রাস্তা , খারাপ আবহাওয়া ইত্যাদি অনেক কিছু ।

আর এটা তো সত্য , পথ দূর্ঘটনা পথেই ঘটবে । বেডরুমে নিশ্চয় নয় । কাজেই পথের মধ্যে বা ধারে রয়েছেন যিনি সচেতন থাকাটা তারও আশু কর্তব্য নয় কি ? নাকি ঘুমে অচেতন থাকা বা ফুটপাতকেই হকের বিছানা ধরে গড়াগড়ি খাওয়াটা খুব ন্যায় সঙ্গত ?

রাস্তা বা ফুটপাথ যেমন বড়লোকের বাপের সম্পত্তি নয় , তেমনি গরিবের গত জন্মদিনেও কোনো চ্যারিটি হোম তাদের সেটা গিফট করেনি ।

কলকাতার বহু ফুটপাতে হাঁটার অবস্থা নেই ।
মধ্যবিত্তের ট্যাক্স দিয়ে বানানো শহরের চলাচলের জায়গা আজ বেআইনিভাবে বেহাত হয়েছে । অন্য এক কলকাতা ঘুমায় সেখানে প্রতিদিন প্রতিরাত । কেন ? এই ফুটপাতে হাঁটার অধিকার আমাদের নেই ? মনে রাখবেন , ফুটপাত দিয়ে না হাঁটাও কিন্তু দূর্ঘটনার কারন । ফুটপাতে ঘর-বাঁধা, পথকে আরও দূর্ঘটনাপ্রবন বানিয়েছে ।
পথে হাঁটা মানুষের ঝুঁকি বাড়ছে , পথের পাশে বসবাসকারীদের জীবন বিপন্ন করছে । এই দখলদারি কি বেআইনি নয় ?

রাস্তা ছাপিয়ে ফুটপাত দখলকারি ঝোপাড়-মহল্লাকে যদি সমর্থন দিতে হয়, তাহলে ফুটপাতে উদ্ধত দাঁড়িয়ে থাকা বেআইনি হকারদের অবস্থানকেও খুলে আম সমর্থন দিতে হবে । এই হকাররাও ত পেটের টানেই ফুটপাতে বসেন । তবে কলকাতার হাতিবাগান , গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, বড় বাজার অথবা অন্য নানা ছোট শহরগুলোর বেদখল হয়ে যাওয়া ফুটপাত নিয়ে হা-হুতাশ কেন শহুরে মধ্যবিত্তের ?

এবার অনেক বুদ্ধিজীবি হাঁ হাঁ চেঁচাবেন , ফুটপাত কি কেউ শখ করে বেছে নেয় ? গরিবের সাধ আছে সাধ্য নেই । তাইবলে বাঁচার অধিকার নেই ? অ্যাঁ !

না , কথা একদম তা না । খুব সত্য কথা কয়েছেন তেনারা ।

এবার একটু ভাবুন তো,  দূর্ঘটনায় পা-হারানো আব্দুল্লা রউফ শেখ তো কাজ করতেন আমেরিকান এক্সপ্রেস বেকারিতে । তাহলে বেকারির কর্মচারিকে কেন বেকারির সামনের ফুটপাতেই রাত গুজরান করতে হয় ? সে দায় তো তারাও এড়াতে পারেন না । রাতে খোলা আকাশের নীচে শুয়ে যাদের প্রান গেল গাড়ির চাকার তলায় তাদের সুরক্ষার দায় অবশ্যই রাষ্ট্রের ছিল । ছিল না কি ?

রোটি কাপড়া আউর মাকান --- এই তিন কিন্তু আমাদের মৌলিক অধিকার , সংবিধান সম্মত ভাবে ।

যে দেশ তার নাগরিকের মাথার উপর ছাদ দিতে পারে না , তার আইনই যদি সেই নাগরিকের মৃত্যুর বিচার চালায় তাকেই বা কতদূর নিরপেক্ষ বলা যায়? প্রশ্ন থেকেই যায় ।

প্রশ্ন আরো জমে , যদি সালমান দোষি হন , শাস্তি পান , তাহলে মুম্বাই কর্পোরেশন কি একই দায়ে দুষ্ট নয় ?
দায় কি এড়াতে পারে শহরের পৌরপিতা থেকে ৬৮ বছরের স্বাধীন ভারত , স্বয়ং ?

আবার এটাও ঠিক , এর আগে বহুবার নানা চাপে পড়ে ফুটপাত বাঁচানো ও দূর্ঘটনা এড়াতে সরকার নানা শহরে বস্তিবাসীদের জন্য নয়া আবাস গড়ে দিয়েছিল , হকারদের জন্য আলাদা হকারস মার্কেটও গড়েছিল ।
কিন্তু কেউ ওই আবাসে থাকেন নি বা ওই ছিমছাম দোকানে পসরা সাজান নি । ভাড়া দিয়েছেন মোটা টাকা আদায়ের জন্য আর নিজেরা ফিরে গেছেন শখের ফুটপাতে । এগুলো দোষের না ? বেআইনি না ?

‘নবান্ন’ নাটকে বিজন ভট্টাচার্য্য বুভুক্ষু মানুষ আর কুকুর এর সহাবস্থান দেখিয়েছিলেন  একই ডাস্টবিনের সামনে । ক্ষুধার যন্ত্রনা হয়তো চেহারা পাল্টেছে কিন্তু মানুষ আর কুকুরের ফারাকটা সেদিনও যা ছিল আজও তাই । কিন্তু এই সত্য আমরা মেনে নিতে পারি নি ।

‘পথের পাঁচালী’ হোক , ‘স্লাম ডগ মিলিয়নিয়ার’ হোক , ভারত কিন্তু বিশ্বের বাজারে ‘গরিবি’ বেচেই অস্কার জেতে ।
তাই গায়ক অভিজিতের ওই ‘কুত্তা কা মউত’ নামক বিতর্কিত ওয়ান লাইনার নিয়ে যতই বাওয়াল হোক না কেন, আমরা কিন্তু ঘুমিয়ে রয়েছি মহান ভারতের ফুটপাতেই ।
সে তুমি যতই ভিভিআইপি হও না কেন !

মোদ্দা কথা হল , ফুটপাথ সঙ্গমে  ভারত আজও বিশ্বে একমবাদ্বিতীয়ম !  


Thursday, May 14, 2015

ইসলামিক সন্ত্রাসে শুধু মানুষ নয় , বিপন্ন সভ্যতার ইতিহাসও .

ধর্মের ক্লেদ আর মিথ্যে বেহেস্তিয় সুখের জিগির তুলে একের পর এক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে যে জাতি তারা মুসলমান বা আরো স্পষ্ট করলে ইসলামীয় সন্ত্রাসী । মানুষ মারা, মুন্ড নিয়ে ফুটবল খেলা জাত আজ এই গলা কাটা বিনোদনে ক্লান্ত হয়তো । তাই এবার তারা ইতিহাসকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর ।

জওহরলাল নেহেরু তাঁর Discovery of India বইয়ে লিখেছিলেন , "ভারতে ও তার বাইরে এমন স্থান খুব কমই আছে যেখানে এর পুরাতন স্মৃতিসৌধ , ভারতীয় সংস্কৃতি বিশেষত বৌদ্ধ যুগের এত চিহ্ন দেখা যায় - যেমন মেলে আফগানিস্থানে ।" 
সৈয়দ মুজতবা আলী লিখেছিলেন " যেদিন বৃহত্তর দৃষ্টি দিয়ে দেখতে শিখব সেদিন জানব যে ভারতবর্ষ ও আফগানিস্থানকে পৃথক করে দেখা পরবর্তি যুগের কুসংস্কার ।"

যে ভারতে মিশে আছে কনিষ্ক-এর বুদ্ধ স্তুপ , আমির খসরু- রুমি , বাবর, গান্ধারী এরা সবাই বিনাকাঁটা তারেই এসেছিলেন সে দেশে ।
যে কনিষ্ক ভারত শাসন করেছিলেন সেই একই জন আফগানিস্তানেও করেছিলেন । বাবর যেমন ওই দেশের তেমনি ভারতেরও । ইতিহাসের যৎসামান্য সন্মানপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে একজন গান্ধারীও নাকি এসেছিলেন হিন্দুকুশ পর্বত পেরিয়েই ।
প্রথম শতাব্দীতে বৃহৎ ভারতের বহু ধর্মপ্রচারক চীন- তীব্বত- মধ্য এশিয়া হয়ে আগফানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালায় যে পথে বেনিয়ারা পশরা সাজিয়ে চীন থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত বানিজ্য করতে যেতেন, সেই ঐতিহাসিক পথের ধারে বৌদ্ধ সাধুরা পাথর কেটে তৈরী করেছিলেন অসংখ্য গুম্ফা , পরে যেগুলি হয়ে উঠেছিল,  ধর্ম- দর্শন-শিল্পকলার চর্চাকেন্দ্র ।
বৌদ্ধ মঠ- গুম্ফা - শিলালীপি - মুদ্রা তথা অসংখ্য পুরাকীর্তির আকরভূমি হল এই আফগানিস্তান । কুষান আমলে বামিয়ানে তৈরী 'বামিয়ান বৌদ্ধমূর্তি' ছিল পৃথিবীর দীর্ঘতম বৌদ্ধ মূর্তি । যা অন্যতম World Heritage site হিসেবে ঘোষনা করেছিল UNESCO .
এছাড়াও আছে ...
টাইগ্রিস নদীর তীরে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন ছিল আসিরীয় সভ্যতা । মানুষের সভ্যতার উষাকাল থেকে উজ্জ্বল হয়ে ছিল আসিরিয় সভ্যতা । আসিরিয়ার রাজধানী নিমরুদের ধ্বংস স্তুপ থেকে বহু চেষ্টায় পুরাতাত্ত্বিকরা উদ্ধার করেছিলেন সেই সময় কালের মূর্তি- ভাস্কর্য- লিপি । যা মানুষের সুপ্রাচীন ইতিহাসের নিরব দলিল ।

সেইসব সভ্যতার আকরভূমি , মানুষের সুপ্রাচীন ইতিহাসের দলিলগুলির ধারক দেশগুলি আজ জ্বলছে । ধর্মের অন্ধকূপের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে একটু একটু করে ছাই হয়ে মিশে যাচ্ছে আইসিস - তালিবান অধ্যুসিত আজকের ধুসর আকাশে ।
যে আফগানিস্থানকে ছোটবেলায় চিনেছিলাম রবী ঠাকুরের 'কাবুলিওয়ালা'-র হাত ধরে ,সেই মরুভূমির আখরোট -বাদাম-পেস্তার গন্ধ মাখা দেশ আজ বারুদের গন্ধ আর মানুষের রক্তের গন্ধে দূষিত । টাইগ্রিস -ব্যবিলন-মসুল- আসিরীয়া -নিমরুদ এসব স্থানে এখন রাত্রীচারী জংগিদের অবাধ স্বাধীনতা ।

গজনীর সুলতান মামুদ যিনি সতেরোবার ভারত আক্রমণ করে সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করে 'আইকনক্লাস্ট ' উপাধি পেয়ে কুখ্যাত হয়েছিলেন মানব সভ্যতার ইতিহাসে, তিনিও বামিয়ান বুদ্ধ মূর্তির গায়ে আঁচড় কাটার চেষ্টা করেন নি । কিন্তু তলিবানরা, পৃথিবীর অহংকার সেই সুউচ্চ মূর্তিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রমান করেছিল জেহাদের সঙ্গে সভ্যতা- সংস্কৃতির কোনো সম্পর্ক নেই । একবিংশ  শতকে তাদের যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে উঠে এসেছে আইসিস  (ইসলামিক স্টেট ) ।

টাইগ্রিসের তীরে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার নিদর্শনগুলি ধ্বংস করেছে । মাত্র কয়েক ঘণ্টার হাতুড়ি-শাবল -ছেনির আঘাতে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে নিমরুদের অমূল্য সব স্থাপত্য, মূর্তি , লিপি । পৃথিবী থেকে মুছে ফেলেছে খ্রীষ্টের জন্মের তেরোশো বছর আগের আসিরীয় নিদর্শন । হাতুরির ঘায়ে ধুলিস্যাৎ হয়েছে মসুলের জাদুঘর ।
ফেসবুক পেজে ইরাকের পর্যটন ও স্থাপত্য - প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রকের আর্তনাদ ছাড়া আর কি বা অবশিষ্ট আছে ?

নিনেভের জাদুঘর ধ্বংসের ভিডিও আইএস ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে - প্রচার শাখা আল-হায়াত
আমরা দেখেছি হাজার হাজার বছরের ইতিহাস মূহুর্তে মাটিতে মিশছে হাতুড়ির আঘাতে । জঙ্গিদের বার্তা " পৈত্তলিকতা মুছতে এই হামলা !"
রাষ্ট্র সঙ্ঘ তীব্র নিন্দা করে বার্তা দিয়েছে , কড়া সমালোচনা করেছে আরো কিছু হিউম্যানিস্ট অরগ্যানাইজেশন । কিন্তু এতে থামে নি ওদের ধ্বংস যজ্ঞ ।

কত সব মূর্তি , ভাস্কর্য, যেগুলি তৈরী করতে মানুষের চেষ্টার ইতিহাস ছিল কয়েক শতাব্দী জুড়ে , সেগুলি মাটিয়ে মিশিয়ে ফেলতে সময় লাগল কয়েক ঘণ্টা মাত্র !
নিমরুদ থেকে প্রাপ্ত 'দু-ডানাওয়ালা সিংহ মূর্তি' গড়া হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব নবম শতকে । গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেটাও । মিশরিয় সভ্যতার ওই এক অবস্থা , মরু প্রদেশের চিল শকুনেরাও নাকি গুটিয়ে রাখছে নখর-থাবা । ওদের চেয়েও ভয়ংকর এক জীব তার দাঁত নখ সব নিয়ে শ্মশানে পরিনত করছে সেইসব সোনালি শহরদের । 

টাইগ্রিস বা নীল নদ থেকে থেকে গঙ্গা-যমুনা কত দূর !

এভাবে একদিন ভারতের গৌরবময় নিদর্শনগুলোও এক এক করে মুছে যাবে ধর্মের ধ্বজাধারীদের হাতে । আমরা দেখছি আইএস তার ভারতীয় শাখা খুলছে এদেশে , তালিবান তো সেই কবে থেকে চোরাগোপ্তা পথে এদেশে ঢুকতে শুরু করেছে , এখনো চলেছে ঘাঁটি পাতা । সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে ২০৫০ সালের মধ্যে ভারত হবে বৃহত্তম ইসলামিক রাষ্ট্র । তাহলে কোথায় আমাদের নিরাপত্তা ?
কোন জোরে আমরা বলতে পারি আমাদের সাধের তাজমহল, কুতুব মিনার, আগ্রা ফোর্ট , লাল কেল্লা , বুলন্দ দরওয়াজা, ফতেপুরসিক্রি , ঝরোখা -ই- দর্শন, বিবি-কা- মাকবারা , হাওয়া মহল, সোনার কেল্লা , গোলাপী শহর জয়পুর, রাজস্থানের বহু অমূল্য সব কারুকাজ বিশিষ্ট মহলগুলো সুরক্ষিত ?
কিংবা ,
কলকাতার ভিক্টোরিয়া, হাওড়া ব্রীজ, জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ি, জোড়া গীর্জা, মাদার হাউজ ,  দক্ষিন ভারতের টুইন্স সিটি হায়দ্রাবাদ-সেকেন্দ্রাবাদ -এর নানা অতুলনীয় দ্রষ্টব্য স্থান, তিরুপতি মন্দির বা কন্যাকুমারিকা থেকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ভারত মহাসাগরের বুকে দাঁড়ানো বিশাল বিবেক মূর্তি ও মিউজিয়াম খচিত বিবেকানন্দ পয়েণ্ট , বা সুউচ্চ রামানুজ মূর্তি -- এই সব যদি এভাবে হাতুড়ি ছেনির আঘাতে মুছে যায় ভারত সভ্যতা থেকে তাহলে কী নিয়ে মানব সভ্যতা গর্ব বোধ করবে ?

দুনিয়াজুড়ে মৌলবাদের উত্থান আর বিশেষভাবে বললে ইসলামিক মৌলবাদের উত্থান , রাজনৈতিক সমীকরন , আগ্রাসন , যুদ্ধ , ধর্মের অন্ধত্ব , কুসংস্কার , মস্তিস্কের জড়তা এই সব মিলিয়ে তৈরী হয়েছে এমন এক ফাঁস যা চেপে ধরছে সভ্যতার ইতিহাসের কন্ঠ । তৈরী করছে এই অসভ্য ইতিহাসের দলিল , যার শরিক আমরাও

ইতিহাস আমাদের মনে রাখবে এমন এক সময়ের বাসিন্দা হিসেবে , যে সময়ে আমাদের সবার জীবনে অস্থিরতা নিয়ে এসেছিল 'ধর্ম' নামক অলীক এক আদর্শ, 'ঈশ্বর -আল্লা' নামক অদৃশ্য কিছু উপাস্য -বিশ্বাস ও 'জেহাদ' নামক অদম্য এক রক্তের পিপাসা ।
চোখের সামনে আমরা দেখছি মানুষের হাতেই মানুষের তৈরি সভ্যতার ইমারতের ধ্বংস যজ্ঞ । গলার কাছে আটকে থাকা কষ্ট আর নিরবে কান্না ছাড়া, আর কিছুরই প্রকাশ হচ্ছে না